ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের


যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র বা এর সহযোগী রাষ্ট্র ইসরায়েলের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরান কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, আগ্রাসন প্রতিরোধে তাদের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বাত্মক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

ইব্রাহিম আজিজি উল্লেখ করেছেন, "আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি প্রস্তুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের অপেক্ষায় ট্রিগারে আঙুল দিয়ে বসে আছে আমাদের বাহিনী।"

আরও পড়ুন: এল নিনোর প্রভাবে পেরুর দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাবে তারা যে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তা অতীতে তাদের দেখা যেকোনো অভিজ্ঞতার চেয়ে বহুগুণ বেশি কঠোর হবে।"

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক হুঁশিয়ারি প্রকাশিত হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক এডভাইজার আর্ল রবার্ট মিলারের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এই তথ্য প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এদেশে কেয়ার বাংলাদেশ একটি সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম ছিল এবং তারা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করতো।

তিনি এসময় কেয়ার বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানান।

প্রতিনিধিদল জানায়, কেয়ার বাংলাদেশ দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি, তৈরি পোশাক খাতে নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এই খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

সংগঠনটি কৃষি প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান তৈরি এবং নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করতেও সক্রিয় রয়েছে।

তারা আরো জানান, দেশে কেয়ার বাংলাদেশের চারটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে এবং এই সেন্টারগুলোর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি তাদেরকে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

এসময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। কেয়ার বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে আইনগত বাধা নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে আইনগত বাধা নেই

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সম্পর্কিত হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছেন। এর ফলে প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়টি স্থগিত থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে সাড়ে ১৩ হাজার শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকার সময়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় পরিবর্তন আনে সরকার। গত ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। এতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর পরিশিষ্ট-ঘ (ক)-এর ‘অভিজ্ঞতা ও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা’ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত বিধানে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত হিসেবে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়। পূর্বে এসব পদে নিয়োগের জন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল।

এই সংশোধন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গাইবান্ধার ফলগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান মানিকসহ ৪৬ জন শিক্ষক। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এদিকে রুল বিচারাধীন থাকার মধ্যে ২৯ জানুয়ারির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ২৫ মার্চ নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৯ হাজার ৭০৮, কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনে ১১২ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ রয়েছে।

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনকারীরা সম্পূরক আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

পরে এসব রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে নীতিমালায় সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করা ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সংক্রান্ত বিধান অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। মঙ্গলবার আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তবে রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ৪৬টি পদ বাদে বাকি পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে পাঁচ প্রস্তাব উত্থাপন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে পাঁচ প্রস্তাব উত্থাপন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা সফরে আসা ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাত্তাকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করার জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য Visa-on-Arrival পুনরায় চালু করা, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণ ঔষধজাত পণ্য আমদানি করা, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশ বান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ ক্রয় করা, বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল পণ্যের বাজার হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে এতদসংক্রান্ত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার জন্যও আহ্বান জানান।

ঢাকা সফরের নিমন্ত্রণ ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা বাংলাদেশের প্রস্তাবসমূহকে স্বাগত জানান এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে, তিনি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান চালু করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তার দূরদর্শী প্রস্তাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থনের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কবির ইন্দোনেশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের ASEAN-এর Sectoral Dialogue Partnership এবং Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জনে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মাত্তা এ প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার পুনঃসমর্থন ব্যক্ত করেন।

এদিকে, উল্লেখযোগ্য যে, ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তারা এখন প্রকাশ্যে বলছে, কোনো মুসলিমদের জায়গা নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


‘তারা এখন প্রকাশ্যে বলছে, কোনো মুসলিমদের জায়গা নেই’

হায়দরাবাদের একদল বাউন্সার অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নবরাত্রি উদযাপনের ‘ডান্ডিয়া’ অনুষ্ঠানগুলোতে মুসলিম পেশাজীবীদের কাজ দেওয়া থেকে বিরত থাকা হচ্ছে। এই ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের কারণে তাঁরা কাজের সুযোগ ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

বাউন্সারদের ২০০ সদস্যের একটি দলের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফিরোজ জানিয়েছেন, শহরের বেশ কিছু ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে তাঁর সহকর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এসব কাজে মুসলিমদের আর রাখা হবে না।

দ্য হিন্দু-কে ফিরোজ বলেন, “আগে আমরাই শহরের বেশিরভাগ ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের বাউন্সার নিয়োগের চুক্তি পেতাম। কিন্তু এই বছর আমার অনেক সহকর্মীকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ডান্ডিয়া আয়োজনে বাউন্সার হিসেবে মুসলিমদের গ্রহণ করা হবে না।”

১০ জন সদস্যের একটি দলের প্রধান ফিরোজ জানিয়েছেন, তাঁর দলের সবাই যে মুসলিম—তা নয়। তবে উৎসবের এই মৌসুমে তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য সহকর্মীদের বেতন দেওয়া তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ফিরোজ জানিয়েছেন, বাউন্সারদের প্রধান দায়িত্ব হলো ভিড় সামলানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানের মূল অংশে প্রবেশ করা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে কোনো রকম মেলামেশা বা কথাবার্তা বলার বিষয় তাঁদের কাজে থাকে না।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাজের মূল বিষয় হলো ভিড় সামলানো এবং সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর জন্য কেবল একটি ভালো ব্যক্তিত্ব, শারীরিক গঠন ও পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। আমরা এমনকি ভেতরের মূল ভেন্যু তেও প্রবেশ করি না বা অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনও হয় না।”

হায়দরাবাদের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ‘গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি’র কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এই শহরের ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। “হায়দরাবাদ কোনোদিনই এমন ছিল না। এখানকার পরিচয় গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির সম্প্রীতির জন্য। এমন দৃশ্য সত্যিই অভাবনীয় ও অদ্ভুত,” যোগ করেন তিনি।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বাউন্সার হিসেবে কর্মরত সালিগে প্রভাকর জানিয়েছেন, ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের বুকিং সাধারণ নিয়মে অন্তত এক মাস আগেই শুরু হয়ে থাকে। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদে হাজার হাজার ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয় এক মাস আগে থেকেই। অথচ এবার অনেক আয়োজকই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের অনুষ্ঠানে কোনো মুসলিম বাউন্সার রাখা যাবে না।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের বৈষম্যের ফলে কেবল মুসলিম বাউন্সাররাই ক্ষতির মুখে পড়বেন না, বরং তাঁদের অধীনে থাকা অ-মুসলিম সহকর্মীরাও তাঁদের কাজ হারাবেন।

‘২০২৪ সাল থেকেই এই বৈষম্যের সূচনা’

সালিগে প্রভাকরের দাবি, এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৪ সাল থেকে সীমিত পরিসরে, যা এ বছর এসে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে এই বৈষম্যটি খুব ছোট পরিসরে শুরু হলেও, এবার তারা খোলাখুলিভাবেই বলছে—‘কোনো মুসলিমদের নেওয়া হবে না’।”

প্রভাকর আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছু আয়োজক নিরাপত্তা কর্মীদের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ‘ফোটা’ বা ‘টিপ’ কপালে পরতে বাধ্য করছেন। কেউ কেউ তা মেনে পরলেও অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তা পরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

তিনি জানান, হায়দরাবাদের বাউন্সারদের এক বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। ফলে তাঁদের এভাবে বাদ দেওয়া হলে ডান্ডিয়ার মতো বড় অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মূলত ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘ডান্ডিয়া’ বর্তমানে পুরো ভারতের বড় শহরগুলোতে বাণিজ্যিক আকারে বড় বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়, যেখানে গান-বাজনা এবং তারকাদের উপস্থিতি থাকে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেলেঙ্গানা সরকার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাউন্সাররা, যাতে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা হয়। ফিরোজ জোর দিয়ে বলেন, এটি দিনশেষে জীবন-জীবিকার বিষয়। তাই অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%