বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:৩২ এম
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী শিক্ষার্থীদের নিজেদের চরিত্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে তাদের চরিত্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করেই প্রকৃত ও আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ছালামবাগে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সিরাতের আলোয় তরবিয়তি মাজলিস ও মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ জামিয়া আনওয়ারুল উলুম ছালামবাগ ক্যাম্পাস শাখা এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
রিদওয়ান মাযহারী বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নবীজি (সা.)-এর চরিত্রের প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি এক মহান চরিত্রের অধিকারী।’ পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর জীবনকে মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুতরাং, নবীজি (সা.)-এর সিরাত শুধুমাত্র জানা বা আলোচনা করার বিষয় নয়, বরং তাঁর চরিত্র ও আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে।
শিক্ষাজীবনকে চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদিতা, আমানতদারি, শৃঙ্খলা, বিনয়, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। মহানবী (সা.)-এর জীবন এসব গুণের বাস্তব শিক্ষা প্রদান করে। বর্তমান শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে, তাই তাদের নৈতিকতা ও আদর্শের দিক থেকেও নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদ দেন তিনি।
ছাত্র জমিয়ত সভাপতি আরও বলেন, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম দাবি হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ তাই নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাকে তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রকাশ করতে হবে।
শাখা সভাপতি বেলায়েত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া কাসিম নানুতবী রামপুরার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা যাইনুল আবিদীন।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম, রামপুরা থানা শাখার সভাপতি মুফতি হাসান আহমাদ কাসেমি, সহসভাপতি মুফতি ফারুক আহমাদ, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা সুলাইমান মাদানী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির এবং ঢাকা মহানগর পূর্বের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নাঈম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপযাপিত হয়েছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং পাকিস্তানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সর্বদা অনুসরণীয়।
হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদকে (সা.) পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের স্মৃতিবিজড়িত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত একটি দিন। তাঁর আগমন সারা বিশ্বের মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। মহানবী (সা.) একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকলের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি কথা, কর্ম ও জীবনাদর্শ সকল মুসলমানদের জন্য অবশ্য অনুসরণীয় মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> রংপুর
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৩৮
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের চার সদস্যের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে রংপুর সার্কিট হাউসে একটি সুধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলালের আমন্ত্রণে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, জামায়াতে ইসলামীর আমির এ.টি.এম আজম খান, এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, সদস্য গোলাম রাব্বানী এবং আলমগীর নয়ন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া সভায় রংপুর জজ কোর্টের আইনজীবী শিতাংশু কুমার, সাবেক শিক্ষক সাফিয়ারের রহমান সাফি, শিক্ষক স্বপন কুমার রায়, রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম বারী রাজ, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং উদ্বেগজনক। বক্তারা দাবি করেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর যাতে কোনো মহল গুজব, অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, রংপুরের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন, তাই দায়িত্বশীল কোনো জায়গা থেকে ঢালাও মন্তব্য না করে আইনি ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, অপরাধীর কোনো দল বা ধর্ম নেই। সে নিছক একজন অপরাধী। একটি চক্র যাতে তথ্য বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়েও আলোচনা হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) শাকিল মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত তিন মাসে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৯২টি মাদক মামলায় ২৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নয়টি মামলায় নয়জন এবং র্যাব চারটি মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ সময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বদলি প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার শাকিল জানান, ১২ আগস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্ধারিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অনেক আগেই এ বদলির প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের সদস্যদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তী।
ঘটনার পর রংপুরজুড়ে ব্যাপক শোক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও তদন্তকারী সংস্থাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরপিইউজে) সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল, এনটিভি স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মইনুল ইসলাম, আমার দেশ-এর ব্যুরো প্রধান বাদশাহ ওসমানী, এটিএন নিউজের শাহরিয়ার মীমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা থেকে রংপুরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক ব্যাগ রক্ত, অসংখ্য জীবনের আশা
রাত গভীর। হাসপাতালের করিডোরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ছোটাছুটি। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা, একটাই প্রশ্ন—“রক্ত পাওয়া যাবে তো?” ঠিক এমন অসংখ্য সংকটময় মুহূর্তে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ব্লাড ব্যাংক। প্রচারের আলো নয়, মানবতার দায়বদ্ধতাকেই শক্তি হিসেবে নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। করোনা মহামারির দুঃসময়ে যখন রক্তের সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছিল বহু মানুষ, তখনও থেমে থাকেনি এই সংগঠন। জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া এবং মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভের পর বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলছে মানবতার এই যাত্রা।
আড়াই হাজারের বেশি রক্তদান, দুই হাজারের বেশি মানুষের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং
পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে আনুমানিক আড়াই হাজারেরও বেশি ব্যাগ রক্ত রোগীদের কাছে পৌঁছেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রক্তদান করলেও তা সব সময় ডেটাবেজে যুক্ত হয় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৭০০-এর বেশি, ২০২৪ সালে ১৫০-এর বেশি, ২০২৫ সালে দুটি পৃথক ক্যাম্পেইনে ১৫০ ও ২০০-এর বেশি এবং ২০২৬ সালে দুটি বড় আয়োজনে ২৫০ ও ১৫০-এর বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৫০ জন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর শহরের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা কমিউনিটিগুলোর একটি এখন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠেছে।
রক্তদান ছাড়িয়ে মানবিকতার বিস্তৃত পরিসর
যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম কেবল রক্ত সংগ্রহ বা রক্তদাতা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় স্বাস্থ্য ও রক্তদানবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ডোনার সংবর্ধনার মতো বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা সভার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। গত বছর থেকে নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে চালু হয়েছে ‘সিলভার হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘গোল্ডেন হার্ট অ্যাওয়ার্ড’, যা নতুন প্রজন্মকে রক্তদানে আরও উৎসাহিত করছে।
একটি সংগঠন নয়, মানবতার এক অনন্য আন্দোলন
এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রান্ত কুমার। দ্বিতীয় পরিষদে ছিলেন ফারুক হোসেন ও জুয়েল রানা, তৃতীয় পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন মাসুম বিল্লা ও মুর্তজা বশির এবং বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জসিম উদ্দীন ও সাকলায়েন মোস্তাক। তাঁদের ধারাবাহিক নেতৃত্বে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ এমন এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি রক্তের ব্যাগ মানে শুধু চিকিৎসার উপকরণ নয়; এটি একজন মায়ের মুখে হাসি, একটি পরিবারের স্বস্তি, একটি শিশুর নতুন জীবন কিংবা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠন প্রমাণ করেছে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয় পদবি বা পরিচয়ে নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জীবনের জন্য এগিয়ে আসার মধ্যেই। সেই বিশ্বাস নিয়েই যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজও লিখে চলেছে মানবতার অনন্য এক ইতিহাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং আশেকে রাসূল।
১২ রবিউল আউয়াল, বুধবার সকালে জামিয়া মতিনিয়া সুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদরীর নেতৃত্বে জশনে জুলুছ বের হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জুলুছটি স্থানীয় আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুছ পরবর্তী আলোচনা সভায় ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কর্মসূচি ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলি প্রমাণ করে যে, এ রাষ্ট্র ঈদে মিলাদুন্নবী চায়।
তিনি আরও বলেন, “যারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করতে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মনে রাখতে হবে—সুন্নী জনতা তাদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাসের বিষয়ে সচেতন। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, সুন্নী জনতাকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করবেন না।”
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান। তিনি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতার কল্যাণে তাঁর শিক্ষা এবং তা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণের আহ্বান জানান।
সভাটি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আশরাফুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় নাসিরপুর সাহেববাড়ীর গদিনিশীন পীর আলহাজ সৈয়দ আবুল মুজাররাদ আশিক বিল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা মুস্তাক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী, পীরজাদা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কনা মিয়া, মাওলানা কাজী আতাউর রহমান গিলমান, পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, মুফতি খন্দকার নজরুল ইসলাম, পীরজাদা সৈয়দ আবু নৌশাদ, হাফেজ সৈয়দ জিয়াউল কামাল জাকারিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জশনে জুলুছের সময় হামদ-নাত, দরুদ-সালাম ও ধর্মীয় স্লোগানে নাসিরনগর উপজেলা সদর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সুন্নিয়াত প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পরে মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রধান উপদেষ্টা পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ