০১:৪৭ পি.এম
এক নারীকে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে খুরুশকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করার কথা বলে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা যায়।
সিকান্দার আলী রুহুলার ডেইল কেন্দ্রীয় মসজিদের সমাজ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর খুরুশকুল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সমাধানের জন্য তারা সিকান্দার আলীর কাছে যান। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সমাজ কমিটির সভাপতি হিসেবে তার প্রভাব থাকার কারণে সিকান্দার আলী ওই বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সিকান্দার আলী ওই নারীকে কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত ‘ঢাকা হোটেল’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে যেতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
তবে সিকান্দার আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রুহুলার ডেইল কেন্দ্রীয় মসজিদের সমাজ কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল খায়ের জানান, ওই নারীর স্বামী তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে। আরও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সমাজের সবাইকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে
খুরুশকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, তারা মৌখিকভাবে ঘটনাটি শুনেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিযোগটি দেখেছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এবং এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে সিকান্দার আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন