ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা


র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় রাবিতে প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) দুই নেতাও হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের শিকার সাংবাদিকরা হলেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি (২০২৪-২৫), ওমি (২০২২-২৩), আহমেদ রিয়াদ (২০২২-২৩), জিহাদ (২০১৯-২০), সামির (২০২৩-২৪) ও আতিকসহ (২০১৯-২০) ৮-১০ জন শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মার্কেটিং বিভাগের তিনজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের মেসেঞ্জারে জানান, বিভাগের সিনিয়ররা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখছে এবং র‌্যাগ দিচ্ছেন। তারা জানান, বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ভবনের পাশের সাইকেল গ্যারেজ এলাকায় তাদের বসার কথা রয়েছে এবং সেখানে প্রক্টরকে নিয়ে যেতে বলেন।

খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এবং একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের পাঁচটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপরই সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী। তারা ভিডিও ডিলিট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও গালাগালি করেন। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করার জন্য তাদের ডাকা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ডাকারের বাতাসে ভয়াবহ দূষণ, ঢাকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

তবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে সিনিয়রদের দাবি ছিল, তারা খেলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ভিডিও ডিলিট করতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ও কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী বারবার সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে আরো কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে তাদেরও আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মামলা করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। তবে তাদের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি; বরং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী এবং শিক্ষক ড. নুরুজ্জামান।

তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে বসে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখনও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাউকে সেখান থেকে যেতে দিতে চাইছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হঠাৎ করেই সাংবাদিক আবু বকর অনিককে উদ্দেশ্য করে 'আমাদের স্যারের সামনে হাঁটছিস?' বলেই মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল তার মুখে থাপ্পড় ও পেটে লাথি মারেন। এরপর সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, জিহাদ, আতিক ও সামিরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল হয়ে সাংবাদিকদের মারধর করতে থাকেন। একই সময়ে সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনের মুখে একাধিক থাপ্পড় মারা হয়, সাংবাদিক জুবায়ের জিসানকে মাথা ও পিঠে ঘুষি-লাথি মারা হয় এবং রাকসুর দুই নেতাকেও গালাগাল ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুইজনকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চলে আসার সময়ও মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘Marketing is a brand. This is marketing. একদম মেরে সোজা করে ফেলবো।’ সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশনকে উদ্দেশ্য করে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জিহাদ বলেন, ‘ওরে ভালো মুখে বলেছিলাম ভিডিওটা ডিলিট করতে। ও শুনল না। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে ওর অবস্থা খারাপ করে ছাড়ব।’ ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের খবর পেয়ে আমি প্রক্টর স্যারকে কল করে জানাই। কিছুক্ষণ পর একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে যান এবং আমিও সেখানে যাই। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করি। সেখানে সারিবদ্ধভাবে জুনিয়রদের দাঁড় করিয়ে র‌্যাগ দেওয়া হচ্ছিল। আমাকে ভিডিও ডিলিট করতে চাপ দেওয়া হয়, গালাগালি করা হয় এবং পরে মারধর করা হয়। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, ‘এটা আপনি ভুল তথ্য পেয়েছেন। একটা জটলা হয়েছিল, কথা-কাটাকাটি হয়েছে জাস্ট।

সেখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।’ তবে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমিসহ কয়েকজন তাদের আটকানোর চেষ্টা করেছি। ঘটনার পর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা আমাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আমার ওপর অভিযোগ দিচ্ছে।’ রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘মারধরের সময় আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমাদের গায়েও আঘাত লাগে। আমরা কেন আটকাতে গিয়েছি, এতে তারা ক্ষুব্ধ হয় এবং আমাদের পদ নিয়েও গালাগালি করে।’ মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী রবিবার এ ঘটনায় জড়িতদের ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মারধরের অধিকার তাদেরকে কেউ দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কাউকে মারতে পারে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করেছে। অবশ্যই তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে সেখানে ছিলাম।

আরও পড়ুন: ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচলের উদ্যোগ, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে

সাংবাদিকদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এরপরও এমন ঘটনা আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’ র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যেভাবে আমরা পেয়েছি, তাতে র‌্যাগিংয়ের সব ধরনের লক্ষণ ছিল।’ সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসুর নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত জঘন্য অন্যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না : খায়রুল কবির খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না : খায়রুল কবির খোকন

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সাধারণ মানুষ দিনের ভোট রাতে গ্রহণ, ভোটবিহীন নির্বাচন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতায় থেকে গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করেছে। মসৃণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ছিল না।

আজ নরসিংদী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে উপকারভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

খায়রুল কবির খোকন বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করা।

অনুষ্ঠানে নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম গোলাম কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, আমিনুল হক বাচ্চুসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নরসিংদী জেলার ৩১ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না: ফারজানা শারমীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না: ফারজানা শারমীন

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার মতো মহৎ ও পবিত্র খাতকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করে থাকে। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সীরহাট পলক অটিজম স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায়ই আমার কাছে একসঙ্গে ৫০-৬০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তালিকা আসত। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে বুঝতে পারি, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছে। আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছি, এ ধরনের কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। এরপর থেকে এ ধরনের কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এই কাজ শুধু সক্ষমতা দিয়ে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন গভীর মানবিকতা, মমত্ববোধ ও আবেগগত সংযুক্তি। আপনারা একটি মহৎ ও পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ও শিক্ষাসেবার মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবসম্পদ ও মেধাসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের শিক্ষা ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতibদ্ধ।

ভুয়া বিদ্যালয়ের বিষয়ে সতর্ক করে ফারজানা শারমীন বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক ভুয়া বিদ্যালয়ের তালিকা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং বিদ্যালয়প্রতি অর্থ দাবি করে, তাহলে বিষয়টি আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

পলক অটিজম স্কুলের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজ এখানে এসে আমি দেখেছি, শিশুরা ভালো আছে, তারা ভালোভাবে শিখছে এবং যথাযথ যত্ন পাচ্ছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উপযুক্ত জায়গা ও পরিকল্পনা পাওয়া গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রতিবন্ধী সন্তানদের পরিবার সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, সেই পরিবারের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তাদের করুণা নয়, সম্মান ও সহযোগিতা দিতে হবে। বিশেষ করে সেই মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্য ও সংগ্রামের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যথাযথ সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত মানু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিসঅ্যাবল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির শাহীন মিজি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পলক অটিজম স্কুলের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমির বিরোধে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমির বিরোধে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই ভাইকে মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতের যাত্রীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছিল সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তিনখোপড়া মোড়ে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরদেবীনগর-ফাটাপাড়ার মৃত সাজ্জাদের ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং তার ছোট ভাই ওসিকুল ইসলাম। বর্তমানে তারা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শফিকুল ও ওসিকুল জানান, তারা রাতে নরেন্দ্রপুর হাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনখোপড়া মোড় এলাকায় তাদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠায়। তারা আরও জানান, জমি নিয়ে তাদের ভাই আজাদ সহ একই এলাকার শাহদাত, মহব্বত, আব্দুল হান্নান এবং আব্দুল রাবিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরেই তাদের উপর হামলা করা হয়।

আহতদের ভাই আজাদ আলী বলেন, "৫-৬ বছর আগে আমি ২১ শতক জমি কিনেছিলাম চাচি জরিনার কাছ থেকে। ওই জমিতে কৃষি কাজ করতে গেলে শাহাদাৎসহ কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের কথাকাটাকাটি হয়। সেই দিন থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এখন পরিস্থিতি অনেক উত্তপ্ত হয়ে গেছে।"

এ ব্যাপারে শাহদাত, মহব্বত, আব্দুল হান্নান ও আব্দুল রাবিকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, শফিকুল ও ওসিকুলের উপর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে সাত লাখ জাল টাকাসহ আটক ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


পঞ্চগড়ে সাত লাখ জাল টাকাসহ আটক ৭

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে, যাদের কাছে সাত লাখ জাল টাকা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারে কিশোরগঞ্জ জেলার বাকপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে চঞ্চল মিয়া (৩২) গত বৃহস্পতিবার জাল টাকাসহ ধরা পড়েছে। পুলিশ চঞ্চলের দেওয়া তথ্যমতে, পাশের ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাইম হোটেল এবং নিউ হোটেল সালাম এন্টারপ্রাইজে জরুরি অভিযান চালায়। এসময় ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ জাল টাকা এবং ১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ অরিজিনাল টাকা থেকেও জাল টাকা চক্রের একাধিক হোতাকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুদাল এলাকার আউয়াল হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন (৪০), মাদারীপুর শিবচর উপজেলার মাদবর চর এলাকার ইউনুস শেখের ছেলে এমরান শেখ (৪৮), বাগেরহাট রামপাল উপজেলার কাশিপুর এলাকার মাহামুদুল হকের ছেলে শেখ নাছিম (২৮), ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলার শিংগাদাগ এলাকার নুরুল আমিন খাঁনের ছেলে সোহেল খাঁন (২৮), ঢাকা কেরানীগঞ্জ পূর্ব মুগারচর এলাকার মৃত আলী আকবর মাস্টারের ছেলে রুহুল আমিন (৫২) এবং কুমিল্লা দ্বেবিদার উপজেলার মারিচা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩২)।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান বলেন, পঞ্চগড়ের নবাগত পুলিশ সুপার মো. আবু সাইমের পরামর্শক্রমে টানা কয়েক ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে জাল টাকা প্রস্তুতকারী একটি বড় চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। পরে তাদের নামে প্রচলিত আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%