০২:২৪ পি.এম
ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে নেইমার জুনিয়র তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গেছেন। ইউরোপে প্রবেশের পর থেকে ফুটবলবিশ্ব তাকে নতুন উচ্চতায় চিনতে শুরু করে। নেইমারের সেরা সময় কোন ক্লাবে কেটেছে—এই প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ মানুষের উত্তর হবে ‘অবশ্যই বার্সেলোনায়!’ কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান তারকার নিজস্ব মূল্যায়ন এই ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
২০১৩ সালের জুনে রেকর্ড এবং বিভিন্ন আলোচনার মধ্যে সান্তোস ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। তার অভিষেক মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বিশেষ কিছু করতে পারেননি। কিন্তু পরের মৌসুমে, ২০১৪-১৫ মৌসুমে, লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ ‘এমএসএন’। এই ত্রয়ীর অসাধারণ ফর্ম এবং লুইস এনরিকের দক্ষ কোচিংয়ে ২০১৫ সালে বার্সেলোনা ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের স্বাদ পায়, যা কাতালান ক্লাবটির ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত।
বার্সেলোনায় চার বছরের সময়ে নেইমার দুটি লা লিগা, তিনটি কোপা দেল রে এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা অর্জন করেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ফাইনালে তার পায়ের মাধ্যমে দলের তৃতীয় এবং জয়সূচক গোলটি আসে। সব মিলিয়ে বার্সার জার্সিতে ১৮৬ ম্যাচে ১০৫ গোল করার পর ২০১৭ সালে হঠাৎ করে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটান তিনি।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়
এরপর নেইমার রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) চলে যান। প্যারিসে তিনি ট্রফির দিক থেকে সফল সময় কাটান। ক্লাবটির হয়ে ১৭৩ ম্যাচে ১১৮ গোল করেন এবং পাঁচটি লিগ ওয়ান, তিনটি ফরাসি কাপ, দুটি লিগ কাপ এবং তিনটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অর্জন করেন। তবে পিএসজির দীর্ঘদিনের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি; ২০২০ সালের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে প্যারিস অধ্যায় শেষ করে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল হিলালে যোগ দেন তিনি।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নেইমারের সোনালী সময় বার্সায় কাটলেও, শিরোপার তালিকা বা সাফল্যের চেয়ে তিনি নিজের ফুটবলার হিসেবে বিকশিত হওয়ার সময়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে জানিয়েছেন, তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় বার্সেলোনায় নয়, বরং পিএসজিতেই ছিল।
নিজের এই ব্যাখ্যার পেছনের কারণ জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি জানি লোকেরা এমএসএনের সঙ্গে বার্সেলোনায় কাটানো সময়টাকেই আমার সেরা সময় বলে মনে রাখবে। কিন্তু একজন ফুটবলার হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়নে, প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে কাটানো সময়টিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা। ওই বছরগুলোতে আমি নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিময় এবং মাঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান একজন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলাম।’
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন