০১:৫২ পি.এম
ফ্রান্সের প্রায় ৭০০টি সুপারমার্কেটে সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ফলে কোটি কোটি ইউরোর খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো নজিরবিহীন বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার মূল রহস্য আধুনিক সুপারমার্কেটের প্রযুক্তিগত কাঠামোর ভেতরে নিহিত রয়েছে। হামলার পেছনে হ্যাকাররা কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও ডিজিটাল দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ফ্রিজ ও ফ্রিজারের পুরনো সফটওয়্যার এবং দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে হ্যাকাররা। তারা দূর থেকে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট করেছে এবং বিভিন্ন দোকানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
হামলাটি ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতের কিছুক্ষণ আগে সংঘটিত হয়। হ্যাকাররা সুপারমার্কেটের কোল্ড আইল ও ফ্রিজারের অনলাইন সংযোগ এবং হিমায়ন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ডিজিটাল থার্মোস্ট্যাটের পুরনো সফটওয়্যার ও দুর্বল ডিফল্ট পাসওয়ার্ডের সুযোগ নিয়ে মূল কন্ট্রোল সিস্টেমে প্রবেশ করে। তারা কৌশলে সিকিউরিটি অ্যালার্মগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এরপর সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা ফ্রিজারগুলোর তাপমাত্রা -২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে এক লাফে ৫০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিয়ে যায়, যার ফলে মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ডিপফ্রিজের সব বরফ গলে যায় এবং বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও চরম তাপে আগুন লেগে স্প্রিংকলার চালুর মাধ্যমে পানি জমে দোকানগুলোতে কোটি কোটি টাকার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি ঘটে।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
প্রথমে দোকান কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলোকে আলাদা কারিগরি ত্রুটি মনে করেছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, ইন্টারমার্শে, কোঅপারেটিভ ইউ, ক্যারফুর, লেক্লার্ক ও মনোপ্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০০টি দোকান একই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। কোঅপারেটিভ ইউ-এর দুই হাজার সুপারমার্কেটের মধ্যে ৮০টিতে হামলা হয়েছে।
একসঙ্গে শত শত দোকানের ফ্রিজ ও ফ্রিজারে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ায় বিপুল পরিমাণ খাদ্য ফেলে দিতে হয়েছে। কিছু সুপারমার্কেটকে সাময়িকভাবে ফ্রিজার খালি করে নতুন করে পণ্য সংগ্রহ ও মজুত করতে হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং নতুন করে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হয়। ইন্টারমার্শের প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কোটিলার্ডের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ওয়েভস্টোনের জেরোম বিলোয়ারের মতে, এ ধরনের হামলার লক্ষ্য মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন ব্যবস্থাও যে সহজে অচল করে দেওয়া সম্ভব—সেই বার্তা দেওয়া।
তবে হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীও এর দায় স্বীকার করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সফটওয়্যার, আপডেট না করা ফার্মওয়্যার ও ডিফল্ট পাসওয়ার্ডের মতো সাধারণ দুর্বলতাই এবার শত শত সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সাইবার হামলার সুযোগ করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন