সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩২ পি.এম
বিশ্বকাপের মতো একটি বড় শিরোপা জেতার পরও স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। জাতীয় দলের সাফল্যে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ব্যক্তিগত প্রত্যাশার উচ্চতা এতটাই বেশি যে, ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মধ্যে এখনও আক্ষেপ রয়েছে।
ইয়ামাল ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তিনি ২৪ গোল করেছেন এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কাতালান ক্লাবটি লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে।
এরপর ইয়ামাল স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলে তার গোল ছিল মাত্র একটি এবং অ্যাসিস্টের সংখ্যা ছিল শূন্য। যদিও দলীয় সাফল্য এসেছে, কিন্তু নিজের পরিসংখ্যান এবং প্রত্যাশার তুলনায় পারফরম্যান্সের ঘাটতি তাকে হতাশ করেছে।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারার জন্য ইয়ামাল চোটকে দায়ী করতে চান না। তিনি মনে করেন, চোট না থাকলেও তার পারফরম্যান্স একই রকম হতে পারত। এমনকি যদি আবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আসে, তবুও তিনি একইভাবে খেলতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। যদিও চোটের বিষয়টি সত্য, কিন্তু সেটি তার হতাশার কারণ নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তবে ইয়ামালের দাবি, মাঠে তার অনেক অবদান রয়েছে, যা গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করার বিষয়টি। তার মতে, একজন কোচের জন্য এমন খেলোয়াড় বড় সম্পদ, যাকে আটকাতে প্রতিপক্ষকে একসঙ্গে একাধিক ডিফেন্ডার ব্যবহার করতে হয়।
নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতির সুযোগ দেখছেন ইয়ামাল। তার মতে, অন্য কোনো খেলোয়াড় একই ধরনের পারফরম্যান্স করলে সেটিকে দারুণ বিশ্বকাপ বলা হতো। কিন্তু তিনি নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানেন বলেই মনে করেন, আরও বেশি কিছু করা সম্ভব ছিল।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, তিনটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একটি কোপা দেল রে। এত অল্প বয়সে এত সাফল্য পাওয়ার পরও তিনি থামতে চান না।
ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিদের প্রসঙ্গ টেনে ইয়ামাল লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, দিয়েগো ম্যারাডোনা ও পেলের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের মতো ইতিহাসে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে তিনি মনে করেন, এখনও অনেক পথ পারি দিতে হবে।
ইয়ামালের মতে, এত শিরোপা জেতার পর কেউ কেউ হয়ত ভাবতে পারেন, তিনি এবার কিছুটা ধীর হয়ে যাবেন। কিন্তু তার লক্ষ্য আরও বড়। ফুটবল ইতিহাসে নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে এখনও অসংখ্য অর্জন বাকি রয়েছে—এমন বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে চান বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপাচার্যের কার্যালয়ে পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে।
এই সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা প্রোগ্রামের সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিচালক মি. সুগাহারা কিয়োয়ুকি। অন্য সদস্যরা হলেন—একই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন নীতি বিভাগের পরিচালক মি. হারাদা তাকাসি, বাজেট বিষয়ক পরিচালক মি. তামাগাওয়া এইসুকে, ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি মি. আওয়াগি ইউ এবং জাইকার ট্রেজারি, অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাপরিচালক মি. সুজুকি কাজুয়া।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনছারুল আলম এবং জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীববিজ্ঞান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে গবেষণাগারভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে জাপানের আরো সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান।
পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা প্রোগ্রামের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য। এ ছাড়া আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য জাপান থেকে শিক্ষক আনার বিষয়েও প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা চান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ৬৫ বছর বয়সী মজিবর রহমানের মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের নিকটস্থ হলদিবাড়ি রেলগেটের দক্ষিণ পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মজিবর রহমান জয়পুরহাট জেলার পশ্চিম দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে হলদিবাড়ি রেলগেটের দক্ষিণ পাশে ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে এসে পড়েন মজিবর রহমান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বিষয়টি পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় জানানো হয়। খবর পাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কিভাবে মজিবর রহমান চলন্ত ট্রেনের সামনে পড়লেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং রেলওয়ে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে, যা তিন বছরের (২০২১, ২০২২ ও ২০২৩) জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী এবং সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষকের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২১ সালের তালিকায় রয়েছেন-ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।
২০২২ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন-সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।
২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম এবং মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ না করে প্রশ্ন করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। তিনি মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবেলায় সমালোচনামূলক চিন্তা এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উচ্চশিক্ষাকে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত দক্ষতা অর্জন এবং জনগণের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহি ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই পুরস্কার মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ। অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন যথাক্রমে ড. মাহবুব উল্লাহ এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা। বিকেলে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ষা এবং বন্যার মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোনোমতে মাথা গুঁজে বছরটি পার করার পরিকল্পনা করেছিলেন মাইদুল ইসলাম। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর বেড়ে গেছে। চরগুলোতে ভাঙন চলছে। এতে টিকতে না পেরে নতুন ঠিকানার উদ্দেশ্যে নৌকায় মালপত্র বোঝাই করে চলেছেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকায় ব্রহ্মপুত্রের চর কালির আলগা ও গোয়ালপুরী যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এই চরগুলোতে বর্তমানে ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। তিন দিক থেকে ব্রহ্মপুত্র চরগুলোকে গিলে ফেলতে চাইছে। তাই নতুন ঠিকানার খোঁজে বাসিন্দারা চতুর্থ দিকে পাড়ি দিচ্ছেন।
মাইদুল তাদের মধ্যে একজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় মাইদুল বলেন, ‘দুই মাসে হাফ কিলোমিটার ভাঙল। এই চরে আমার থাকার আশ্রয় নাই। বাধ্য হয়ে তিন কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ কালির আলগা চরে চলে যাচ্ছি। ওখানে কী হবে আল্লাহ জানেন।’
আড়াই হাজার টাকা নৌকাভাড়া করে মাইদুল নতুন গন্তব্যে যেতে পারলেও ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়া অনেক পরিবার তা করতে পারছে না। গোয়ালপুরী চরে অন্তত ৫০টি পরিবার ঘর ভেঙে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। কিছু পরিবার জায়গা ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অর্থ ও জমির অভাবে নতুন ঠিকানা তৈরির সামর্থ্য নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, গোয়ালপুরী ও রলাকাটায় গত দুই সপ্তাহে প্রায় দেড়শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ দুটি চরে ৩০০ পরিবার ভিটে হারিয়েছে। কালির আলগা চরের শেষ চিহ্ন মুছে যাচ্ছে। সেখানে এ বছর গৃহহীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার।
ইউপি সদস্য আরও জানান, গত দুই সপ্তাহে গোয়ালপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ মাঠ ও একটি মাদরাসা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারকে কিছু সহায়তা প্রদান করা হলেও বাকিরা তেমন কোনো সহায়তা পায়নি।
গোয়ালপুরী চরের বাসিন্দা খায়রুন্নেসা জানান, তার ঘর ভেঙে ফাঁকা জমিতে রেখেছেন। জমি এবং টাকা নেই। কোথায় যাবেন জানেন না। তিনি বলেন, ‘ভাঙা বাড়িঘরে আছি বাবা। ট্যাহা-পয়সা নাই। অভাবী সংসার। যামু কই? ট্যাহা-পয়সা জোগাড় কইর্যা কোনোহানে যামু। তার আগে ভাইস্যা গেলে যামু।’
খায়রুন্নেসার প্রতিবেশী জেলেমন বেওয়ার গোয়ালঘরের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি ঘর ভেঙে রেখেছেন পাশের জমিতে। মালামাল পড়ে আছে যত্রতত্র। এখনও গন্তব্য ঠিক করতে পারেননি। অসহায় এই বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ঘর দুইটা হ্যাঙ্গা দিয়া রাখছি। ট্যাহা না থাকলে জাগা-জমি কিনি কী কইর্যা।’
একই অবস্থা আল আমিন, পনির উদ্দিন, আব্দুল খালেকসহ অনেকের। নতুন চরে প্রতিবিঘা জমির মূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা। এই টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে টিনের চাল ও ঘরের মালামাল খোলা জায়গায় ফেলে রেখেছেন। তারা চালাঘর তুলে মাথা গুঁজে আছেন।
তারা জানান, কেউ কেউ মহাজনের কাছে দাদন নিচ্ছেন, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ধার-দেনা করছেন। আর যারা টাকা জোগাড় করতে পারছেন না, তারা পড়ে আছেন ভাঙা সংসারে।
কালির আলগা চরের হামেদ আলী, মর্তুজা ও আনোয়ার হোসেন জানান, পুরনো কালির আলগা থেকে ৩০০টি পরিবার দক্ষিণ কালির আলগায় নতুন চরে চলে গেছে। ঠিকানা না পেয়ে ২০-২২টি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে পড়ে রয়েছেন। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কালির আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, রলাকাটা, কালির আলগা, গোয়ালপুরী ছাড়াও শিবেরপাচি, অষ্ট্রআশিসহ কয়েকটি চরে কমবেশি ভাঙন চলছে। অনেকেই ঘর তুলতে পারেননি। দিন দিন গৃহহীন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এমনকি সাবমেরিন ক্যাবল নাইনের মাধ্যমে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙনের মুখে পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ভাঙনের শিকার কয়েকটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ঘর নির্মাণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, চরাঞ্চলে নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার সুযোগ নেই। তবে ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনেক সময় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ