মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১১:৪৬ এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আড্ডাবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে এক অবহেলিত মানুষ ঘোরাফেরা করছেন, যাকে স্থানীয় অনেকেই ‘ধর্ম’ নামে চেনেন এবং অমুসলিম (হিন্দু) বলে অভিহিত করেন। তবে পর্দার আড়ালের সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আসলে সনাতন ধর্ম পরিবর্তন করে মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে মুসলিম হয়েছেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাঁর বর্তমান নাম আব্দুল কাইয়ুম।
পৃথিবীতে আব্দুল কাইয়ুমের আপন বলতে কেউ নেই। নিঃসঙ্গ এবং নিঃস্ব এই মানুষটির জীবনের এখন একটি মাত্র শেষ ইচ্ছা ও আকুতি রয়েছে—তিনি মারা যাওয়ার পরে যেন তাঁকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয় এবং তাঁর জানাজার নামাজ পড়া হয়।
লোকচক্ষে আড়ালে থাকা এক নীরব সত্য হলো, আড্ডাবাজারের অধিকাংশ মানুষ তাঁকে পূর্বের ‘ধর্ম’ নামেই চেনেন এবং ভুলবশত অমুসলিম বলে মনে করেন। কিন্তু তিনি যে মনে-প্রাণে একজন মুসলিম, এই আসল সত্যটি অনেকেই জানেন না। একাকী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর মনে বড় একটা ভয় কাজ করছে—তিনি মারা গেলে হয়তো কেউ তাঁকে মুসলিম হিসেবে দাফন করবে না। এই আশঙ্কা থেকেই তাঁর এই আকুল আবেদনটি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি তাঁর আকুল আবেদনও রয়েছে। যেহেতু এই পৃথিবীতে তাঁর খোঁজ নেওয়ার মতো কোনো আত্মীয় বা পরিবার নেই, তাই তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং আড্ডাবাজারের সচেতন মুসলিম সমাজের কাছে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আব্দুল কাইয়ুমের এই শেষ ইচ্ছাটি যেন পূরণ হয়, সেই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আগাম দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। একজন মুসলিম হিসেবে তাঁর শেষ বিদায় নেওয়া তাঁর ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার। পাশাপাশি, অসহায় ও সহায়সম্বলহীন এই মানুষটি বর্তমানে অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। বিত্তবান ও মানবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ যদি তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে তাঁর শেষ জীবনটা কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে। আসুন, আমরা মানবিকতার দেয়াল হয়ে এই নিঃসঙ্গ মানুষটির পাশে দাঁড়াই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ বছর এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সোশ্যাল বিজনেস ডে ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এমবিএসটিইউ)-এর প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট বক্তা, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তাদের প্রদান করা হয়।
এমবিএসটিইউ-এর প্রতিনিধিদলে ছিলেন মোঃ আসিফুর রহমান (ব্যবস্থাপনা বিভাগ), আশরাফ আন্তার (ব্যবস্থাপনা বিভাগ), মোঃ সাফিন (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ) এবং আয়েশা মোহাম্মদ (হিসাববিজ্ঞ্যান বিভাগ)।
প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ব্যবসা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি ধর্মীয় নেতারা।
মামদানির মন্তব্যের কারণ হলো, তিনি ইসরাইলপন্থি লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে (আইপ্যাক) ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেছেন। গত সপ্তাহে এক রাজনৈতিক সমাবেশে মামদানি আইপ্যাকের নির্বাচনী ব্যয় ও সুপার প্যাকের প্রভাবের সমালোচনা করতে গিয়ে সংগঠনটিকে ‘মনস্টার্স’ বা ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মামদানি বলেন, তার মন্তব্য কোনো জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং রাজনীতিতে বিপুল অর্থের প্রভাবের সমালোচনা করার অংশ হিসেবে ইতালীয় চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামশির এক বাক্যাংশ ব্যবহার করেছিলেন।
মামদানি আরও বলেন, তিনি এখনও মনে করেন আইপ্যাক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রভাব বিস্তার করছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে যে অবস্থান তারা নিয়েছে, সেটির সমালোচনা করা বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অংশ বলেও তিনি জানান। তাই, তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
মামদানির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৭০০-এর বেশি রাবই একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তারা বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন ভাষা ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য উদ্বেগজনক’।
তাদের দাবি, মামদানির মন্তব্য শুধু আইপ্যাককেই নয়, বৃহত্তর ইহুদি সম্প্রদায়কেও ‘লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের ইসরাইলের পক্ষে টানতে বিতর্কিত ও শক্তিশালী ইসরাইলপন্থি লবিং গ্রুপ আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) বরাবরই ভূমিকা রেখে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। বর্তমানে অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
আইপ্যাক সাধারণত সদস্যদের ইসরাইলবিরোধী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান এবং ইসরাইলপন্থিদের সমর্থনের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি আরও একটি লবিং গ্রুপ রয়েছে, যার নাম ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি)। একে সংক্ষেপে ‘সুপার প্যাক’ও বলা হয়। মার্কিন অর্থদাতারা ইচ্ছামতো এই সুপার প্যাকে অর্থ দিতে পারেন, যে অর্থ প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় খরচ করা হয়।
তবে এবারের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাক বিপুল অর্থ খরচ করলেও ফলাফল এসেছে মিশ্র। আইপ্যাকের মুখপাত্র প্যাট্রিক ডরটন দাবি করেছেন, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর একটি প্রান্তিক বাম অংশ প্রাইমারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। আইপ্যাক কেবল দলের ইসরাইলপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে রক্ষা করছে।
যখন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন বড় দাতাদের গোপন অর্থ দিয়ে ইসরাইলকে রক্ষা করার এই চেষ্টা আইপ্যাককে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যেমন নিউ জার্সির সাবেক প্রতিনিধি টম ম্যালিনোস্কি ইসরাইলের নিরাপত্তার পক্ষে হলেও ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সমালোচক ছিলেন।
এ কারণে তাকে হারাতে আইপ্যাক ২৩ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে। বিজ্ঞাপনগুলোতে ইসরাইলের টার্গেট না করে ম্যালিনোস্কির অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর আক্রমণ করা হয়। তবে আইপ্যাকের পছন্দের প্রার্থীও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। ডেমোক্র্যাটরা সেখানে প্রগতিশীল প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়াকে মনোনীত করে।
একইভাবে শিকাগো অঞ্চলের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড্যানিয়েল বিসও ইসরাইলে অনিয়ন্ত্রিত সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করায় আইপ্যাক তার বিরুদ্ধে মাঠে নামে। বিস জরিপ করে দেখেন যে তার এলাকার ৫১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার আইপ্যাককে অপছন্দ করেন এবং মাত্র ১৭ শতাংশ পছন্দ করেন। বিস তার নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে আইপ্যাকের এই বিরোধিতাকেই তুলে ধরেন এবং গত মার্চের প্রাইমারিতে জয়লাভ করেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল ও নিউইয়র্ক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে অতিরিক্ত চার শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ কারণে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের বয়স আট মাসের নিচে রয়েছে। শনিবার সকালে হাসপাতালে থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বিষয়টি নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে দুজন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দা এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা।
গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যারা হামের উপসর্গে ভুগছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ২২৬ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং এই সময়ে ৯ শিশুর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৯৪ শিশু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শনিবার (২৭ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর ১টি বিশেষ অভিযানে ৪৪৩ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।
আজ ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ মাসুদপুর বিওপি কর্তৃক ১টি অভিযানে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের চৌধুরী স্মরণী গ্রাম হতে ৪৪৩ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,৭৭,২০০/- (এক লক্ষ সাতাত্তর হাজার দুইশত) টাকা। এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।
এছাড়াও, ৫৩ বিজিবি কর্তৃক চলতি জুন মাসে ১ জন আসামীসহ ১১৬১ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ১৮৭ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫,৫১,২০০/- (পাঁচ লক্ষ একান্ন হাজার দুইশত) টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশ ইন প্রতিরোধ করা সহ যেকোনো অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে এবং বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সকল সময়ে তৎপর রয়েছে ও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ