ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সেতুর ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে টোল দেবে না কানাডা


সেতুর ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে টোল দেবে না কানাডা

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অন্টারিওর উইন্ডসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটের মধ্যে নতুন গর্ডি হাও সেতু থেকে যে টোল সংগ্রহ হবে, তা কানাডা শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, কানাডার যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার পরই টোল আয়ের ভাগাভাগি করা শুরু হবে।

এই সেতুর নির্মাণে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং এর উদ্বোধন ঘিরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের অর্থনীতিতেও এই সেতু অনস্বীকার্য প্রভাব ফেলছে। একই সময়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি কিছু মার্কিন রাজনীতিবিদ কানাডার দাবানল মোকাবিলার পদ্ধতি সমালোচনা করেছেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ২৭ জুলাই উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত গর্ডি হাও সেতু চালুর বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য "অনেক ভালো একটি চুক্তি" নিশ্চিত করেছেন। এরপর কিছু মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এই সেতু থেকে কোনো আয় পেত না, সেখানে এখন উল্লেখযোগ্য অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কানাডার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী কার্নির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন, তারা অভিযোগ করেছেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেছেন, মিশিগানের সঙ্গে করা মূল চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১২ সালের চুক্তি অনুযায়ী কানাডা সেতুর নির্মাণ খরচ সম্পূর্ণভাবে বহন করেছে। তাই, ঋণ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত টোল থেকে আসা পুরো আয় পাওয়ার অধিকার কানাডার আছে। তিনি বলেন, "সব ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত টোলের আয় ভাগাভাগি হবে না।" কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম ১৫ বছর টোল আয় ভাগাভাগির আগে পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তুষার পরিষ্কারের খরচ কাটার পর নিট আয় ভাগ করা হবে।

কার্নি জানান, "এসব খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রথম কয়েক বছরে নিট আয় খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।" তার মতে, যখন টোলের আয় ভাগাভাগি শুরু হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশের অর্থ আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করা হবে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে কিছু সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে একটি সমঝোতা হয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায়, টোল থেকে প্রাপ্ত লাভের ৫০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমান টোলের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব এলে যুক্তরাষ্ট্র তা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।

এদিকে, কানাডার উত্তর অন্টারিওতে চলমান দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশিগানের রিপাবলিকান নেতারা প্রধানমন্ত্রী কার্নির সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, বন ব্যবস্থাপনা, আগুন ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো, এবং পরিকল্পিত আগুন নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপে দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। তাদের অভিযোগ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার বিরুদ্ধেও যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দাবানল নিয়ে সমালোচনার জবাবে কার্নি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। তিনি পর্যবেক্ষণ করলেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় কারণ। তিনি নির্ধারণ করেছেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দরকার। এই দায়িত্ব সবার। সত্যিই সবার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে।"

আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক অধ্যাপক ফেন হ্যাম্পসন মনে করেন, গর্ডি হাও সেতুর চুক্তি কানাডার জন্য একটি সাফল্য। তিনি মন্তব্য করেন, যখন টোল আয় ভাগাভাগির সময় আসবে, তখন ভাগ করার মতো খুব বেশি অর্থ নাও থাকতে পারে। কারণ এর আগেই কানাডা তার বিনিয়োগের অর্থ তুলে নিতে পারবে। হ্যাম্পসনের মতে, ট্রাম্প যদি মনে করেন যে তিনি কানাডাকে ছাড় দিতে বাধ্য করেছেন, সেটিও কানাডার পক্ষ থেকে সুবিধাজনক হতে পারে। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে মনে করানো উচিত যে তিনি জিতেছেন। নাহলে তিনি প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিতে পারেন। তবে কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ দলের সংসদ সদস্য শুভালয় মজুমদার এই চুক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। গত সপ্তাহে সরকারকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি চুক্তিটিকে "ভয়াবহ চুক্তি" বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন যে, কানাডার জনগণের পুরো চুক্তি দেখার অধিকার রয়েছে এবং সেতু নির্মাণের খরচ, আর্থিক হিসাব, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কী কী সুবিধা দেওয়া হয়েছে—সেসব বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিনেত্রী ঊর্মিলার ১৫ বছরের সংসার ভেঙে গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


অভিনেত্রী ঊর্মিলার ১৫ বছরের সংসার ভেঙে গেল

দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানলেন মারাঠি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকর। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন। আদীনাথ ও ঊর্মিলা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অনেক ভাবনাচিন্তার পর তারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনকভাবে নিজেদের পথ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, তাদের দাম্পত্যের ইতি ঘটলেও মেয়ে জিজাহই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে। তারা আরও লিখেছেন, 'আমাদের দাম্পত্যের পথচলা শেষ হলেও মেয়ে জিজাহর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অটুট। আমরা দুজনই যৌথভাবে তার লালন-পালন করব, যাতে সে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সমর্থনের পরিবেশে বড় হতে পারে।' বিবৃতিতে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো স্মৃতি ও সম্পর্কের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা সংবাদমাধ্যম এবং ভক্তদের কাছ থেকে এতদিন যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। বিবৃতির শেষে তারা বলেন, 'আমাদের বন্ধু, সংবাদমাধ্যম এবং সবার কাছে অনুরোধ, এই সময়ে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। এ বিষয়টি নিয়ে এটিই আমাদের একমাত্র বক্তব্য। এরপর আর কোনো মন্তব্য করব না। আপনাদের উষ্ণতা ও বোঝাপড়ার জন্য ধন্যবাদ।' গত কয়েক মাস ধরেই আদীনাথ ও ঊর্মিলার দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে তাদের আলাদা থাকার খবর প্রকাশিত হলেও, তখন এ বিষয়ে কেউই মুখ খোলেননি। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ঊর্মিলা জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া 'বিষাক্ত' আলোচনায় তিনি গুরুত্ব দেন না। তিনি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনলাইনে প্রচারিত সব তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। ২০০৬ সালে 'শুভ মঙ্গল সাবধান' সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রথম পরিচয় হয় আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকরের। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আদীনাথের বাবা মহেশ কোথারে। ওই সিনেমার মাধ্যমেই অভিনয়ে অভিষেক হয় ঊর্মিলার। দীর্ঘ প্রেমের পর ২০১১ সালে বিয়ে করেন তারা। ২০১৮ সালে তাদের কন্যাসন্তান জিজাহর জন্ম হয়। অভিনয়জীবনে ঊর্মিলা 'দুনিয়াদারি', 'মালা আই ভ্হায়চি!' ও 'তি সধ্যা কায় কারতে'সহ একাধিক জনপ্রিয় মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি হিন্দি ও তেলেগু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে, আদীনাথ কোথারে অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক—তিন ভূমিকাতেই মারাঠি চলচ্চিত্রে স্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে আদীনাথের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রকল্প। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত 'রামায়ণ' সিনেমায় তিনি ভারত চরিত্রে অভিনয় করছেন। এ ছাড়া হানসাল মেহতার 'গান্ধী টকস' সিনেমাতেও দেখা যাবে তাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, সড়ক ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী শাহীন দেলোয়ারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় নিহত আরও ৮, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় নিহত আরও ৮, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৩৮

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমান হামলার ফলে ইরানে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মোট প্রাণহানি ৩৮ জনে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ হয়ে আছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা পরিচালনা করে। এই হামলায় নিহত ৮ জনের পাশাপাশি আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, এএফপির খবর অনুযায়ী, গত ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা শুরুর পর থেকে ইরান জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩৮ জন নিহত ও ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহেই এই যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেছে।

পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। এই সাথে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট 'বাব এল-মান্দেব' প্রণালিও বন্ধ হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি আমাদের বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হয়, তাহলে আমরা এবং আমাদের মিত্ররাও সমানভাবে পাল্টা জবাব দেব।

ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে গভীর মিত্রতা রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালি বন্ধের ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত হুতিরাই নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালির পরে বাব এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা বিশ্বের অর্থনীতিতে একটি ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

 শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুনভাবে হামলা করেছে।

তেহরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর পালটে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত নতুনভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে উসকানি দিয়েছে। টানা ছয়দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে চায় বলেও জানা গেছে। তেহরানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা।

শুক্রবার ভোরে ইরান একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দুটি সেতুতে হামলার খবর দেয়। এসব হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে সাতজন।

বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামোই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার চলাকালে শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধে এক মাস আগে প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা সত্ত্বেও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, এখন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার দাবি করছে ইরান। এ বিষয়ে হামলা-পাল্টা হামলা চলমান রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি কার্যকর হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন তেহরান। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছেন।

নিজেদের অবকাঠামোয় কথিত মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

কাতার ও কুয়েত শুক্রবার জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিচ্ছে।

এএফপির সাংবাদিকরা কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

বাহরাইনে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শহুরে অবকাঠামো ও নিরীহ মানুষের ওপর শত্রুর হামলার প্রতিকার হিসেবে একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

বাহরাইন সরকার নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, সতর্কসংকেত হিসেবে সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

এর একদিন আগে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ শহরের কাছে শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের নিকটে কথিত মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।

-'কখনও পিছু হটব না'-

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর হাসপাতালটি খালি করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন।

আহভাজের ৩৪ বছর বয়সী শিক্ষক হানি বলেছেন, হামলাগুলো ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’।

তিনি বলেন, ‘আমার হাত কাঁপছে। অন্তত ১১ থেকে ১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে। আমার কানে যেন বিস্ফোরণ ঘটছে।’

ইরানের সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে আমরা কখনও পিছু হটব না।’

-অবকাঠামোতে হামলার হুমকি-

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বলেছেন, গত মাসে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইসলামাবাদ সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করবে।

তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তির ধারাগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়িত হলেই কেবল সেই চুক্তির মূল্য থাকে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ট্রাম্প ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনবেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের জন্যও সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে যে, এখনো একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে কোনো মূল্য না দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্ট দেবেন না।’

এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই খুব খারাপ হবে।’

বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে ‘পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%