ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র

আমরা মুসলিম, শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাইনা


আমরা মুসলিম, শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাইনা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশি যুবক দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হলেও পরে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী এবং মাইনউদ্দিন নামের দুই বাংলাদেশি যুবক নিজেদের দুর্দশার কথা জানান। তারা অভিযোগ করেছেন যে, ড্রোন কোম্পানি এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে কয়েকদিনের প্রশিক্ষণের পর তাদের যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।

ভিডিওতে আরমান আলী বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল ড্রোন কোম্পানি কিংবা কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মারা গেছে। আমরা চারজন জীবিত আছি, আর দুজন আহত।”

আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে ১৪৪ স্কোর

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আহত অবস্থায় দেশে ফিরে আসার পরও তাদের আবার যুদ্ধে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছে। রাজি না হলে মারধর করা হয়েছে এবং কয়েকদিন বাংকারে আটকে রেখে খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি।

আবেগঘন কণ্ঠে আরমান বলেন, “আমরা তো এই জীবন চাইনি। ছোটোখাটো কাজ করে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আমার পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান আছে। আমরা মুসলিম, চাই দেশে গিয়ে মরতে, যেন জানাজা হয়। এভাবে শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না। আমাদের বাঁচান।”

ভিডিওটি প্রকাশের পর আরমানের পরিবারে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ দুদিন আগে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। দূতাবাস বলেছে, তারা নাকি স্বেচ্ছায় চুক্তিতে সই করেছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, বন্দুকের মুখে তাদের দিয়ে সই করানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: কোটি টাকা ব্যয়ের পরও গাজীপুর সাফারি পার্কের জৌলুস হারানোর কারণ কী?

তিনি আরও জানান, ছেলের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকার খবর জানার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক কষ্টে রয়েছেন। বিশেষ করে আরমানের মা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের নাম আরশি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং খোঁজ নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করবেন।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিম বলেন, পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য জানার পর কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন: রামপালে ফয়লাহাট আছিয়া মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারগুলোরও একমাত্র প্রত্যাশা যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে তাদের স্বজনরা যেন জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ সদর থানার কালিতলা ফাড়ির অভিযান দুর্ধর্ষ চোর গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


নওগাঁ সদর থানার কালিতলা ফাড়ির অভিযান দুর্ধর্ষ চোর গ্রেফতার

গত ১৮/৬/২৬ তাং মোঃ আব্দুল হাকিম পিতা- কায়সারুর সাং- কালিতলা থানা ও সদর থানায় অভিযোগ করেন যে ১৮ তারিখ সকাল দশটার সময় তার নিজ বাস গৃহের দোতালায় নিজ ফ্ল্যাটের একটি রুমে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা তালা ভেঙে প্রবেশ করে ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কালিতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সুজনের নেতৃত্বে পুলিশ টিম তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এনালাইসিস করে চোর শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে চোর- মুরাদ (২৮) পিতা -বজলুর রশিদ সাং-চকমোক্তার মাস্টারপাড়া থানা ও জেলা -নওগাঁ কে অদ্য ১৯/০৬/২৬ বিকাল ৬.৩০ মিনিট আটক করে ৪ ভরি স্বর্ন এবং ৪১৫০০/-টাকা উদ্ধার করা হয় ।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে জানা যায় যে সে একজন কুখ্যাত চোর এবং সে একাই চুরি করে থাকে। অতীতের সে বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু স্বর্ণালংকার চুরি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ঘরে বসে খেলা ফুটবলার’, নেইমারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


‘ঘরে বসে খেলা ফুটবলার’, নেইমারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

অসংখ্য নাটকীয়তার পর বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত হলেও নেইমার জুনিয়রের এখনও এক ম্যাচও খেলা হয়নি। ইনজুরির কারণে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি মিস করার পর আগামীকাল হাইতির বিপক্ষে ম্যাচেও তাকে দেখা যাবে না। তিনি ফিলাডেলফিয়ায় না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিলের ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটিতে খেলার নিশ্চয়তা নেই তার।

নেইমার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সময়ও ইনজুরিতে ছিলেন। তার দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। লুলা নেইমারকে ‘বিশ্বের প্রথম ঘরে বসে খেলা ফুটবলার’ বলে ব্যঙ্গ করেন। এই তথ্য জানিয়েছে ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’।

শুক্রবার বেলো হরিজন্তেতে ব্রাজিলের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ক্যানসার চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ ঘোষণার অনুষ্ঠানে লুলা এই রসিকতা করেন। সেখানে দর্শকসারিতে থাকা একটি শিশুকে তিনি প্রশ্ন করেন, বর্তমানে ব্রাজিল জাতীয় দলের সেরা খেলোয়াড় কে!

লুলা তখন প্রশ্ন করেন, ‘এখন ব্রাজিলে ভালো ফুটবল খেলোয়াড় কে আছে?’ শিশুটি উত্তর দেয়, ‘নেইমার।’ তখন লুলা হাসতে হাসতে বলেন, ‘নেইমার তো খেলছেই না। সে বিশ্বের প্রথম ঘরে বসে খেলা ফুটবলার। তাকে জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে। আমি গতকাল ইন্টারনেটে একটা জিনিস দেখেছি, আর কিছুদিন পর হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জাতীয় দল বানাতে হবে—এগারো জন পেলের দল!’

এর আগে লুলা একটি রসিকতা করেছিলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করার পর তিনি মেসিকে ব্রাজিল দলে পেতে চান। হাসতে হাসতে লুলা বলেছিলেন, ‘ভাবছি, ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য মেসির সঙ্গে চুক্তি করা যায় কি না!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) দুই নেতাও হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের শিকার সাংবাদিকরা হলেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি (২০২৪-২৫), ওমি (২০২২-২৩), আহমেদ রিয়াদ (২০২২-২৩), জিহাদ (২০১৯-২০), সামির (২০২৩-২৪) ও আতিকসহ (২০১৯-২০) ৮-১০ জন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মার্কেটিং বিভাগের তিনজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের মেসেঞ্জারে জানান, বিভাগের সিনিয়ররা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখছে এবং র‌্যাগ দিচ্ছেন। তারা জানান, বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ভবনের পাশের সাইকেল গ্যারেজ এলাকায় তাদের বসার কথা রয়েছে এবং সেখানে প্রক্টরকে নিয়ে যেতে বলেন।

খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এবং একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের পাঁচটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপরই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী। তারা ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও গালাগালি করেন। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করার জন্য তাদের ডাকা হয়েছিল।

তবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে সিনিয়রদের দাবি ছিল, তারা খেলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ভিডিও ডিলিট করতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ও কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী বারবার সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে আরো কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে তাদেরও আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মামলা করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। তবে তাদের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি; বরং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী এবং শিক্ষক ড. নুরুজ্জামান।

তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখনও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাউকে সেখান থেকে যেতে দিতে চাইছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হঠাৎ করেই সাংবাদিক আবু বকর অনিককে উদ্দেশ্য করে 'আমাদের স্যারের সামনে হাঁটছিস?' বলেই মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল তার মুখে থাপ্পড় ও পেটে লাথি মারেন। এরপর সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, জিহাদ, আতিক ও সামিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল হয়ে সাংবাদিকদের মারধর করতে থাকেন। একই সময়ে সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনের মুখে একাধিক থাপ্পড় মারা হয়, সাংবাদিক জুবায়ের জিসানকে মাথা ও পিঠে ঘুষি-লাথি মারা হয় এবং রাকসুর দুই নেতাকেও গালাগাল ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুইজনকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চলে আসার সময়ও মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘Marketing is a brand. This is marketing. একদম মেরে সোজা করে ফেলবো।’ সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনকে উদ্দেশ্য করে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জিহাদ বলেন, ‘ওরে ভালো মুখে বলেছিলাম ভিডিওটা ডিলিট করতে। ও শুনল না। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে ওর অবস্থা খারাপ করে ছাড়ব।’ ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের খবর পেয়ে আমি প্রক্টর স্যারকে কল করে জানাই। কিছুক্ষণ পর একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান এবং আমিও সেখানে যাই। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করি। সেখানে সারিবদ্ধভাবে জুনিয়রদের দাঁড় করিয়ে র‌্যাগ দেওয়া হচ্ছিল। আমাকে ভিডিও ডিলিট করতে চাপ দেওয়া হয়, গালাগালি করা হয় এবং পরে মারধর করা হয়। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, ‘এটা আপনি ভুল তথ্য পেয়েছেন। একটা জটলা হয়েছিল, কথা-কাটাকাটি হয়েছে জাস্ট।

সেখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।’ তবে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমিসহ কয়েকজন তাদের আটকানোর চেষ্টা করেছি। ঘটনার পর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা আমাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আমার ওপর অভিযোগ দিচ্ছে।’ রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘মারধরের সময় আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমাদের গায়েও আঘাত লাগে। আমরা কেন আটকাতে গিয়েছি, এতে তারা ক্ষুব্ধ হয় এবং আমাদের পদ নিয়েও গালাগালি করে।’ মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী রবিবার এ ঘটনায় জড়িতদের ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মারধরের অধিকার তাদেরকে কেউ দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কাউকে মারতে পারে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করেছে। অবশ্যই তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে সেখানে ছিলাম।

সাংবাদিকদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এরপরও এমন ঘটনা আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’ র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যেভাবে আমরা পেয়েছি, তাতে র‌্যাগিংয়ের সব ধরনের লক্ষণ ছিল।’ সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসুর নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত জঘন্য অন্যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না : খায়রুল কবির খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না : খায়রুল কবির খোকন

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সাধারণ মানুষ দিনের ভোট রাতে গ্রহণ, ভোটবিহীন নির্বাচন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতায় থেকে গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করেছে। মসৃণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ছিল না।

আজ নরসিংদী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে উপকারভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

খায়রুল কবির খোকন বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করা।

অনুষ্ঠানে নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, আমিনুল হক বাচ্চুসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নরসিংদী জেলার ৩১ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%