ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে


প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে আসছেন। সফরের সময় তিনি হেলিকপ্টার থেকে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টের পর্যবেক্ষণ করবেন, মোংলা নৌ ঘাঁটিতে একটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন এবং মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন।

এই সফরের বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত রবিবারের (১৮ অক্টোবর) একটি পত্রে জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৯টায় তিনি হেলিকপ্টারে যাত্রা শুরু করে ১০টায় সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টের পর্যবেক্ষণ করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন এবং লঞ্চে করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার দিকে রওনা হবেন।

আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দুপুর পৌনে ১টায় বানৌজা মোংলায় পৌঁছানোর পর মধ্যাহ্নবিরতি শেষে বেলা পৌনে ২টায় ওয়ার্ড রুমে সভায় যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিকেল ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল ৫টায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় অপরিহার্য। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। তারা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘অ্যাডভান্সিং ক্যান্সার এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ার: বিএমইউ’স ভিশন অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)।

বৈঠকের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, চিকিৎসাপ্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বৈঠকে উল্লেখ করেন, ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন। বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হলে চিকিৎসা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, "ক্যানসার শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবায় বিএমইউর নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, "এর মাধ্যমে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষায়িত সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে।" এর ফলে উন্নত চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বক্তারা ক্যানসারের বোঝা কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

বক্তারা বলেন, "প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।" এজন্য রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্ক্রিনিং সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে চিকিৎসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ধাপের মধ্যে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে ক্যানসারের প্রকৃত চিত্র জানতে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বক্তারা। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, রোগের ধরন ও বিস্তারের প্রবণতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, গবেষণা এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে।

বৈঠকে বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বিভাগের অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা দেন। তিনি বলেন, "ক্যানসার চিকিৎসায় ক্লিনিক্যাল অনকোলজি, মেডিক্যাল অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, প্যাথলজি, রেডিওলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও মেডিক্যাল ফিজিকসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।" এতে রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ এবং চিকিৎসার মান উন্নয়নে সহায়তা মিলবে।

উপস্থাপনায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডের কার্যক্রম, গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা এবং রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, "ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এসব যন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।" এজন্য প্রশিক্ষিত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট, রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট, দক্ষ নার্সসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করা জরুরি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সরকারি বিনিয়োগ ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।

ক্যানসার গবেষণা ও চিকিৎসাপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন আলোচকেরা। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ওষুধশিল্প এবং চিকিৎসাপ্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও।

আলোচনায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল ফিজিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন চিকিৎসাপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে দেশে ক্যানসার গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বিএমইউ এবং অন্যান্য চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বানও জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক এজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শুভসহ সংগঠনটির নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, "ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রবণতা কমাতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" এজন্য ক্যানসার প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার করা প্রয়োজন।

২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ গত ২১ বছরে ক্যানসার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও গবেষণায় ভূমিকা রেখেছে। বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

বিভাগটিতে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর শিক্ষা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, চিকিৎসা পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, "ক্যানসার প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত হাসপাতাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ওষুধশিল্প, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হলে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনার ১১৯ পূজামণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


খুলনার ১১৯ পূজামণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

খুলনা মহানগরীতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। মহানগরীর ১১৯টি পূজামণ্ডপে ঝুঁকি ও গুরুত্বের ভিত্তিতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কেএমপির পক্ষ থেকে এই উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেই লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে ১২০০-এর বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে থেকেই প্রস্তুতি, নজরদারি ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চলছিল।

কেএমপি কমিশনার আরও জানান, এ বছর খুলনা মহানগরীতে মোট ১১৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ, ১৩টি সাধারণ এবং তিনটি পারিবারিক পূজামণ্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও ঝুঁকি বিবেচনায় তিন স্তরে বিভক্ত করে নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, চেকপোস্ট, নিরাপত্তা দল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ, স্ট্যান্ডবাই পুলিশ টিম এবং তদারকি দল দায়িত্ব পালন করছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে খুলনা মহানগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখতে কেএমপির নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি পূজামণ্ডপে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। বরিশালের উজিরপুরের নূর আলম স্ত্রী ও সন্তানসহ ছয়জনকে হারিয়ে এখন নির্বাক অবস্থায় রয়েছেন।

উজিরপুর (বরিশাল) থেকে মাহফুজুর রহমান মাসুম জানান, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক এবং তিন শ্যালিকাকে হারিয়েছেন নূর আলম। অফিসের জরুরি কাজে একদিন আগে কক্সবাজার থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার ফলে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার জীবনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নূর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় স্ত্রী ও সন্তানসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। গত ১৪ অক্টোবর, নূর আলম স্ত্রী ফারিয়া কবির এবং পাঁচ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান। পরদিন বৃহস্পতিবার, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

কক্সবাজার পৌঁছানোর পর, অফিসের জরুরি কাজ থাকায় শুক্রবার নূর আলম একাই চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। তবে পরদিন শনিবার সকালে গণমাধ্যমে কক্সবাজারের ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তিনি স্বজনদের খোঁজ নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনই তার পরিবারের সদস্য।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), তাদের পাঁচ বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন হতাহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নাফিসতা মীম (২৭) নামের একজনের পরিচয়ও জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দগ্ধদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন এবং তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান, ইসমাইল হোসেন মাসুদ ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা, মান্নান এবং সামিদা রয়েছেন। ইসমাইল হোসেন ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা নিহত ফারিয়া কবিরের মামা-মামি। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে এবং এর আগে সতর্ক করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নূর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলী রাড়ি জানান, ছেলে বিয়ে করার পর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কখনই তাদের উজিরপুরের গ্রামের বাড়িতে আসেননি। নূর আলমের শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালীর তালতলীতে হলেও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বনশ্রী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। মোহাম্মদ আলী রাড়ি বলেন, পুত্রবধূ, নাতি এবং ছেলের শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ছয়জনকে হারানোর খবর তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। লাশ আপাতত ঢাকায় দাফন করার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একসঙ্গে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারিয়ে নূর আলম এখন নির্বাক। যে ভ্রমণটি ছিল পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর আয়োজন, সেটিই পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় শোকে।

অফিসের জরুরি কাজে এক দিন আগে কক্সবাজার থেকে ফিরে আসায় নূর আলম বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন তার সবচেয়ে কাছের ছয়জনকে। স্বজনদের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো এখন তার কাছে শুধুই স্মৃতি।

নূর আলমের পরিবারের ছয় সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে বরিশালের উজিরপুরের গাজীরপাড় গ্রামসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে মফিজুর রহমান জোয়ারদার জানান, ইনানী এলাকার একটি রিসোর্টে আগুন কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের হাসি-খুশি দুই সদস্যের প্রাণ। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং তার পাঁচ বছরের সন্তান ফাইজান। তাদের চিরবিদায়ে চুয়াডাঙ্গায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ফারিয়ার পৈতৃক বাড়ি ছিল বরিশালে। গত ১৪ অক্টোবর পরিবারের সবাই মিলে অবকাশযাপনে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানত এই আনন্দ ভ্রমণই তাদের জীবনের শেষ ভ্রমণ হয়ে থাকবে।

শনিবার সকালে ইনানীর ওই রিসোর্টটিতে হঠাৎ করেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ভয়াবহ রূপ নিলে ভেতরে আটকা পড়েন অনেকে। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান মা ফারিয়া ও ছোট্ট ফাইজান। একই পরিবারের মা ও অবুঝ শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং এলাকাবাসীর চোখ আজ অশ্রুসিক্ত। আনন্দময় একটি ছুটি কীভাবে একটি পরিবারের জন্য চিরন্তন কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে শেখ ওমর ফারুক জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পাটুয়ারটেক টুকটুক রিসোর্টে ওঠে মতলব উত্তরের ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠেটালীয়া গ্রামের রুহুল আমিন ঢালীর পরিবার। তারা একই পরিবারের ১০ জন ওই রিসোর্টে ওঠেন। ওই রিসোর্টে ২৮ জন অতিথি ছিলেন। তন্মধ্যে রুহুল আমিন ঢালির পরিবারের সদস্য ছিলেন ১০ জন। শনিবার টুকটুক রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে রুহুল আমিন ঢালির ছয় সদস্য আগুনে পুড়ে মারা যান।

মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালীয়া গ্রামের রুহুল আমিন (লিলু) ঢালীর আত্মীয়র পরিবারের ১০ জনের মধ্যে ছয়জন নিহত হন। জীবিত চারজনের মধ্যে আহত রুহুল আমিন (লিলু) ঢালীর ছেলে মাসুদ, রুহুল আমিন লিলুর ছেলের স্ত্রী মেহেরুন নেছা মিলা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নুরে আলম ও আসিক সুস্থ আছেন। শনিবার সকাল ৭টায় টুকটুক রিসোর্টে আগুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মতলবের রুহুল আমিন (লিলু) ঢালী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ এম


সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়াকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করেছে মাদক কারবারিরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের রগ কেটে গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহাদ ভূঁইয়া নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিক আব্দুল মোতালিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া চৌধুরীপাড়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি আহাদ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা রামদা, চাপাতি, ছুরিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতের রগ কেটে ফেলে এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশে দেয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল মোতালিবকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া ও তার স্বজনরা জানান, আহাদ ভূঁইয়া সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মাদক কারবারিরা।

১ নম্বর বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রায় দেড় মাস আগে মোতালিবের দুই ছোট ভাই কবির ভূঁইয়া ও মামুন ভূঁইয়ার ওপরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল এই মাদক কারবারিরা। এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন সিলেটে চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যেই রোববার সন্ধ্যায় আবার পরিকল্পিতভাবে মোতালিবের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হলো।’

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আহাদ ভূঁইয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা ডিলার। সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়া এলাকার মাদক নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। এতে মাদক কারবারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সবাই একজোট হয়ে সাংবাদিকের ওপর এ হামলা চালায়। পালানোর সময় আহাদ ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%