০৭:১২ পি.এম
দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন শুরু হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ (প্রেশার) যদি অব্যাহত না থাকে, তবে যেকোনো সময় কারখানাটির উৎপাদন আবারও থমকে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ৪২০০ টাকার সারের কাজ হবে ২৩০ টাকায়: ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন
কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। সেই সময় উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ ৮ কেজিতে নেমে এলে বয়লার ‘ট্রিপ’ করে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে ঠেকলে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে মুখথুবড়ে পড়ে। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে জেএফসিএল আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে।
অবশেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। কারিগরি প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় গ্যাস চাপ নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোর থেকে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
দ্বিগুণ দামে গ্যাস, তবুও সংশয়
আরও পড়ুন: মোহনপুরে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, কৃষকরা ভোগান্তিতে
দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জেএফসিএল জাপানি প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা।
জানা যায়, দীর্ঘ বন্ধের পর দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনে কারখানাটি উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
কারখানা-সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু সংযোগ থাকলেই উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব নয়; স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস এবং নির্দিষ্ট মাত্রার প্রবাহ প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জটিল ও সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে স্বস্তি, কাটবে আমদানিনির্ভরতা।
আরও পড়ুন: লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে জয়পুরহাটে কৃষকেরা আগাম আলু চাষে ব্যস্ত
জেএফসিএল চালু হওয়ায় বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতে স্বস্তি ফিরছে। জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরের ১৯টি জেলার সার সরবরাহে এই কারখানা প্রধান ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ বন্ধের কারণে বাজারে ইউরিয়ার কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
কারখানাটি বন্ধ থাকায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হচ্ছিল, যা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কারখানাটি সচল হওয়ায় একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় ও ডলার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। সার পরিবহণ, লোড-আনলোড, ডিলার নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও সচল থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন