০২:৫২ পি.এম
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দ্রুততম সময়ে পুলিশ আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিহতের জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে (২৩) পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় কাজী সুমাইয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তিনি বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ
এদিন দুপুরে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা পুলিশের সেল থেকে জানানো হয়, গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাত্তলা (ব্যাপারী বাড়ি) এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রাইম সিন সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল পরে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহত রিগান আক্তার মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা রুজুর পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময়ে ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্ত কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জড়িতের অভিযোগে নিহতের জা কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া প্রতিহিংসার কারণে নিজেই বড় জা রিগান আক্তার মিমকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামি কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে তিনি ডাকাতির একটি গল্প সাজিয়েছিলেন।
নিহত রিগান আক্তার মিমের দুই অবুঝ শিশুসন্তান রয়েছে। মেয়ে সাইফার বয়স আড়াই বছর ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজ। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরি সুবাদে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য (দাদাশ্বশুর) নুরুল ইসলাম এবং তিন শিশু অবস্থান করছিল।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে স্বীকৃত জবানবন্দিসহ আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: পাঁচবিবির গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, সরকারি সহযোগিতার দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন