ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি


মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী ‘ডব্লিউআইটিসি মার্টে’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি তুলে ধরেছেন। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তারা মুসলিমবান্ধব পর্যটন, হালাল শিল্প, পর্যটন ব্যবসা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা ও পর্যটন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন।

রাজ্যের সুলতান আহমদ শাহ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (এসএএসআইসিসি) শুরু হওয়া এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে পর্যটনশিল্পের ১৪টি খাতের ১২৩টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন পণ্য, ভ্রমণ প্যাকেজ এবং বিশেষ বাণিজ্যিক অফার তুলে ধরা হয়েছে।

এতে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে পর্যটন প্যাকেজ, ওমরাহ, হালাল খাবার, স্পা, হোটেল এবং ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এবং হাইকমিশনের বাণিজ্য উইংয়ের প্রধান প্রণব কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই আয়োজনে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হরি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার

এবারের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় (আইআইইউএম) অধ্যয়নরত একদল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা সম্মেলনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগবিষয়ক অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। এসব অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।

শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ কেবল সম্মেলনে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আন্তর্জাতিক পর্যটনশিল্পের কার্যক্রম কাছ থেকে জানা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুধাবন এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি তরুণদের মেধা, আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাং রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান লিওং ইউ মান বলেন, "বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনী। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পর্যটন নিয়ে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়কে বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগে রূপান্তর করা।"

তিনি আরও বলেন, "১৪টি শিল্পগুচ্ছের ১২৩টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন প্যাকেজ এবং সেবা তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও একই জায়গায় বিভিন্ন পর্যটন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।"

আরও পড়ুন: মদিনায় ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোসি ওয়ান ইসমাইলের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে পঞ্চম বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

লিওং ইউ মান আরও জানান, দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিশেষ অফার রাখা হয়েছে। কয়েকটি হোটেল ইতোমধ্যে আগামী রমজানের বুফে আয়োজনের প্যাকেজ এবং আগাম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে।

তিনি জানান, পাহাংয়ের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা নিয়ে এতে অংশ নিয়েছে। ফলে কুয়ানতানসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা একই জায়গায় বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে এবং বিশেষ ছাড়ে সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে চলতি বছর পাহাং রাজ্যে পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটক আগমনের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষণ শেষে পর্যটক আগমনের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: আরাগচির সঙ্গে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলোচনা

রাজ্যের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে লিওং ইউ মান বলেন, "ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে পাহাংয়ের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।" তিনি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও এ খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও গুরুত্ব বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি পাহাংয়ের বাসিন্দাসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ডব্লিউআইটিসি মার্ট পরিদর্শনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মুসলিমবান্ধব পর্যটন প্যাকেজ, হালাল খাবার, হোটেল সুবিধা এবং ভ্রমণসেবার বিশেষ অফার গ্রহণের সুযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়ায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোত বাঁধের বিভিন্ন অংশকে ভেঙে ফেলেছে। এর ফলে বসতঘর, কবরস্থান, মসজিদ, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, ভাঙনকবলিত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, যা তাদের জন্য মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, যা এলাকার মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধ জরুরি মেরামতের জন্য ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের অর্থ দিয়ে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। हाल ही में কাজ শুরু হলেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাজ চলাকালে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ সাঙ্গু নদীগর্ভে ধসে পড়ে, ফলে আপাতত জিও টিউব স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল এবং মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। নদীর স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ফসলি জমি এবং চলাচলের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, নদীভাঙনের কারণে নির্ধারিত স্থানের বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

ময়মনসিংহের ত্রিশাল সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নির্মাণের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি, যা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও জনবল নিয়োগের কোনো সমাধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকারের দান করা সাড়ে ৩২ শতাংশ জমির ওপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এই কেন্দ্রটি গ্রামের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে জনবল নিয়োগের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় নয়ামিয়া জানান, "আমার গর্ভবতী স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে সন্তান প্রসব হয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "শুধু আমার স্ত্রীর বেলায় এমনটি নয়, এমন অনেক ঘটনাই এই এলাকায় ঘটেছে। আমি চাই দ্রুত এই কেন্দ্রের জনবল নিয়োগের জন্য জোর দাবি জানাই, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায়।"

জমিদাতা আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে সারোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, "একসময় এই এলাকার রাস্তাঘাটগুলো খারাপ ছিল। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য আমার বাবা জমি দান করে ছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর জনবল না থাকায়, আমার বাবার মনের আশাটুকু আর পূরণ হচ্ছে না। এখন আমি স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার জন্য উপরমহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।" ত্রিশাল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা জানান, "এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে জনবলের অভাবে গ্রামের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।"

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী জানান, "২০০৬ সালে নির্মিত ওই সেবা কেন্দ্রে জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারপরও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভবন সংস্কারের অভাবে কিছুটা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংস্কারের বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপুরে ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ এম


দুর্গাপুরে ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজন গ্রেফতার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৭টি ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ একটি পিকআপ জব্দ করেছে, যা গরু পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এবং নাজিরপুর বাজারের নামে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ বইও উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪), দুর্গাপুরের চারিখাল গ্রামের হানিফ (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (২২) এবং কলমাকান্দার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০)।

পুলিশের এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সোমেশ্বরী সেতুর ওপর অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় গরু পিকআপে করে নাজিরপুর মোড় হয়ে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সেতুর ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সিএনজি ও মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে সকাল সোয়া ৫ টা দিকে উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় পিকআপটি আটক করে চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ১৭টি ষাঁড়-বাছুর উদ্ধার করে। গরুগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আটক ব্যক্তিরা নাজিরপুর বাজার, কলমাকান্দার নামসংবলিত হাতে লেখা ১৭ পাতা হলুদ রঙের রশিদ দেখান। তবে পুলিশি যাচাইয়ে সেগুলোকে বৈধ কাগজপত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য পাওয়া যায়নি। পরে গরুগুলো জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ নম্বর আসামি জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে এনে নাজিরপুর বাজারের ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে তথ্য দেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল পৌনে এগারোটার দিকে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জাহিদ হাসান রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত ১০৯ পাতার একটি খাস আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়। বইটির বিভিন্ন পাতায় ০৪০১ থেকে ০৫০০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বর রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সাকের আহমেদ জানান, ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া গরু পরিবহনে ব্যবহৃত কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫ নম্বরের পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু সংগ্রহ, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ এম


পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম। গতকাল শুক্রবার, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনটি বিশেষায়িত লরিতে এই পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর এবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছেছে। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এই রুটটি এবারই প্রথম ব্যবহৃত হলো।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটল জানিয়েছেন, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাত।

এ চালানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরো দুটি কার্গো বিমানে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ৯টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%