ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মমতার তৃণমূল কার্যালয় দখলে নিল বিদ্রোহীরা, নতুন সভাপতি ঘোষণা


মমতার তৃণমূল কার্যালয় দখলে নিল বিদ্রোহীরা, নতুন সভাপতি ঘোষণা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও একটি নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে উঠেছে। কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবন’ বিদ্রোহী অংশের নেতারা দখল করে নিয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল বেলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দাবি করে তারা নিজেদেরকে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে, প্রধান কার্যালয়টি দখলে নেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এটি জানা যায়।

আরও পড়ুন: ৮৭ বছর বয়সে চলে গেলেন ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী

জানা যায়, কার্যালয়টি দখল করার পর কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত ভবনের পুরোনো ব্যানার তুলে ফেলা হয়। নতুন ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চের সামনে তারা উপস্থিত হয়ে দাবি জানিয়ে বলেন, তারা মূল দল এবং নির্বাচনি প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ তাদের প্রাপ্য। এর পর, দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর শুক্রবার বিকেলে তারা সরাসরি দলীয় দপ্তরের দখল নেন।

এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আখতারুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। এ সময় ভবনে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে ঋতব্রতরা ভিতরে প্রবেশ করার পর তিনি ভবন ছেড়ে চলে যান।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় শিক্ষককে মক্তব শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের এই নতুন দলে পরামর্শদাতা হিসেবে থাকবেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন কিনা, তা দলের নতুন কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২১ এম


সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

সাতক্ষীরায় বিজিবির একটি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা এবং কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা ও হিজলদী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোমরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মন্দির এবং কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি, হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়াতে বড়ালি নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করে বিজিবির সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল ভাগনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৩ এম


মামার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল ভাগনের

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মামার লাঠির আঘাতে ভাগনে আবু বকর (৩০) নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত আবু বক্কর হচ্ছেন উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শিশিরকুন্ডু গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক জানান, শিশিরকুন্ডু গ্রামের আবু বক্করের সঙ্গে তার মামা সিরু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো।

গত ৩০ জুন রাতে বিরোধপূর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটা নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় মামা সিরু মিয়া লাঠি দিয়ে আবু বক্করের মাথায় আঘাত করেন।

লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে প্রথমে আবু বক্করকে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মারা যান আবু বক্কর।

তিনি আরও জানান, এই হত্যার ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি। যদি মামলা রেকর্ড হয়, তাহলে জড়িতদের দ্রুত আইনগতভাবে দায়ের করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন নামে আসছে ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’, বাড়ছে কার্যপরিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


নতুন নামে আসছে ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’, বাড়ছে কার্যপরিধি

পুলিশের বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চেয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যুক্তি প্রদান করেছেন যে, দেশে এবং বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আরও বিস্তৃত কাঠামো প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি স্টার এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার জন্য এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বও অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, নতুন নামে পরিচিত হলে অতীতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সুবিধা লাভ করবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার এবং তথ্যের দ্রুত প্রবাহের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন যে বদলে গেছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালের ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যে ইউনিটটি যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬২০ জন। এরপর থেকে এটিইউ সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে কার্যরত রয়েছে।

এটিইউর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আরো আধুনিক কৌশলে হামলার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে। এসব গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।

এই প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টায় লিপ্ত। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করেও গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করছে।

এসব পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এটিইউকে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা পালন করবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এটির ফলে বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হবে এবং দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, এই নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে এটিইউ এবং সিটিটিসির মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্থার ওপর অতিরিক্ত ও ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব চাপানো হলে তাদের মূল কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এটিইউর এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষায়িত সংস্থাকে যদি নানা ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে তাদের মূল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, নাম পরিবর্তন করে যদি মাত্রা বাড়ানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটির বর্তমান দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে জঙ্গিবাদ দমনে ইউনিটটির কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখা এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ৯০ দিনের জন্য মজুত সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এই জ্বালানি সরবরাহ করবে, যার ব্যয়ের পরিমাণ ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল ক্রয়ের কাজ করছে। সম্প্রতি, বিপিসির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। এ কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসি একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রদান করে। পরবর্তীতে সেটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কমিটি ইতোমধ্যে অনুমোদন প্রদান করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে সেটি বিপিসির কাছে প্রেরণ করেছি। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) প্রদান করবে। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে শুরু করবে।

বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের কারণে পৃথিবীজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌছেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের একটি সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা রাখা, শিল্পোৎপাদন ও কৃষিকাজ সচল রাখা এবং আকাশপথের যোগাযোগ সঠিক রাখতে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, গত ১০ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার চিঠি ১৭ জুন পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ ইস্যু করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির পর খুব দ্রুতই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনো মূল্যে দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রাখা হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত আছে। চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়মিত তেল আমদানি করা হবে।’

আর্থিক ব্যয় ও ডলারের হিসাব :

গত ২৪ মে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসির এক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন-আগস্ট সময়সীমার মধ্যে চাহিদার নিরিখে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্রের পরিমাণে কিছুটা কমবেশি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের গত ১৩ মে তারিখের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার সমান ১২৩.২৫ টাকা) অনুযায়ী এই আমদানি হতে পারে মোট ব্যয় ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং ডলারের মূল্যের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হয়ে যেতে পারে। এই আমদানির খরচ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে মেটানো হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদ্বেগজনক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি:

বৈশ্বিক উদ্বেগজনক প্রেক্ষাপট এবং বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে বিপিসির প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার অভাবে জাহাজগুলো দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, ফলে ট্রানজিট সময় এবং পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম এবং জাহাজ ভাড়া দাবি করছে।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ২০২২ সালে ডিজেলের সর্বোচ্চ দর প্রতি ব্যারেল ১৭৮.৯১ ডলার থাকলেও, ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তা রেকর্ড ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌছেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের গড় দর ৮৫.৯৯৭ ডলার থাকলেও এপ্রিলে তা ১১৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭.৯০৪ ডলার হয়ে গিয়েছিল।

বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবার প্রিমিয়াম কিছুটা বাড়লেও, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত এই দরটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌক্তিক মনে করছে বিপিসির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

দেশে জ্বালানির ঘাটতি নেই :

জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ৬০ দিনের জন্য যথেষ্ট মজুত রয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যে এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে যুগ্মসচিব মনির হোসেন বাসসকে বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের বাধা বা সংকটের আশঙ্কা নেই।’

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজ চলছে। যেকোনো মূল্যে শিল্প এবং কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%