মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
১০:৫৩ পি.এম
শেরপুরে সেফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেফ ফাউন্ডেশন'-এর পরিচালনায় এবং 'শাহীন স্কুল সজবরখিলা'-এর সার্বিক সহযোগিতায় শেরপুরের প্রায় দুই শতাধিক শিশুদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার সকালের দিকে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মূল বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা রং করা’। আয়োজন শেষে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীসহ মোট ২৩ জন বিজয়ী শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাকি শিশুদের মধ্যেও তুলে দেওয়া হয় বিশেষ উপহার ও উৎসাহমূলক স্মারক।
আয়োজকদের মতে, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের আনন্দময় ও শিক্ষামূলক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করতেই এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের জন্য এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিটি অকাল শিশুমৃত্যু পরিবারে অন্ধকারের ছায়া ফেলে দেয়, যার পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো পানিতে ডোবা। কোমলমতি শিশুদের এই জীবনঘাতী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এবং শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে একটি চাঙ্গা ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে চাঁদপুরে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জীবনরক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ পুকুরে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
জীবনের সুরক্ষায় ‘লাইফ স্কিল’
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের চারপাশে নদী-নালা ও জলাশয়ের প্রাচুর্য। এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় সাঁতার জানা কেবল একটি খেলাধুলা বা শারীরিক ব্যায়াম নয়; এটি প্রতিটি মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা (খরভব ঝশরষষ)। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ-তাদের নিরাপদ রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সদর উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিশুদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।”
সমন্বিত তত্ত্বাবধান ও জীবনরক্ষার মিশন হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমার নিখুঁত পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশে শিশুদের সাঁতারের মৌলিক কলাকৌশল এবং পানিতে বিপদের মুহূর্তে করণীয় শেখানো হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভকামনা জানান: সানাউল্লাহ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাঁতারু ডা. রফিকুল আলম ফয়সাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক (ফুটবল কমিটি), চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা মো. গোফরান হোসেন, প্রধান শিক্ষক, আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমি।
এছাড়াও স্থানীয় সুধীজন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক এবং উচ্ছ্বসিত শিশু-কিশোরেরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অভিভাবকদের স্বস্তি, শিশুদের উচ্ছ্বাস প্রশিক্ষণ শুরুর পরপরই উপজেলা পরিষদ পুকুর পাড়ে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ছোট ছোট হাত-পায়ের ঝাপটায় দীর্ঘদিনের অজানা ভয় কাটিয়ে তারা হয়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী।
উপস্থিত অভিভাবকেরা প্রশাসনের এ মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, বাড়ির কাছে এমন নিরাপদ পরিবেশে সন্তানদের সাঁতার শেখানোর সুযোগ পেয়ে তারা দারুণ স্বস্তিবোধ করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা জানান, শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই জীবনরক্ষাকারী প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী বছরের শুরুতেই সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে দেশের ইউপিগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, যদি জানুয়ারির শুরুতে প্রথম স্লটের নির্বাচন শুরু করা যায়, তাহলে পবিত্র রমজান মাসের আগেই অন্তত তিনটি ধাপে দেশের প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
নির্বাচন কমিশনের এমন সংকেতের আগে থেকেই, অর্থাৎ ১২ ই ফেব্রুয়ারি'র জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দিনটি সরকারে আসার পর তৃণমূল রাজনীতিতে তীব্র নির্বাচনি হাওয়া বইছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় সমর্থন পেতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোডাউন, গণসংযোগ ও বলয় তৈরির প্রতিযোগিতায় মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মাঠে প্রার্থীরা, শোডাউনের ধুম
চাঁদপুর সদর ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে নিজস্ব বলয় ও জনপ্রিয়তা জানান দিতে মাঠে নেমেছেন একাধিক প্রার্থী। প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির ৩ থেকে ৬ জন পর্যন্ত বা তার অধিক স্থানীয় নেতা চেয়ারম্যান পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন রুবেল। তিনি দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে শক্তি জানান দেন। একইভাবে ১০নং লক্ষ্ণীপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় বিএনপির হাফ ডজনেরও বেশি নেতা-হাজী বেলায়েত মাঝি, ফয়েজ বেপারী, হাফেজ জাকির হোসেন মৃধা, সুমন আহমেদ ভূঁইয়া, নাসির খান ও নুরু পাটোয়ারী। পাশাপাশি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা (মির্জা আব্বাস গ্রুপ) জাহাঙ্গীর আলমও এই ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন চান।
গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংসদ সদস্য গ্রুপ ও স্থানীয় বলয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চাঙ্গা হচ্ছে। ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দুই ভাই চান্দু ও বাদশা চৌকিদারের মধ্যকার বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মারমুখী অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও স্থগিত থাকায় মাঠে অন্য দলের উপস্থিতি কম হলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই লড়াই এখন তুঙ্গে।
উপজেলা বিএনপির জরুরি সভা ও কঠোর সতর্কতা নির্দেশের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপি। চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপি সম্প্রতি সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ‘সুপার ফাইভ’ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ডেকেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালীর পরিচালনায় উক্ত সভায় আগামী ইউপি নির্বাচনের রূপরেখা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য জারি করা হয়েছে এক জরুরি সতর্ক বার্তা। এতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-
"দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আগে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় পদ-পদবীধারী বা স্ব স্ব কমিটির কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে না।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির এই কঠোর পদক্ষেপে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে নির্বাচন যত এগোবে, চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর পুলিশ লাইন্স গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া আনুমানিক ৮-৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাতকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেলা পুলিশ মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিশুটিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় তার মায়ের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ লাইন্স গেইট এলাকা থেকে শিশুটিকে একাকী ঘুরতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে। শিশুটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের সন্ধানে অভিযান শুরু করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের দ্রুত তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটির মা ও পরিবারের সন্ধান মেলে।
সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশু আরাফাতকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা এবং জেলা পুলিশের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও পরিবার খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করে সহযোগিতা করা সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। একই সাথে জননিরাপত্তা ও যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রকাশ্যে গোপনে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সার। অভিযোগ উঠেছে যে, কৌশলে গুদামবন্দির মাধ্যমে সারের সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তায় ৪০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালে তৈরি কাগজে ৩২ ডিলার এবং ৭৯ সাব ডিলারের (খুচরা) তালিকা থাকলেও, অধিকাংশের বাস্তবে অস্তিত্ব নেই। সরাইলের সার গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তির মুষ্টিতে বন্দি হয়ে আছে। কৃষকদের মুখে নকল সারের কথাও শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার কালীকচ্ছ বাজারে সার ক্রয়ের সঠিক মূল্য বলায় কৃষক সিরাজুল ইসলামকে গালমন্দ করেন বিক্রেতা হেলাল মিয়া। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, অধিক মূল্যে সার বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরে শাহবাজপুরে এক বিক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির। তথাপি, অধিক মূল্যের চাপে কাহিল স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলছেন, এখানে সিন্ডিকেট করে কৌশলে শোষণ করছেন কৃষকদের রক্ত। চাহিদা বেশি থাকায় অনেক বিক্রেতা সার অন্যত্র সরিয়ে মজুদ করছেন। ‘সার নেই, মূল্য বেশি’ শুনে হতাশ হয়ে অনেক কৃষক ছুটছেন অন্য এলাকায়।
সরজমিন অনুসন্ধান, কৃষি অফিস, ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এবারে সরাইল উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। এই পরিমাণ জমির জন্য পর্যাপ্ত সার প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত সারের মূল্য হলো- ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১৩৫০ টাকা), টিএসপি কেজি ২৭ টাকা, এমওপি কেজি ২০ টাকা এবং ডিএপি কেজি ২১ টাকা (বস্তা ১০৫০ টাকা)। কৃষকের সার প্রাপ্তির জন্য সরাইলে ২০০৯ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিসিআইসি’র ১৬ জন ও বিএডিসি’র ১৬ জন ডিলার। কাগজে কলমে অস্তিত্ব আছে ৫-৭ জনের। অন্যদের সার কে উত্তোলন করছেন? কোথায় যাচ্ছে? এই প্রশ্ন কৃষকদের। চুন্টায়, কালীকচ্ছ ও শাহজাদাপুর ইউনিয়নে ট্যাগ করা হয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলার মেসার্স আবীর পরিবহন সংস্থা, মেসার্স বাগদাদ পরিবহন সংস্থা, মেসার্স মলাই মিয়া, মেসার্স সবুজ বাংলা নামের সংস্থাগুলোকে। কাগজে পরিষ্কার লেখা এই ৪টির বাস্তব ঠিকানা একই জায়গায় আশুগঞ্জ ফেরিঘাট। সরাইলে তাদের কোন অফিস ঠিকানা বা অস্তিত্ব ছিল না, এখনো নেই। এছাড়া ৩২ জনের মধ্যে মাত্র ৫-৭ জন ডিলারের নড়াচড়া রয়েছে। আর সার উত্তোলন করেন ২/১ জন। একেক জন ৮-১০ জনের সার উত্তোলন করে মনগড়ামত সমগ্র উপজেলায় সাব ডিলারদের কাছে সার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে (প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৯ জন করে সাব-ডিলার (খুচরা)। চুন্টায় ১ জন কম থাকায় উপজেলায় রয়েছে কাগজে ৭৯ জন। বাস্তবে আরো কম। তাদের প্রত্যেকের জামানত ৩০ হাজার টাকা। নিয়ম মাফিক ৩২ জন ডিলারের কাছ থেকে সার নিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করবেন ৭৯ জন সাব ডিলার। তবে সাব ডিলার নিয়োগেও নানা অনিয়ম তুলে ধরছেন কৃষকরা। অনেকেই নিস্ক্রিয়, এক পরিবারের একাধিক সদস্য, এক পয়েন্টে ২/৩/৪ জন, এক ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরেক ওয়ার্ডের ডিলার হয়ে বসে আছেন বছরের পর বছর। আবার কেউ সার পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, এবারে খুচরা ডিলারদের কাছে সার প্রাপ্তি ও মূল্যে চলছে নানা কারিশমা। সার কম বা আপাতত নেই বলে সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য হাঁকাচ্ছেন। এতে করে নাভিশ্বাস উঠছে কৃষকদের। সরজমিনে গেলে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের কৃষক নজির মৃধা বলেন, বর্ডার বাজারের সাত্তারের দোকান থেকে টিএসপি সার ৪০ টাকা কেজি (২ হাজার টাকা বস্তা) মূল্যে ক্রয় করেছি। সেখানে ইউরিয়া ৩৫ টাকা কেজি আর লাল সারটা ১৬০০ টাকা বস্তা। আরো দেড় মন সার লাগবে। চড়া মূল্যে মন খারাপ হয়ে গেল। তারা সারের অধিক মূল্য রেখে জঘন্য অন্যায় করছে। শুনেছি চানপুরসহ বিভিন্ন বাড়িঘরে সার মজুদ করে রেখেছেন। একই ইউনিয়নের বাসিন্দা অর্জুন চক্রবর্তী দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সারের মূল্য বিষয়ক নিউজে মন্তব্য করেছেন, “এদের চার্টে লেখা দর কেজি প্রতি সার ২১ টাকা কিন্তু বস্তা ১৬০০ তে কিনলাম। কেজি পড়লো ৩২ টাকা। দোকানিদের নাকি তারপরেও লস। ব্যবসায়ীদের লসের যোগান দিতে হয় প্রান্তিক কৃষককে। কি অবস্থা! ব্যানারে লেখা দরের কথা বললে বলে এই রেটে বিক্রি করলে নাকি তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। জরিমানার পরও দাম কমেনি বাজারে।” গত মঙ্গলবার কালীকচ্ছ বাজারের বিক্রেতা হেলাল মিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের ৫ বস্তা সার ক্রয় করেন নন্দীপাড়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম। ক্রয় মূল্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিএসপি ২ হাজার আর ইউরিয়া ১৬’শত টাকা রেখেছেন। ক্রয়ের সঠিক মূল্য বলে দেয়ায় ছটে গিয়ে সিরাজুল ইসলামকে গালমন্দ শুরু করেন বিক্রেতা হেলাল। চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর গ্রামের বাসিন্দা সাব-ডিলার মো. আবুল মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, এখানে আরমান ট্রেডার্স ও আবিরের প্রকৃত লোকজনের কোন অস্তিত্ব নেই। এদেরকে আমরা কখনো দেখিনি। সাজানো অন্য লোক দিয়ে চলছে। এরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের যোগসাজশে ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে প্রতি বস্তা সার ১৭-১৮’শত টাকায় বিক্রি করছে। ২০০৯ সালে থেকে সাব-ডিলার হলেও অজানা কারণে আমাকে এক বস্তা সারও দিচ্ছেন না। অপরাধ আমি কেন আগে কম মূল্যে কৃষককে সার দিতাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, তারা মূল রশিদ দেয় না। ক্রেতা থেকে রাখা টাকার প্রকৃত পরিমাণও উল্লেখ করেন না। তাদের প্রিন্ট করা অংশ বাদে একটি সাদা কাগজে একেবারে সরকারি মূল্যটা লিখে ক্রেতাকে দেন। শাহবাজপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের প্রবোধ সরকার বলেন, প্রত্যেকটা সারের দামই বেশি। তবে ডেপটার (ডিএপি) দাম অনেক বেশি। সরাইল সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজ মিয়া বলেন, আমি এক বস্তা ডেপ স্যার ক্রয় করেছি ১৯’শত টাকায়। শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ গ্রামের রাখাল দাস বলেন, সারের দাম চড়া। সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। ইউরিয়া ১৫’শত আর টিএসপি ২৪’শত টাকা বস্তা। সম্পর্কের কারণে অনেক সময় কথা বলতে পারি না। কৃষি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কেউ উপস্থিত থাকলে কৃষককে বলে পরে আসুন। মোড়াহাটি গ্রামের ফোর মিয়াসহ একাধিক কৃষক বলেন, মলাইশ বাজার থেকে গত বুধবার সার ক্রয় করেছি। তারা ইউরিয়া ১৫’শত, টিএসপি ১৮’শত ও বিএডিসি’র ডিএপি(ডেপ) ১৭’শত টাকা বস্তা রেখেছে। একই গ্রামের হেলাল মিয়া বলেন, মলাইশে সারের মূল্য বেশি হওয়ায় নরসিংদীর শিবপুরের বারিচা থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এনেছি। গাড়িভাড়া দিয়েও এখান থেকে অনেক কম পড়েছে। কৃষি অফিসের লোকজন সার বিক্রেতার এখানে না বসে কৃষক বের করে জিজ্ঞেস করলেই সত্যটা পাবেন। উনাদের কেন জানি সেটা করছেন না। পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়ধরকান্দি গ্রামের কৃষক হাবিদ মিয়া বলেন, আমান উল্লাহ পাঠানের কাছ থেকে প্রতি বস্তা সার ১৬’শত ও ২১’শত টাকায় ক্রয় করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরাইলে সার উত্তোলন, বিক্রি, সিন্ডিকেট, মজুদ, বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে ২/১ জন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন। কাগজপত্র, পছন্দের সাব-ডিলার, সারের পরিমাণ নির্ধারণ, উপর ম্যানেজে সহায়তা করছেন অফিসের কতিপয় ব্যক্তি। সকল খরচ হিসাব করে উনাদের ইচ্ছায়ই সারের মূল্য বাড়ে। খেসারত দিতে হয় কৃষককে।
সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সার বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. একরাম হোসেন কিছু সাব-ডিলার অধিক মূল্যে সার বিক্রির বিষয়টি শুনার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রির কোন বিধান নেই। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়ে আমরা প্রস্তুত ও ঘুরে ফিরে মনিটরিং করছি। কৃষকরা অভিযোগ করলে ও সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। সরাইলে অস্তিত্বহীন আশুগঞ্জের ৪ ডিলারের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখেছি। দ্রূতই ব্যবস্থা নিবেন। তবে শুধু কাগজে ২৬ ডিলারের মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবে নেই। এদের সার কে উত্তোলন করেন? এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, একজনকে তো হাতেনাতে ধরে জরিমানা করেছি। এ ছাড়া জেলার কর্মকর্তা সহ আমরা সর্বক্ষণ গুরুত্বর সহকারে ঘুরেফিরে মনিটরিং করছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি সর্বক্ষণ তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা সকল ডিলারকে ভালোভাবে চিনেন। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ধরা পড়লেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ