ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ দালালের কারাদণ্ড


ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ দালালের কারাদণ্ড

রাজধানীর ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে (ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২) চলাকালীন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দালালচক্রের ৪ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই অভিযানটি গ্রাহকদের হয়রানি এবং প্রতারণা বন্ধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

বুধবার বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত-৫ এ অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে আদালতে তারা দোষ স্বীকার করায় তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন যা মো. আব্দুস সালাম, মো. পিন্টু, নুর মোহাম্মদ এবং মো. ইয়াছিন আরাফাত। তাদের মধ্যে দু’জনকে ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য দু’জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযানের সময় প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

এই বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই সাংবাদিকদের বলেন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা বিআরটিএ অফিসে আগত গ্রাহকদের দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান চলতে থাকবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বিআরটিএতে সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা যদি সরাসরি বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাহলে তারা দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিযান অব্যাহত থাকলেও গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


অভিযান অব্যাহত থাকলেও গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের নদী, ঝরণা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও এক প্রভাবশালী চক্র দিনের বেলায় এবং রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা এবং হালচাটি এলাকা সহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কাজে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলা পর্যন্ত সাহস পায় না। গত ২৪ জুন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সরেজমিনে কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকায় কালঘোষা নদী থেকে অন্তত ১০ জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বনরানী এলাকার একটি পাহাড়ি ঝরণা থেকেও দুই-তিনজনকে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কিছুদিন ওই কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার’ (সোয়ান)-এর সভাপতি মো. নাইম ইসলাম মন্তব্য করেন, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অব্যবস্থাপনার কারণে বালু উত্তোলন পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী অভিযোগ করেছেন যে, এভাবে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের পেছনে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘদিন এ কার্যক্রম চলতে পারতো না। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান। তিনি জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ কাজে জড়িত নয়। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত সোমবার ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযানে নামা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হচ্ছে এবং পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিশালে আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


ত্রিশালে আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাগান ইসলামীয়া আলিম মাদরাসায় ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা, দোয়া মাহফিল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ অনুষ্ঠানটি বুধবার (২৪ জুন) মাদরাসার মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন বাগান ইসলামীয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফয়জুর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এইচ এম জোবায়ের হোসাইন। মাদরাসার আরবি প্রভাষক মো. আব্দুল হামিদ এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম, হোসনে আরা বেগম, মো. শাহিনুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, এনামুল হক, প্রভাষক নূরজাহান আক্তার, সিনিয়র শিক্ষক এ.কে.এম. আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক হাবিবুল ইসলাম, কামরুন্নাহার পলি, সিনিয়র শিক্ষক মো. হারুন-অর-রশিদ, নার্গিস আফরোজ, সহকারী মৌলভী ছাইফুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ যাতে এছাহাক আলী, সহকারী মৌলভী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম, আরবি প্রভাষক মোহাম্মদ আলী, সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, ইবতেদায়ি প্রধান আনছারুল হক, সহকারী মৌলভী হেলেনা খাতুন এবং সহকারী শিক্ষক জয়নব আজার প্রমুখ।

বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নৈতিকতা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তারা শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দেশ, জাতি ও দ্বীনের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের মাঝে স্মারক ক্রেস্ট ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এরপর তাদের সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি ইসরাইলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি ইসরাইলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং জাতিগত নির্মূল মতাদর্শকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি গ্রুপ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা প্রধান, বিচারক ও বুদ্ধিজীবীসহ অনেকেই রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ফাঁস হওয়া চিঠিতে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ইসরাইলের সব প্রধান নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান, সাবেক বিচারক, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী এবং দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ঔপন্যাসিকসহ কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারকে ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়েছেন। চিঠিতে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং লাশের অবমাননার মতো ঘটনার উল্লেখ করে অবিলম্বে ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি উপভোগ করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি জাগরণী বার্তা এবং চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জুদিয়া ও সামারিয়ায় (ইসরায়েলের ভাষায় পশ্চিম তীর) বিস্তার লাভ করা ইহুদি সন্ত্রাসবাদ অবিলম্বে নির্মূল করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীরা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তাদের বাধ্য করতে ইসরায়েলের উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। ফাঁস হওয়া চিঠিটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, যাতে জাতিগত নির্মূল ও ভবিষ্যতে অঞ্চলটিকে সংযুক্ত করার রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, এটি কেবল সেনাবাহিনী বা পুলিশের ব্যর্থতা নয়; বরং সরকারের একটি সুস্পষ্ট নীতির অংশ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে দিচ্ছে, যাতে ইহুদি উগ্রপন্থীদের সহিংসতা অব্যাহত থাকে। চিঠিতে উনিশ ও বিশ শতকে পূর্ব ইউরোপে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী অনেক ক্ষেত্রে এই সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি কিছু ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণও করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিটের সদস্য, আংশিক সামরিক পোশাকধারী ব্যক্তি এবং সেনাবাহিনী বা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় থেকে অস্ত্র পাওয়া লোকজনও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) স্পষ্ট নীতি হলো ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অপরাধগুলো উপেক্ষা করা। বহু ঘটনায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই এসব অপরাধে জড়িত।’ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অন্তত এক-চতুর্থাংশ শিশু। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ও এহুদ বারাক। এছাড়া সাবেক প্রতিরক্ষা ও বিচারমন্ত্রী, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, শিন বেত এবং পুলিশের সাবেক প্রধানসহ ৩০ জনের বেশি সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এতে সই করেছেন। রাজনীতি ও নিরাপত্তা খাতের বাইরে সইকারীদের মধ্যে রয়েছেন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ডেভিড গ্রসম্যান, নোবেলজয়ী রসায়নবিদ ডেভিড কর্নবার্গ, একজন অস্কারজয়ী এবং ইসরাইল পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়া সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, বিচারক, সরকারি আইন উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, র‌্যাবাই (ইহুদিদের ধর্মীয় গুরু বা শিক্ষক) এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতেরাও চিঠিতে সই করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সহিংসতা-বিরোধী বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদি তার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকে। স্বাক্ষরকারীরা বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান কমান্ডার জেনারেল আভি ব্লুথের কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘যখন এসব উগ্রপন্থীর পরিচয় ও অবস্থান আপনাদের জানা এবং তাদের সংখ্যা কয়েকশ বলে ধারণা করা হয়, তখনও কেন তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না?’ চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আর্থিক, রাজনৈতিক ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে সরকার কার্যত দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রায়ই একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে হামলাকারীদের বিচারের বাইরে রাখছে। নেতানিয়াহুর গত বছরের একটি মন্তব্যও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘কয়েক ডজন কিশোরের কাজ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। স্বাক্ষরকারীদের মতে, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চিঠিতে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি এবং পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভির ভূমিকাকেও প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে এই চিঠি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে অপ তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনি. সাংবাদিক সুমন চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে অপ তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনি. সাংবাদিক সুমন চৌধুরী

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির সভাপতি মোঃ সুমন চৌধুরী।

বক্তব্যে সুমন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর ও গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশায় ছোট-বড় কোনো বিভাজন নেই; বরং সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একশ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এদের অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

সম্প্রতি সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে, তিনি সংগঠন ও মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, গাজীপুরের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যদি কোনো ধরনের সাংগঠনিক দুর্বলতা না থাকে, তাহলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এতে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং অপপ্রচারের প্রবণতাও কমবে।

তবে বক্তব্যে সতর্ক করে বলা হয়, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি সাংবাদিকদেরও নিজেদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো ব্যক্তি বা সংগঠনের অযথা বদনাম করেন না; বরং তার সততা ও কর্মই তাকে মূল্যায়নের মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পরিশেষে, দেশের সকল সৎ ও পেশাদার সাংবাদিককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সত্য প্রকাশ এবং নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, “সত্য সবসময়ই সত্য। মিথ্যা ও অপপ্রচার সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%