ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর মর্মান্তিকভাবে হত্যার অভিযোগে আসামির মৃত্যুদণ্ড


বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর মর্মান্তিকভাবে হত্যার অভিযোগে আসামির মৃত্যুদণ্ড

রাঙামাটিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকা হাছিনা বেগম সুমীকে (২৮) ধর্ষণ ও পরে হত্যার ঘটনায় মো. মাহিবুর কামাল (২৩) ওরফে মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। এ ছাড়া, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০২২ সালের ১১ মার্চ, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের নতুনবাজার এলাকায়।

রায় ঘোষণার সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) প্রতীম রায় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম পনির, মোখতার আহম্মদ, শফিউল আলম মিয়া ও মো. মাসুম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

আদালত সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার মদন থানার কাইটাইল গ্রামের মো. মনির উদ্দিনের ছেলে মহিবুল্লাহ কাপ্তাই নতুনবাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। এ সূত্রে তার পরিচয় হয় হাছিনা বেগম সুমীর সঙ্গে। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

হাছিনা কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাইখালীবাজার ফেরিঘাট কাজীপাড়ার মৃত আব্দুর রশিদ ও আমেনা বেগমের মেয়ে। তিনি পাশের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দোভাষীবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ঘটনার দিন হাছিনা কাপ্তাইয়ের নতুনবাজারে গেলে আর বাসায় ফেরেননি। পরে তার স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। পরদিন ১২ মার্চ কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে আগুনে পোড়া ও বিকৃত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মা আমেনা বেগম লাশটি শনাক্ত করেন। পরে নেত্রকোনা থেকে মহিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে জানা যায়, মহিবুল্লাহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাছিনার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করতেন। একপর্যায়ে হাছিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মহিবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন। অন্য এক মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে বলেও হাছিনাকে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে হাছিনাকে নিয়ে যান মহিবুল্লাহ। সেখানে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মহিবুল্লাহ ইট দিয়ে হাছিনার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই হাছিনার মৃত্যু হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত হাছিনা বেগম সুমীর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতীম রায়। অন্যদিকে, আসামিকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা সার কারখানা আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরলেও চাপের শঙ্কা রয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


যমুনা সার কারখানা আড়াই বছর পর উৎপাদনে ফিরলেও চাপের শঙ্কা রয়ে গেছে

দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন শুরু হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ (প্রেশার) যদি অব্যাহত না থাকে, তবে যেকোনো সময় কারখানাটির উৎপাদন আবারও থমকে যেতে পারে।

কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। সেই সময় উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ ৮ কেজিতে নেমে এলে বয়লার ‘ট্রিপ’ করে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে ঠেকলে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে মুখথুবড়ে পড়ে। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে জেএফসিএল আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

অবশেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। কারিগরি প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় গ্যাস চাপ নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোর থেকে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

দ্বিগুণ দামে গ্যাস, তবুও সংশয়

দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জেএফসিএল জাপানি প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা।

জানা যায়, দীর্ঘ বন্ধের পর দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনে কারখানাটি উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

কারখানা-সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু সংযোগ থাকলেই উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব নয়; স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস এবং নির্দিষ্ট মাত্রার প্রবাহ প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জটিল ও সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে স্বস্তি, কাটবে আমদানিনির্ভরতা।

জেএফসিএল চালু হওয়ায় বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতে স্বস্তি ফিরছে। জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরের ১৯টি জেলার সার সরবরাহে এই কারখানা প্রধান ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ বন্ধের কারণে বাজারে ইউরিয়ার কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

কারখানাটি বন্ধ থাকায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হচ্ছিল, যা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কারখানাটি সচল হওয়ায় একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় ও ডলার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। সার পরিবহণ, লোড-আনলোড, ডিলার নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও সচল থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ডিএসসিসির ১৬৮ মণ্ডপে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ডিএসসিসির ১৬৮ মণ্ডপে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক পূজা মণ্ডপসমূহে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

আজ বিকেলে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে পূজা মণ্ডপসমূহে অনুদান প্রদানের আয়োজন সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি এলাকার ১৬৮টি পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদান হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজা মণ্ডপসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মাঝে অনুদানের অর্থ প্রদান করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘দেশকে রক্ষা করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের। এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়— আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

পূজার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশাসক আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শহরজুড়ে সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সীমানার ভেতরের সড়কবাতি সচল রাখা এবং ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার করার বিষয়গুলো পূজার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, পূজার তিন দিন আগে থেকে নগর ভবনে একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ডিএসসিসির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘অনুদানের অর্থের পরিমাণের চেয়েও বড় বিষয় হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আজ শহরের সকল পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের ডেকে এনে যে মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দিয়েছে, তা আমাদের পূজার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার সব পূজা মণ্ডপের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিগণ এবং সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিব্বতের হারানো সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


তিব্বতের হারানো সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন উদ্যোগ

বর্তমানে চীনের বিপুলসংখ্যক পর্যটক তিব্বতের আবহ অনুভব করতে আর সেখানে যাচ্ছেন না। বরং তারা পাশের ইউনান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটননগরী শাংগ্রি-লায় ছুটছেন। সেখানে তিব্বতি সংস্কৃতির একটি সংস্করণ উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় উপাদান ও তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার প্রভাব অনেকটাই অনুপস্থিত। হান-চীনা জনগণের জন্য সংস্কৃতির একটি পরিমার্জিত সংস্করণ তুলে ধরা হচ্ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শাংগ্রি-লার পুরনো বাজার এলাকার সরু গলিতে তিব্বতি পোশাক পরা হান-চীনা পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। বহু শতাব্দী পুরনো মঠ ও মন্দিরগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি তোলার আকর্ষণীয় পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মন্দিরে পর্যটকদের ভিড় দেখা যেত বিশাল সোনালি প্রার্থনাচক্র ঘোরাতে। প্রায় ৬৯ ফুট উঁচু এই প্রার্থনাচক্র একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছিল। বর্তমানে পর্যটকেরা ৩৫০ ফুট উঁচু একটি বৌদ্ধ স্তূপের কাছেও ছুটছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ বছর আগে এটি নির্মাণ করলেও এটিকে কার্যত ‘অ-ধর্মীয় স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা তিব্বতি সংস্কৃতির আকর্ষণ সম্পর্কে সচেতন। পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি চীনের হান জনগণের মধ্যেও তিব্বতি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ রয়েছে। দালাই লামা বর্তমানে নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, বেইজিং তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখে। ফলে তার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের নিয়ন্ত্রণ এবং এর ভবিষ্যৎ রূপ নিয়ে প্রতিযোগিতাও নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।

আড়ালেই থাকছে তিব্বতি স্বাতন্ত্র্য

দালাই লামা ১৯৫৯ সালে ভারতে নির্বাসনে যাওয়ার পর থেকে চীনের তিব্বতনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী তিব্বতি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। তার অভিযোগ, এসব নীতির মাধ্যমে তিব্বতের স্বতন্ত্র পরিচয়কে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।

শাংগ্রি-লায় সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের একটি রূপ দেখা যায়। সেখানে তিব্বতি সংস্কৃতিকে পর্যটনপণ্য হিসেবে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সাধারণ চীনা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

অর্থনৈতিক কারণে স্থানীয় তিব্বতিরা এই পর্যটননির্ভর ব্যবস্থায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, পর্যটন ও মাতসুতাকে মাশরুম সংগ্রহ ছাড়া চীনের এই দুর্গম ও ঐতিহাসিকভাবে দরিদ্র অঞ্চলে আয়ের উৎস খুবই সীমিত।

বছরের পর বছর ধরে চীনের সংখ্যালঘু জনগণের হান-প্রধান মূলধারার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত করার নীতির পর অনেক জাতিগত তিব্বতি বলছেন, তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের অনুভূতি দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে। মঠগুলোতে তরুণ ভক্তের সংখ্যা কমছে। একই সঙ্গে অনেক তিব্বতি নিজেদের ভাষা পড়তে বা লিখতেও সমস্যায় পড়ছেন।

২০০১ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরটির নাম পরিবর্তন করে শাংগ্রি-লা রাখার পর পর্যটনের দ্রুত বিস্তার ঘটে। এর আগে শহরটি গ্যালথাং বা চীনা ভাষায় ঝোংদিয়ান নামে পরিচিত ছিল। নতুন নামটি জেমস হিলটনের ১৯৩৩ সালের উপন্যাস ‘লস্ট হরাইজনের’ কাল্পনিক স্বর্গভূমির নাম অনুসারে রাখা হয়।

শাংগ্রি-লার শত শত পোশাক ও ছবি তোলার স্টুডিওর একটিতে কাজ করেন জাতিগত তিব্বতি মেকআপ শিল্পী চিমি লামো। পর্যটনের ঢলে বদলে যাওয়া নিজের শহর নিয়ে তিনি একই সঙ্গে আশাবাদী ও হতাশ। তিনি বলেন, ‘সবই নকল, কিন্তু আমরা কী করতে পারি?’

লামো পর্যটন বৃদ্ধির অর্থনৈতিক সুফলের কথা স্বীকার করেন। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভালো বিষয় এবং তিনি এর বিরোধিতা করেন না। তবে পর্যটনের এই বিকাশের সঙ্গে তিব্বতি সংস্কৃতির যে রূপটি সামনে আসছে, সেটি নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

পর্যটনের চাপে বদলাচ্ছে সংস্কৃতি

পশ্চিমা পর্যটকেরা কয়েক দশক আগে থেকেই শাংগ্রি-লায় আসতে শুরু করেছিলেন। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার লকডাউনের পর চীনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের বাইরে নতুন অভিজ্ঞতা ও অর্থপূর্ণতার সন্ধান বাড়তে থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে দুই লাখেরও কম মানুষের এই শহরে অন্তত ৩০০টি পোশাক ও ছবি তোলার স্টুডিও রয়েছে। তবে পর্যটকদের অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সত্যতা বা তিব্বতি সংস্কৃতির গভীরতা নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। লামোর ভাষায়, ‘ছবিতে পোশাকটি দেখতে ভালো লাগাই তাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা তিব্বত ১৯৫১ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসিত চীনের একমাত্র অঞ্চল, যেখানে বিদেশিদের ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত অনুমতিপত্র প্রয়োজন। দালাই লামাকে ঘিরে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে সেখানে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর। শুধু তাই নয়, চীনা নাগরিকদের জন্যও তিব্বতে ভ্রমণ বেশ কঠিন।

তিব্বতের ঐতিহাসিক রাজধানী লাসায় বিখ্যাত পোতালা প্রাসাদ রয়েছে। শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত নগরগুলোর একটি। শাংগ্রি-লায় আসা ২২ বছর বয়সী হান চীনা তরুণী ইয়ান সিনই তিব্বতের বিখ্যাত পোতালা প্রাসাদ দেখতে চান। আইনের জাতাকলে আপাতত তার কাছে শাংগ্রি-লার গ্যান্ডেন সুমৎসেলিং মঠই সেই অভিজ্ঞতার বিকল্প। শেষমেষ তিনি তিব্বতি সংস্কৃতির এই বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতির বাণিজ্যিকীকরণ

ইউনান ও ঐতিহাসিকভাবে তিব্বতি অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকায় আটটি বিলাসবহুল বুটিক হোটেল পরিচালনা করেন দাকপা কেলদেন। ভারতে তিব্বতি নির্বাসিত পরিবারে জন্ম নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী সাবেক এই বৌদ্ধ ভিক্ষুর মতে, অর্থনৈতিকভাবে এটি ভালো। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। শাংগ্রি-লায় যে তিব্বতি সংস্কৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা মূলত ‘তিব্বতের একটি কল্পিত রূপ’।

চীনের টিকটকের স্থানীয় সংস্করণে কেলদেনের প্রায় পাঁচ লাখ অনুসারী রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি পর্যটকদের সামনে তিব্বতের সেই কৃত্রিম চিত্রের বদলে ঐতিহ্যবাহী তিব্বতি সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এর জন্য তিনি বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগীত শেখানোর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের থাংকা (তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় চিত্রকর্ম) আঁকার প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেন।

এদিকে তিব্বতি সমাজও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যাযাবর জীবনধারা কমে আসছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহও কমছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জন্য তিব্বতিদের ‘হৃদয় ও মন’ জয় করার প্রচেষ্টার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নও যুক্ত। জাতিগত তিব্বতিদের আরও নগরকেন্দ্রিক ও ম্যান্ডারিনভাষী মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের অনুভূতিও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে প্রথম শাংগ্রি-লা ভ্রমণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার অন চায়না ইন দ্য ওয়ার্ল্ডের পরিচালক বেন হিলম্যান। এরপর থেকেই তিনি তিব্বতি পরিচয়ের পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, শাংগ্রি-লায় এমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, যা স্থানীয় কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে চান।

হারিয়ে যাচ্ছে সংস্কৃতি

তিব্বতি মেকআপ শিল্পী চিমি লামোর ভাষ্য, কোভিড-১৯ মহামারির আগে শাংগ্রি-লার অধিকাংশ দোকান ও রেস্তোরাঁ স্থানীয়রাই পরিচালনা করতেন। এখন বাইরের লোকজনই অন্য জায়গার আদলে তৈরি একই ধরনের পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে আসছেন।

লামো বলেন, ‘তাদের পক্ষে আসল তিব্বতের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার জায়গা আমরা। কিন্তু আসল জিনিসটি পাওয়া খুব কঠিন।’

পর্যটনের কারণে নিজের শহরের পরিবর্তন নিয়ে হতাশ হলেও লামো স্বীকার করেন, পরিবর্তন ঠেকানো কঠিন। তার ভাষায়, ‘আমরা স্থানীয়রাও বদলে যাচ্ছি। আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। এতে তিব্বতি মঠগুলোতে তরুণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে।

গত এক দশকের তুলনায় তরুণ তিব্বতিদের বৌদ্ধধর্ম নিয়ে পড়াশোনার জন্য বিদেশে যাওয়ার ওপরও কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। জাতিগত তিব্বতিদের ভাষ্য, ‘বর্তমানে এ ধরনের সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’

লহামো ও অন্য তিব্বতিদের পরিবারের আগের প্রজন্মে বহু মানুষ বৌদ্ধ ভিক্ষু হয়েছিলেন। কিন্তু নিজেদের প্রজন্মে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাদের ধারণা, পরবর্তী প্রজন্মেও বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে।

নিজে তিব্বতি ভাষা পড়তে ও লিখতে পারেন—এটিকে সৌভাগ্য মনে করেন লহামো। তবে তার মেয়েরা ম্যান্ডারিন ভাষাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং দাদির সঙ্গে তিব্বতি ভাষায় শুধু সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলতে পারে।

লহামোর ভাষায়, পরিবারগুলো এখন আগের মতো সন্তানদের মধ্যে তিব্বতি সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে পারছে না। ফলে তিব্বতি সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জ্ঞান ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। বিষয়টি দুঃখজনক হলেও তা পরিবর্তন করা কঠিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র বা এর সহযোগী রাষ্ট্র ইসরায়েলের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরান কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, আগ্রাসন প্রতিরোধে তাদের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বাত্মক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

ইব্রাহিম আজিজি উল্লেখ করেছেন, "আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি প্রস্তুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের অপেক্ষায় ট্রিগারে আঙুল দিয়ে বসে আছে আমাদের বাহিনী।"

তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাবে তারা যে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তা অতীতে তাদের দেখা যেকোনো অভিজ্ঞতার চেয়ে বহুগুণ বেশি কঠোর হবে।"

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক হুঁশিয়ারি প্রকাশিত হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%