ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে ছেলে


মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে ছেলে

গর্ভধারিণী মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে, যিনি মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের দল মেঝে খুঁড়ে মৃত মা মারুফা বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ছেলে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

যখন ঘটনাটি জানাজানি হয়, তখন ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূ ও নাতিকে থানায় আনা হয়েছে, নিহত মারুফা বেগম (৬০) ছিলেন মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার তারা মারুফা বেগমকে দেখেছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে যে, সোমবারের কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

মারুফা বেগমের ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিনি ৩ ভাইয়ের মধ্যে একজন। এক ভাই মারা গেছে, অপর ভাই জুয়েল মিয়া বাড়িতে থাকে এবং তিনি ঢাকায়। শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। একই দিন ভাইয়ের উপর রাগ করে ভাবি তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরের দিন রোববার, শ্বশুরবাড়িতে যেতে হয় তাকে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজ হচ্ছিল। এর মধ্যে অনেকের কাছে খোঁজ করেও না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। বেলা সাড়ে ৩টার সময় তার স্ত্রী বাড়িতে এসে বিছানার তোশক ঠিক করার সময় রক্ত দেখতে পান, যা দেখেতেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার ভাই জুয়েলের থাকার ঘরের মেঝের মাটিতে ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে তারা আসেন এবং মেঝের ফাটল ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মেঝের মাটি খুঁড়ে মা মারুফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে সন্দেহ হলে তারা রাতে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করেন। লাশের মাথার সামনে বাম দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় আনা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল পলাতক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও জুয়েলের ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, ছেলে জুয়েলেই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছিল। নিহতের ছোট ছেলে থানায় একটি মামলা দায়ের করতে এসেছে। হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানার ভিতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য সাময়িক বহিষ্কৃত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


থানার ভিতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য সাময়িক বহিষ্কৃত

থানার কলাপসিবল গেটের অপরপ্রান্ত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম কথা বলছেন। তার পাশেই উপস্থিত হয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান ও পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

রংপুর মহানগরীতে থানার ভেতরে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সময় বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার ভেতর এ ঘটনা সংঘটিত হয়।

পরে এই ঘটনার পর তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মারধরের শিকার ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার একটি প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। ওই যুগলকে উদ্ধার করার পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। ওই যুগলের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু নেতা থানায় যান। লাভলু নামে এক নেতার ডাকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব থানায় গিয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, থানায় গিয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতে একটি চোখ ফুলে যেতে দেখা যায়।

রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্ধৃত প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে যখন তিনি পকেট থেকে ফোন বের করেন, তখন ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, এখানে ওসি, এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারল। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। আমাকে ১৩টা মামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাকে মারধর করেছে, যার ফলে আমার চোখ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দুক দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করছে। আমার ফোন দুটো ছিনতাই করেছে। পুলিশের চরিত্র অনেকটা ফ্যাসিবাদী। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে রক্তমাখা তুলা দেখান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন প্রদর্শন করেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু থানায় যান। পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে রাত ১১টার দিকে থানার ধারে ওই যুগলকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় থানার ভেতরে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, রাকিবকে পুলিশ ধরে মারল, আমি মাথায় ঘুসি লেগেছিল। ওই যুগলকে ধরে মারছে, এটা নিষেধ করার কারণে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসি নিজেই স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা রাকিবকে পিটিয়েছে। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন সামসুজ্জামান সামু। বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম। তিনি বলেন, পোশাক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। তাদের রক্তে এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারীর গন্ধ পাওয়া যায়। আমরা জানি পুলিশ মানবিক, কিন্তু পুলিশের এই আচরণ আমরা আশা করিনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। প্রয়োজনে থানার ঘেরাও করা হবে।

অন্যদিকে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা থামান।

তবে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কাপড়ে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় আম গাছের আঘাতেও রক্ত বের হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল مাবুদ বলেন, এরকম অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট (ক্লোজড) করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।

একইসঙ্গে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি, ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতোয়ালী সুকুমার রায়কে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সবার কাছে ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনকালে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০১ এম


পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনকালে কুপিয়ে জখম

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে দুর্বৃত্তরা এক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনকালে কুপিয়ে জখম করেছে।

বুধবার (৩ জুন) রাতে উপজেলার ভারেল্লা উত্তরের রামচন্দ্রপুর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশের কনস্টেবল মো. ফোরকান বুড়িচং থানার অধীনস্থ দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকায় ইকবাল হোসেনের বাড়িতে সংঘষের ঘটনায় অভিযোগের তথ্য পেয়ে তদন্তে যায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।

এ সময় পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, ইকবাল তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ইকবাল কনস্টেবল ফোরকানকে ধারালো অস্ত্রমতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে, সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা আহত ফোরকানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বুড়িচং থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১ জন নিহত, ১৫ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ এম


কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১ জন নিহত, ১৫ জন আহত

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দেবীদ্বার এলাকায় এক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ফলে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহত যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য দেবীদ্বার ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আফরোজা পরিবহনের একটি নাইট কোচ দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর পরিচয় লিজা আক্তার (৩০) হিসেবে জানা গেছে। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মীর করিমের স্ত্রী এবং চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত ৩টার দিকে অভিযানে নামেন। পরে তারা নিহত নারীর লাশ ও আহতদের উদ্ধার করেন। তবে চান্দিনা থানার ইলিয়েটগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ি থেকে রেকার আসতে বিলম্ব হওয়ায় আহতদের উদ্ধারে দেরি হয়েছে।

আহত যাত্রী রবিউল জানান, যখন বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রম করছিল, তখন থেকে চালক এলোমেলোভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আমরা চালককে সতর্কও করেছিলাম। কিন্তু দেবীদ্বার এলাকায় আসার পর হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমে ছিলেন এবং বাসটিতে প্রায় ৪০-৪৫ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

দেবীদ্বার থানার এসআই সাগর সাহা জানান, রাত ৩টার সময় ঘটনাস্থলে এসে তিনি বলেছেন যে, চালক সম্ভবত ঘুমের ঘোরে ছিলেন, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত ৭ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ করেছি। রেকার আসলে বাসটি উঠানোর পরই বলা যাবে বাসের নিচে আর কেউ রয়েছে কিনা।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মেলানিয়া ছিলেন এপস্টেইনের এসকর্ট

ট্রাম্পের ‘আসল প্রেমকাহিনী’ নিয়ে সাবেক সহযোগীর বিস্ফোরক দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ এম


ট্রাম্পের ‘আসল প্রেমকাহিনী’ নিয়ে সাবেক সহযোগীর বিস্ফোরক দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সম্পর্কের সূত্রপাত নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক দাবি করেছেন মেলানিয়ার একটি সাবেক সহযোগী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প একসময় কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের “এসকর্ট” (যৌন সঙ্গী) হিসাবে কাজ করতেন এবং এপস্টেইনের মাধ্যমেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেছিল।

সাবেক ব্রাজিলীয় মডেল আমান্ডা উঙ্গারো একটি রেকর্ড করা অডিওতে এই বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি তার সাবেক সঙ্গী তথা মডেলিং এজেন্ট থেকে মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ দূত হওয়া পাওলো জাম্পোল্লির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। জাম্পোল্লি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, ১৯৯৮ সালের একটি পার্টিতে তিনিই মেলানিয়া ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

জাম্পোল্লির মডেল হিসাবে নিউইয়র্কে কাজের সময়ে মেলানিয়া নাউস কীভাবে তাঁর হবু স্বামীর সাথে পরিচিত হন, সেই গল্পটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী মাগা আন্দোলনের এক প্রচলিত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। গত এপ্রিলে আকস্মিক এক সংবাদ সম্মেলনে, মেলানিয়া নিজেও এই বিষয়ের অবতারণা করে পরলোকগত শিশু যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার দাবিকে "বিদ্বেষমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফাঁস হওয়া উঙ্গারোর অডিও রেকর্ডিংয়ে এই প্রচলিত কাহিনিকে সরাসরি মিথ্যা দাবি করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সন্তান কার হেফাজতে থাকবে তা নিয়ে উঙ্গারো এবং জাম্পোল্লি একটি তিক্ত আইনি লড়াইয়েও লিপ্ত আছেন।

হোয়াটসঅ্যাপের ওই রেকর্ডিংয়ে উঙ্গারোকে বলতে শোনা যায়: "এসো এবার জনতাকে সত্যিটা বলি, যে আপনি কখনোই ট্রাম্পের সাথে মেলানিয়ার পরিচয় করাননি। এটি জেফরি এপস্টেইন করিয়েছিলেন, কারণ মেলানিয়া জেফরির এসকর্ট ছিলেন। এভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। আমি এটা নিশ্চিতভাবে জানি, কারণ আমি ২০ বছর তোমার সাথে ছিলাম এবং তুমি সবসময় আমাকে বলতে, তুমি নও—এপস্টেইনই (ট্রাম্প- মেলানিয়ার) পরিচয় করিয়েছিলেন।"

এই মন্তব্যের বিষয়ে মার্কিন দৈনিক 'দ্য ডেইলি বিস্ট'-এর পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউস এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পাওলো জাম্পোল্লি ডেইলি বিস্টকে বলেছেন, "আমি মনে করি এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে সে (উঙ্গারো) আমাদের চমৎকার ফার্স্ট লেডি সম্পর্কে এমন কথা বলার সাহস দেখিয়েছে। আমি সত্যিই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত এবং আমার মনে হয় তাঁর জরুরি থেরাপি প্রয়োজন।"

জাম্পোল্লি বর্তমানে গ্লোবাল পার্টনারশিপের বিশেষ দূত এবং কেনেডি সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০২ সালের জুনে প্যারিস থেকে নিউইয়র্কগামী এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান—যা "ললিতা এক্সপ্রেস" নামে কুখ্যাত—তাতে চড়ার সময় উঙ্গারোর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর তৎকালীন এজেন্ট এবং ফরাসি মডেলিং স্কাউট জঁ-লুক ব্রুনেল, যিনি এপস্টেইনের জন্য নারী ও কিশোরী সংগ্রহকারী (রিক্রুটার) হিসেবে কাজ করতেন। উঙ্গারো ও ব্রুনেল বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প দম্পতির সামাজিক বৃত্তে চলাফেরা করতেন এবং মার-এ-লাগো-র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে তাঁদের ছবিও রয়েছে।

উঙ্গারো গত বছরও সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, জাম্পোল্লি ওয়াশিংটনে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্তান হেফাজতের বিরোধের জেরে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেফতার করিয়েছেন। তবে জাম্পোল্লি এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উভয়েই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।

উঙ্গারোর 'এক্স' অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা (যা পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়) এই সর্বশেষ দাবিটি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। উঙ্গারো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনে একটি ক্ষমতাশালী পদ পাওয়ার পর জাম্পোল্লি মেলানিয়াকে এবং মেলানিয়া জাম্পোল্লিকে "আড়াল" করার এক সমঝোতা করে চলেছেন।

অভিযোগের বিপক্ষে মেলানিয়া ও জাম্পোল্লির অবস্থান

চলতি বছরের ৯ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলন করে যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কোনোপ্রকার সম্পর্ক না থাকার দাবি করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এই দাবিটি মেলানিয়া ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বক্তব্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এপ্রিল মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মেলানিয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন: "আমি এপস্টেইনের ভিকটিম নই। এপস্টেইন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেননি। ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি পার্টিতে ভাগ্যের জোরে আমার স্বামীর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। আমাদের এই প্রথম দেখার বিস্তারিত বিবরণ আমার 'মেলানিয়া' বইটিতে নথিবদ্ধ আছে। ২০০০ সালে ডোনাল্ড এবং আমি একসঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় প্রথমবার এপস্টেইনের সাথে আমার দেখা হয়। তার আগে আমি কখনো এপস্টেইনের সাথে দেখা করিনি এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না।"

সে সময় মেলানিয়া ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন প্রতিরক্ষামূলক বিবৃতি দিয়েছিলেন তা স্পষ্ট ছিল না। এমনকি তাঁর এই বক্তব্যে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পও কিছুটা অবাক হয়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল। তবে একই সময়ে উঙ্গারোর পক্ষ থেকে মেলানিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের রিপ্লাইতে বেশ কিছু পোস্ট করা শুরু হয়, যেখানে উঙ্গারো মেলানিয়াকে চেনেন বলে দাবি করেন এবং "সবকিছু ফাঁস করে দেওয়ার" হুমকি দেন। গত এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে উঙ্গারো কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়েই বলেছিলেন, "তিনি (মেলানিয়া) জানেন যে আমি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি।"

তবে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিপত্র অনুসারে, এপস্টেইনের একজন সাবেক সহকারীও ইতঃপূর্বে এফবিআই-কে জানিয়েছিলেন যে, এপস্টেইনই ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয় করিয়ে দেন। তা সত্ত্বেও জাম্পোল্লি নিজের দাবিতে অটল রয়েছেন। ডেইলি বিস্টকে দেওয়া আগের এক সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, "কোনো আইনজীবী ছাড়াই আমি এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে কংগ্রেসে যেতে রাজি আছি। আমি শুধু বলেছিলাম: 'মেলানিয়া, ইনি ডোনাল্ড; ডোনাল্ড, ইনি মেলানিয়া'—এবং তারপর আমি ওই টেবিল ছেড়ে চলে যাই কারণ— অনুষ্ঠানের্থলে আমার ৩০০ জন অতিথি ছিল।"

এই অডিও রেকর্ডিংটি প্রথম পোস্ট করেন স্বতন্ত্র সাংবাদিক অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুস। তিনি জানান, তাঁকে এটি পোস্ট করতে এবং জাম্পোল্লিকে ট্যাগ করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে গত সোমবার পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। অ্যান্ড্রুস পরে লেখেন, নেপথ্যে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে চলেছে এবং তিনি কেবল একজন বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করছেন।

জাম্পোল্লি জানিয়েছেন, তাঁর আইনজীবীরা এই মানহানিকর পোস্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি আরো দাবি করেছেন, উঙ্গারোর ছড়ানো এই অডিওটি মূলত এআই-জেনারেটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। তবে সাংবাদিক অ্যান্ড্রুস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "এই লড়াইয়ে আপনি জিতবেন না। আমার কাছে প্রচুর কন্টেন্ট আছে এবং আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি যে এগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%