০৯:০৬ পি.এম
কলাপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পটুয়াখালীর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কলাপাড়া পৌরশহর এবং আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তবে ধানখালী ইউনিয়নের চরনিশানবাড়িয়া গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে, ওই গ্রামে রিজিয়া বেগম (৮৫) নামের এক বৃদ্ধা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেখানে আরও অন্তত ৩৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টের দেয়াল ঘেঁষে চরনিশানবাড়িয়া মধুপাড়া গ্রামে কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করার ফলে ব্লকের ফাঁকে ফাঁকে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামটির মিরা বাড়িতে ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ভুইয়া বাড়িতে ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রিজিয়া বেগম অন্তত ২০ দিন আগে মারা গেছেন। মাঝি বাড়িতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মিরাবাড়িতে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল হক মিরা (৬৫), সুরমা বেগম (২৭), জোসনা বেগম (২৮), নুসাইরা (৭), রস্মি (৬), রুকান (৮) এবং তাওসিফ (৩)। তাওসিফ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া, আরও ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নাজমিন (২২), তামিম (২০), মরিয়ম (৬), ফাতেমা (৮) এবং দেড় বছরের শিশু আলিয়া অন্তর্ভুক্ত।
চর নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। ওই মাসের ২৬-২৭ তারিখে অনেককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কিছু রোগী বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও অনেকে বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দা অলিউর রহমান নিপুল জানান, তারা পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্লকের মাঝে জমে থাকা জলাবদ্ধতা অপসারণের জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গ্রামে ডেঙ্গুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা জানান, তার সন্তান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্রামের প্রত্যেক ঘরে দুই-একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। বর্তমানে কিছুটা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। তবে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে প্লান্টের বাউন্ডারির বাইরের অধিকাংশ এলাকায় মশক নিধন স্প্রে করা হয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে পুনর্বাসন পল্লীর বাসিন্দাদের সমস্যা জানালে নিয়ম মাফিক সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলেও প্লান্টের দায়িত্বশীল সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পানি জমে যেন এডিস মশার বিস্তার না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়িঘরের আশেপাশে এবং ড্রেন পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরশহরে মশক নিধন স্প্রে করা হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন