১১:৫২ এম
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি ধর্মীয় নেতারা।
মামদানির মন্তব্যের কারণ হলো, তিনি ইসরাইলপন্থি লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে (আইপ্যাক) ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেছেন। গত সপ্তাহে এক রাজনৈতিক সমাবেশে মামদানি আইপ্যাকের নির্বাচনী ব্যয় ও সুপার প্যাকের প্রভাবের সমালোচনা করতে গিয়ে সংগঠনটিকে ‘মনস্টার্স’ বা ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মামদানি বলেন, তার মন্তব্য কোনো জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং রাজনীতিতে বিপুল অর্থের প্রভাবের সমালোচনা করার অংশ হিসেবে ইতালীয় চিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামশির এক বাক্যাংশ ব্যবহার করেছিলেন।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
মামদানি আরও বলেন, তিনি এখনও মনে করেন আইপ্যাক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রভাব বিস্তার করছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে যে অবস্থান তারা নিয়েছে, সেটির সমালোচনা করা বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অংশ বলেও তিনি জানান। তাই, তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
মামদানির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৭০০-এর বেশি রাবই একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তারা বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন ভাষা ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য উদ্বেগজনক’।
তাদের দাবি, মামদানির মন্তব্য শুধু আইপ্যাককেই নয়, বৃহত্তর ইহুদি সম্প্রদায়কেও ‘লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের ইসরাইলের পক্ষে টানতে বিতর্কিত ও শক্তিশালী ইসরাইলপন্থি লবিং গ্রুপ আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) বরাবরই ভূমিকা রেখে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। বর্তমানে অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
আইপ্যাক সাধারণত সদস্যদের ইসরাইলবিরোধী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান এবং ইসরাইলপন্থিদের সমর্থনের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি আরও একটি লবিং গ্রুপ রয়েছে, যার নাম ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি)। একে সংক্ষেপে ‘সুপার প্যাক’ও বলা হয়। মার্কিন অর্থদাতারা ইচ্ছামতো এই সুপার প্যাকে অর্থ দিতে পারেন, যে অর্থ প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় খরচ করা হয়।
তবে এবারের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাক বিপুল অর্থ খরচ করলেও ফলাফল এসেছে মিশ্র। আইপ্যাকের মুখপাত্র প্যাট্রিক ডরটন দাবি করেছেন, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর একটি প্রান্তিক বাম অংশ প্রাইমারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। আইপ্যাক কেবল দলের ইসরাইলপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে রক্ষা করছে।
যখন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন বড় দাতাদের গোপন অর্থ দিয়ে ইসরাইলকে রক্ষা করার এই চেষ্টা আইপ্যাককে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যেমন নিউ জার্সির সাবেক প্রতিনিধি টম ম্যালিনোস্কি ইসরাইলের নিরাপত্তার পক্ষে হলেও ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সমালোচক ছিলেন।
এ কারণে তাকে হারাতে আইপ্যাক ২৩ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে। বিজ্ঞাপনগুলোতে ইসরাইলের টার্গেট না করে ম্যালিনোস্কির অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর আক্রমণ করা হয়। তবে আইপ্যাকের পছন্দের প্রার্থীও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। ডেমোক্র্যাটরা সেখানে প্রগতিশীল প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়াকে মনোনীত করে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
একইভাবে শিকাগো অঞ্চলের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড্যানিয়েল বিসও ইসরাইলে অনিয়ন্ত্রিত সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করায় আইপ্যাক তার বিরুদ্ধে মাঠে নামে। বিস জরিপ করে দেখেন যে তার এলাকার ৫১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার আইপ্যাককে অপছন্দ করেন এবং মাত্র ১৭ শতাংশ পছন্দ করেন। বিস তার নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে আইপ্যাকের এই বিরোধিতাকেই তুলে ধরেন এবং গত মার্চের প্রাইমারিতে জয়লাভ করেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল ও নিউইয়র্ক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন