প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির সভাপতি মোঃ সুমন চৌধুরী।
বক্তব্যে সুমন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর ও গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশায় ছোট-বড় কোনো বিভাজন নেই; বরং সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একশ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এদের অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে, তিনি সংগঠন ও মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, গাজীপুরের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ অবস্থায় গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যদি কোনো ধরনের সাংগঠনিক দুর্বলতা না থাকে, তাহলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এতে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং অপপ্রচারের প্রবণতাও কমবে।
তবে বক্তব্যে সতর্ক করে বলা হয়, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি সাংবাদিকদেরও নিজেদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো ব্যক্তি বা সংগঠনের অযথা বদনাম করেন না; বরং তার সততা ও কর্মই তাকে মূল্যায়নের মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পরিশেষে, দেশের সকল সৎ ও পেশাদার সাংবাদিককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সত্য প্রকাশ এবং নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, “সত্য সবসময়ই সত্য। মিথ্যা ও অপপ্রচার সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন