০২:৫১ পি.এম
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুনভাবে হামলা করেছে।
তেহরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর পালটে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত নতুনভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে উসকানি দিয়েছে। টানা ছয়দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে চায় বলেও জানা গেছে। তেহরানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা।
শুক্রবার ভোরে ইরান একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দুটি সেতুতে হামলার খবর দেয়। এসব হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে সাতজন।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামোই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার চলাকালে শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধে এক মাস আগে প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা সত্ত্বেও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, এখন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার দাবি করছে ইরান। এ বিষয়ে হামলা-পাল্টা হামলা চলমান রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি কার্যকর হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন তেহরান। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছেন।
নিজেদের অবকাঠামোয় কথিত মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
কাতার ও কুয়েত শুক্রবার জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিচ্ছে।
এএফপির সাংবাদিকরা কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
বাহরাইনে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শহুরে অবকাঠামো ও নিরীহ মানুষের ওপর শত্রুর হামলার প্রতিকার হিসেবে একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বাহরাইন সরকার নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, সতর্কসংকেত হিসেবে সাইরেন বাজানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা সেই কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস
এর একদিন আগে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ শহরের কাছে শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের নিকটে কথিত মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।
-'কখনও পিছু হটব না'-
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর হাসপাতালটি খালি করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন।
আহভাজের ৩৪ বছর বয়সী শিক্ষক হানি বলেছেন, হামলাগুলো ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
তিনি বলেন, ‘আমার হাত কাঁপছে। অন্তত ১১ থেকে ১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে। আমার কানে যেন বিস্ফোরণ ঘটছে।’
ইরানের সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে আমরা কখনও পিছু হটব না।’
-অবকাঠামোতে হামলার হুমকি-
আরও পড়ুন: গভর্নর নিউসমের ক্ষমতা ছাড়ার আগে ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বলেছেন, গত মাসে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইসলামাবাদ সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করবে।
তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তির ধারাগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়িত হলেই কেবল সেই চুক্তির মূল্য থাকে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ট্রাম্প ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনবেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের জন্যও সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে যে, এখনো একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। কিন্তু প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে কোনো মূল্য না দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্ট দেবেন না।’
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই খুব খারাপ হবে।’
বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে ‘পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন