বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:০৬ এম
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া ও নুওয়াকোট এবং তিব্বতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প, তুষারধস এবং আকস্মিক বন্যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বিবৃতিতে এই শোক ও সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, নেপালের রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী তিব্বত সীমান্তে ভূমিকম্প-পরবর্তী তুষারধস ও বন্যায় অন্তত ৩১ জনের নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছে, যাদের মধ্যে শিশু, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বহু নেপালি ও বিদেশি পর্যটকও রয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে এবং দুর্গত এলাকার অসহায় মানুষের সহায়তায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি, নিখোঁজ ব্যক্তিবর্গ যেন দ্রুত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হন এবং আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন, সেই দোয়া করছি।
জামায়াতে ইসলামীর এই জ্যেষ্ঠ নেতা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, এই কঠিন মুহূর্তে নেপাল সরকার, সে দেশের জনগণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে আমরা গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার কলমি ইউনিয়নের উত্তর চর মঙ্গল ৪ নং ওয়ার্ডে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বায়েজিদ কালু গংদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মোরশেদ মুলাই অভিযোগ করেন যে, "আমার স্ত্রী ও ছেলে ক্রয় সূত্রে ৪২ শতাংশ জমির মালিক হয়ে বসত বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছে।" তিনি আরও জানান, ২৪ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী বায়েজিদ কালু গং তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত তার মামলাটি আমলে নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যার মামলা নং ৫৪৮। কিন্তু প্রতিপক্ষরা নিষেধাজ্ঞা মানতে রাজি নয় এবং তারা ক্ষমতার দাপটে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ ১৪ আগষ্ট শনিবার, দেশীয় অশ্র সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে তাদের বসত বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল করে একটি ঘর নির্মাণ করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে ন্যায় বিচার কামনা করছেন।
অভিযুক্ত বায়েজিদ কালু বলেন, "আমাদের খরিদকৃত জমিতে ইলিয়াস রাতের আঁধারে জোরপূর্বক বসত বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন।" তিনি দাবি করেন, বিভিন্নভাবে সালিশ মীমাংসা করার পরেও ভুক্তভোগীরা মানেনি, তাই তাদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, "এই বিষয়ে কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুহামা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আহ্বায়ক, লেখক ও গবেষক মুফতি আহসান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও রুহামা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
তিনি বলেন, "রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা সম্ভব। এজন্য মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সীরাত বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।"
প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আজ তোমরা ছোট। নবীর সীরাত চর্চা এবং বড়দের সম্মান ও আনুগত্যের মাধ্যমে তোমাদের বড় হতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।"
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদগ্ধ আলেম মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজি বিশ্বনবী (স.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেন। সূরা দুহার তাফসির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কাফেরদের কুৎসা রটনার জবাব হিসেবে আল্লাহ তায়ালা এ সূরা অবতীর্ণ করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, নবী (স.)-এর পরবর্তী জীবন আগের তুলনায় শ্রেয়।"
‘আওয়ার ইসলাম’-এর সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব বাবা-মায়ের সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে নবীজির জীবন থেকে বিভিন্ন শিক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেন।
লেখক ও গবেষক মাওলানা যোবায়ের আহমাদ বলেন, "বিশ্বনবী (স.) নারীদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।" এ বিষয়ে তিনি তথ্যনির্ভর আলোচনা করেন।
রুহামা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ফাউন্ডার মেম্বার ও টিভি উপস্থাপক মুফতি মোহাম্মদ সাইদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মুফতি আফসার মাহমুদ, মুফতি মাহবুব হাসান, মুফতি আবদুর রহীম বিপ্লবী, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম হানাফি, মাওলানা হাবীবুর রহমান, মাওলানা সাইফুল্লাহ আল জাহিদ, মুফতি শেখ আজিমুদ্দীন, মুফতি সাঈদ আবরার নদভী, মুফতি ইসমাঈল হুসাইন শাহরিয়ার, মাওলানা আব্দুর রহমান হামিদী, মুফতি আব্দুল হামীদ, মুফতি জামালুদ্দীন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি আহসান শরীফ বলেন, "আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রুহামা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। এটি দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বের পর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল রাউন্ড। দেশের মর্যাদাপূর্ণ কোনো হলে ফাইনাল আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে রুহামা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পেইজে ঘোষণা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভৈরবে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা এবার সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জীদনি সায়হাম (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রশাসনের অবহেলা এবং মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেন।
জীদনি সায়হাম ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার পুত্র। বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। তিনি স্ত্রী এবং দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, জীদনি সায়হাম তিন দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তার রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হলে, দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভৈরপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হলো। এর আগে একই এলাকার সৈয়দ বানু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দুই মৃত্যুর পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে অবস্থান নেন। তারা মশক নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন। এ কারণে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই নিয়মিত মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় তারা আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী শিক্ষার্থীদের নিজেদের চরিত্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে তাদের চরিত্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করেই প্রকৃত ও আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ছালামবাগে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সিরাতের আলোয় তরবিয়তি মাজলিস ও মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ জামিয়া আনওয়ারুল উলুম ছালামবাগ ক্যাম্পাস শাখা এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
রিদওয়ান মাযহারী বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নবীজি (সা.)-এর চরিত্রের প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি এক মহান চরিত্রের অধিকারী।’ পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর জীবনকে মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুতরাং, নবীজি (সা.)-এর সিরাত শুধুমাত্র জানা বা আলোচনা করার বিষয় নয়, বরং তাঁর চরিত্র ও আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে।
শিক্ষাজীবনকে চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদিতা, আমানতদারি, শৃঙ্খলা, বিনয়, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। মহানবী (সা.)-এর জীবন এসব গুণের বাস্তব শিক্ষা প্রদান করে। বর্তমান শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে, তাই তাদের নৈতিকতা ও আদর্শের দিক থেকেও নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদ দেন তিনি।
ছাত্র জমিয়ত সভাপতি আরও বলেন, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম দাবি হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ তাই নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাকে তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রকাশ করতে হবে।
শাখা সভাপতি বেলায়েত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া কাসিম নানুতবী রামপুরার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা যাইনুল আবিদীন।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম, রামপুরা থানা শাখার সভাপতি মুফতি হাসান আহমাদ কাসেমি, সহসভাপতি মুফতি ফারুক আহমাদ, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা সুলাইমান মাদানী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির এবং ঢাকা মহানগর পূর্বের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নাঈম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ