ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ


সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ জেগে উঠেছে। তাঁরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অপূর্ব নামের এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির নাম অপূর্ব (২২), তার বাবার নাম শমশের আলী। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুরের এক পুলিশ হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া অন্যতম আসামি ছিলেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আলিফকে হত্যার সময় হামলাকারীরা ভুলবশত আলিফের চেহারার সঙ্গে মিল থাকা এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। অপূর্ব পুলিশ তালিকাভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। পুলিশের গোপন সোর্সের মাধ্যমে রাত ১২টার পর তার গতিবিধি ও অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশের বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি চক্র সরাসরি জড়িত ছিল। নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত টিম এ হত্যার সঙ্গে জড়িত। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীলরা।

আরও পড়ুন: আদিবাসীদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেন ফকির মাহবুব আনাম

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং নিহত সাংবাদিকের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে নিহত সাংবাদিকের শ্বশুরবাড়িতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গিয়েছিলেন। এ সময় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার হাতে ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা ও সন্তানদের পোশাক তুলে দেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সহসভাপতি এমএ জিন্নাহ, সহসভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুল্লাহ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টারসহ আরো অনেকে।

উপজেলা প্রতিনিধি, মদন (নেত্রকোনা) জানান, নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নেত্রকোণার মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার আল্টিমেটাম দেন তাঁরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

রোববার দুপুরে মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব প্রাঙ্গণসংলগ্ন মদন-কেন্দুয়া সড়কে এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি নূরুল হক রনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মো. সাকের খানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফয়েজ আহমেদ হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি নিজাম তালুকদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি আলী আজগর পনির, অর্থ সম্পাদক ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি নূর মুহাম্মদ জরিপ এবং সম্মানিত সদস্য ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি জাকির হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য সাংবাদিক।

আরও পড়ুন: বাড়ির আঙিনায় শায়িত বাবা-মেয়ে, মৃত্যুর খবর জানেন না হাসপাতালে ভর্তি মা-ছেলে

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল হক রনু বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে হত্যার আগেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে মর্মে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল অপূর্ব নামের একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা সরকার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”

সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সংবাদকর্মীর জীবন কেড়ে নেয় না, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

কর্মসূচি থেকে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়ীয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল রোববার সকালে ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মো. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম, আল আমিন, হাফিজুল ইসলাম স্বপন, হেলাল উদ্দিন উজ্জল প্রমুখ।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। শনিবার বেলা ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, আবুল কালাম, তানভীর হায়াত খান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সঞ্জয় সরকার।

ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুমের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম। সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া তিন বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরবেন

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচার, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের সামনে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ইমাম উদ্দিন মুক্তা, সদস্য সচিব ফেরদৌসি আলম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিক সরকার ও এম ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ধোবাউড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন-উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, সাংবাদিক আবুল হাশেম, কবির উদ্দিন, শামসুল হক মৃধা, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

আরও পড়ুন: বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ: রাশেদ খান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিনিসিয়াস ছাড়া সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ এম


ভিনিসিয়াস ছাড়া সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই একটি দারুণ জয় অর্জন করেছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে লিগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে হোসে মরিনিয়োর দল। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি এবং ইয়ান দিয়োমান্দে একটি গোল করেছেন।

ম্যাচের শুরুতে উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করলেও প্রথম গোলের জন্য ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বাম দিক থেকে দিয়োমান্দের বাড়ানো বলে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সেভিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন গুলের। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে বলটি জালে প্রবেশ করলে রিয়াল এগিয়ে যায়।

৩৭ মিনিটে এমবাপ্পে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। জুড বেলিংহামের বাড়ানো বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ ব্যক্তিগত দক্ষতায় সেভিয়ার দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন ফরাসি তারকা। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্বাগতিকরা আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। ৬৩ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করেন এমবাপ্পে। স্পট কিক থেকে দারুণ চিপ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে রিয়ালের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০।

তিন গোল পিছিয়ে থেকেও সেভিয়া হাল ছাড়েনি। ৮০ মিনিটে মানু বুয়েনোর গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করে তারা। তবে দুই মিনিট পরেই রিয়াল আবার জবাব দেয়। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের কাছ থেকে দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে গোল করেন দিয়োমান্দে। তাঁর গোলে ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত করে রিয়াল।

ম্যাচে রিয়ালের আক্রমণভাগের তিনজনই আলোচনায় ছিলেন। গুলের অসাধারণ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এমবাপ্পে জোড়া গোল করে আবারও দলের প্রধান গোলভরসা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। ভিনিসিয়ুসের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পাওয়া দিয়োমান্দে এক গোল ও এক সহায়তায় দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন।

শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী সপ্তাহের এল ক্লাসিকোর আগে এই জয় দলটির আত্মবিশ্বাসকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ এম


এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমিতে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাংলা একাডেমি জানিয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম রবিবার (১৮ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ অক্টোবর সকালে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয় সর্বসম্মতিক্রমে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম, স্টাফ রিপোর্টার,

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ এম


সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশসংক্রান্ত নথিও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে স্কুলের মাঠে মেলার আয়োজন চলতে থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা, অনুমোদনের বৈধতা এবং এর পেছনে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ১৮ অক্টোবর মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬’ শুরু হয় ৯ অক্টোবর। সরকারি বিধানের বিষয়টি সামনে আসার পরও এসব আয়োজন কীভাবে চলছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা থেকে ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১। পরিপত্রের ৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।”

এদিকে বরিশালের পরেশ সাগর মাঠসংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ৬২৫৯/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে ২০২৬ হাইকোর্টের একটি আদেশ জারি হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানি হয়।

মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, সরকারি পরিপত্র, আদালতের আদেশসংক্রান্ত নথি ও আপত্তির বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। এরপরও মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনগত ভিত্তিতে এসব অনুমোদন দিয়েছে? সরকারি বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের সিদ্ধান্তেই যদি সেই বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির ভাষ্য, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপে মাঠটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাঠের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি পরিপত্র ও অন্যান্য নথি পাঠানো হলেও আর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা চলছে। এ ক্ষেত্রেও মেলার অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের শর্ত এবং সরকারি বিধান অনুসরণের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

দুই জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো? কোন বিধান বা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি পরিপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর আয়োজন বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?


মেলার অনুমোদন ঘিরে সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার বাইরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি গুরুতর; এর সত্যতা নির্ধারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তদন্ত প্রয়োজন।

মূল প্রশ্ন মেলার স্বাভাবিক আয়-ব্যয় নয়; বরং সরকারি প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো এবং সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আর্থিক সুবিধা বা অনৈতিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের বাইরে কোনো অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার হিসাবও সামনে আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের চুক্তি, নির্ধারিত সরকারি ফি, কোষাগারে অর্থ জমার চালান এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সরকারি বিধান উপেক্ষা করে অনুমোদন দেওয়ার বিনিময়ে কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব সরকারি আইন, বিধি ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। সেই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যদি সরকারি বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।

আজ যাঁরা জেলা প্রশাসক, ভবিষ্যতে তাঁদের কেউ উপসচিব, যুগ্ম সচিব কিংবা সচিব পদে দায়িত্ব পেতে পারেন। নিজেদের সিদ্ধান্তেই যদি সরকারি বিধান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আইন মানার নির্দেশ দেওয়ার নৈতিক ভিত্তি কোথায় থাকবে?

সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশ কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য? সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি এবং গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।


মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা এবং ২৫ অক্টোবর শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার আয়োজনের বৈধতা, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের নজরে আনা হবে।

সংগঠনটি মেলার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও অর্থ জমার হিসাব প্রকাশ, সরকারি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার জন্য। সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট অনুমোদনদাতাদের নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কোষাগারের বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনতে হবে।

প্রশ্ন একটাই—সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আসার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, আর সেই সিদ্ধান্তের আড়ালে কোনো গোপন আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার দায় নেবে কে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: রনি সিকদার, চীফ রিপোটার

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ এম


তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

রাজধানীর ডেমরায় দিনদুপুরে এক ভাড়ারতিয়া পরিবারের তালাবদ্ধ বাসায় প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও টিভি সহ মূল্যবান দলিলপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে ডেমরা থানার জয়নব বানু ৭৬ শূণ্যা টেংরা এলাকার জাহিদ সাহেবের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোসাঃ নাজমা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ প্রতিদিনের মতো গত ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে তাঁর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল ১০:৪৫ টার দিকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখেন ঘরের প্রধান ফটকের তালা ভাঙা। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পান রুমের যাবতীয় মালামাল এলোমেলো ও ওলটপালট অবস্থায় পড়ে আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নাজমা বেগম জানান, চোরের দল ঘরের তিনটি পাটের দুটি কাঠের আলমারি, দুটি কাঠের ওয়্যারড্রফ এবং একটি শোকেসের লক ভেঙে তছনছ করে। চোরেরা আলমারিতে রক্ষিত সঞ্চিত নগদ ৮,০০,০০০ (আট লাখ) টাকা, প্রায় ২ ভরি ৩ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০ টাকা), তিনটি অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্টফোন (যার আনুমানিক মূল্য ৭০,০০০ টাকা), একটি ৪২ ইঞ্চি ভিশন এলইডি টিভি (যার মূল্য আনুমানিক ৫২,০০০ টাকা) এবং ঘরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। অপহৃত সর্বমোট মালামাল ও নগদ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি।

ঘটনার পর পরই বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে বাসার বাইরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার সময়সীমার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তি কৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে চুরির কাজ শেষ করে সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়িয়ে কেটে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চোর সনাক্ত করার বেশ কিছু চেষ্টা চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ নাজমা বেগম চুরি হওয়া মালামালের সঠিক হিসাব-নিকাশ এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের প্রাথমিক সনাক্তকরণের চেষ্টা চালিয়ে ডেমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অজ্ঞাত চোরদের সনাক্ত ও গ্রেফতারসহ চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনদুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চোর চক্রের চলাফেরা:

ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে নাজমা বেগম বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী ডেমরাবাসীকে জানান। পরবর্তীতে আশেপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বসানো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়।

ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুই যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরির কাজ শেষ করে ১০:৩০ টার মধ্যেই তারা জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে এলাকা ত্যাগ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই চোরের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও, স্থানীয় লোকজনদের তা দেখালে কেউই তাদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পেশাদার এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকা ও ভুক্তভোগী পরিবারের চলাফেরার ওপর নজরদারি (রেকি) চালিয়ে এই চুরির ছক এঁকেছিল।

পুলিশি পদক্ষেপ ও এলাকার সার্বিক চিত্র:

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার উদ্যোগ নিয়েছে। চোরদের সনাক্তকরণ এবং চুরির নিখুঁত হিসাব বের করতে সামান্য বিলম্ব হলেও ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত ডেমরা থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আইইএমআই (IMEI) নম্বর ও অবস্থান ট্রেস করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই এই চক্রকে গ্রেপ্তার করে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জয়নব বানু টেংরা এলাকায় দিনদুপুরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা অবিলম্বে পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চলবে....................

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%