মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
হেলথ জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়গনিক সেন্টার, সানারপাড় রহিম মার্কেট সিদ্ধিরগঞ্জে, আবুল বাশার মোল্লা দীর্ঘদিন যাবত উক্ত প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার, নাই তার কোন চিকিৎসা ক্ষেত্রে সনদ পত্র বা ডিগ্রি নাই , হেলথ জেনারেল হসপিটালে অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, কোন সুন্দরী নারী চিকিৎসা অথবা ডেলিভারি করতে আসলে তিনি তখন অডিরুমে উপস্থিত থাকেন, এবং সুন্দরী নারীর স্বামী প্রবাসে থাকলে, তাদের মোবাইল নাম্বার নিয়ে নানান প্রকার মেসেজ পাঠিয়ে তাদেরকে লোভ লালসা দেখিয়ে,ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হন , পরবর্তীতে নারীরা বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার মামলা হামলা ও হুমকি প্রদান করে থাকেন, কিছুদিন আগে এক নারীর সাথে তার সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করিতেছিলেন, হঠাৎ নারী যখন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে, আবুল বাশার তখন তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী মুক্তি পেয়ে আবুল বাশার মোল্লার নামে নারী ও দর্শন শিশু নির্যাতন মামলা করলে, আদালত উত্ত মামলার তদন্তের জন্য পিবিআই কে দায়িত্ব প্রদান করেন, কিন্তু আবুল বাশার মোল্লা টাকার বিনিময়ে উক্ত তদন্তের কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্ক করে, মামলাকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, গত ২৬ তারিখে হাজীরা থাকলেও আবুল বাশার ওই তারিখে আদালতে হাজির হননি, তাই ভুক্তভোগী নারীর আইন প্রশাসনের নিকট, আবুল বাসার মোল্লাকে অতি দ্রুত সম্ভব উত্তম আমলাই গ্রেফতার করে শাস্তি দাবী জানাচ্ছেন, উক্ত আবুল বাশার মোল্লার বিষয়ে তালাশ বিডি নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি একটি দল, গত ৯ আগস্ট হেল থ জেনারেল হাসপাতালএন্ড ডায়গনিস্ট সেন্টারে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তিনি উক্ত বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার জানান, এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কোন অংশীদার নয় তিনি চাকরিজীবী ন্যূনতম বেতনের কর্মচারী বলে জানান, অথচ ভুক্তভোগী নারী সাথে যখন সু-সম্পর্ক ছিল তাকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার সাথে মেলামেশ করে আসছিলেন, এক সময় নারায়ণগঞ্জে আমলাপাড়া এক বাসায় আবুল বাশার মোল্লাকে বিবস্ত্র অবস্থায় লোকজনে এসে ধরে ফেলে, তখন তিনি টাকার বিনিময় ঐখান থেকে পালিয়ে আসেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারী, আরো জানান যে উনি বিভিন্ন প্রকারের সেক্স ওষুধ ব্যবহার করতেন এবং সময় রাখতেন ও ব্যবহার করতেন, যাহার ছবি প্রদান করা হইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিস্তির টাকা পরিশোধের পরও চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে মানববন্ধন করেছেন মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার মালিক ও শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, কিস্তির চুক্তি, পরিশোধের রসিদ ও ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে হয়রানি বন্ধ ও বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের আনারস চত্বরে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক মাহিন্দ্রা মালিকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, মধুপুরের ইয়ামাহা সেলস সেন্টার থেকে নগদ ও কিস্তিতে সিএনজি অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার বিক্রি করা হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ কিস্তিতে এসব যানবাহন কিনে তা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধ ও হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) বিক্রেতা আইয়ুব আলীর সঙ্গে কয়েকজন ক্রেতার বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
ভুক্তভোগী মালিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তাঁদের দেওয়া চেকের বিপরীতে ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাঁরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। এতে যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও সেলিম বলেন, ‘আমরা চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা হয়রানি চাই না; কাগজপত্র ও হিসাব যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেলস সেন্টারের সঙ্গে করা কিস্তির চুক্তিপত্র, পরিশোধের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করা হোক। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী যেসব মামলা অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে মাহিন্দ্রা সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সেলিমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনো পাওনা বা বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও লেনদেনের হিসাব যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা সম্ভব। তাই মামলা ও হয়রানির পরিবর্তে নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন অধ্যায়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি জর্ডানও ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব লাভ করছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
ইরান দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে নিক্ষেপ করা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস বা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আল-আজরাক ঘাঁটিতে কী রয়েছে?
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, দেশটির জনবিরল পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত।
ঘাঁটিটির নামকরণ জর্ডানের যুদ্ধবিমান চালক লেফটেন্যান্ট মুওয়াফফাক সালতির নামে করা হয়েছে।
আল-আজরাক, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এখানে দুটি রানওয়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক বিমান ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।
কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাষক তাহানি মুস্তাফা মন্তব্য করেছেন যে, আল-আজরাক এমন কয়েকটি ঘাঁটির মধ্যে একটি যেখানে এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান রাখা যায়।
তার মতে, ইরানের হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এসব হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ।
কেন আল-আজরাককে লক্ষ্য করছে ইরান?
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও মোতায়েন কেন্দ্র এবং বিমান রাখার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।
ইরানের দৃষ্টিতে আল-আজরাকের গুরুত্বের মূল কারণ হলো, এখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানের কৌশলগত ভূমিকা।
জর্ডান কেন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ?
জর্ডানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে বলে ২০২৬ সালের মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশটির আরও কয়েকটি স্থানে মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ জর্ডানের কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত টাওয়ার ২২ নামের একটি সামরিক লজিস্টিক ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় মার্কিন বাহিনী ও তাদের ঠিকাদারদের জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের সময় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
যুদ্ধের আগে থেকেই মার্কিন উপস্থিতি
মার্কিন সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের চুক্তির আগে আল-আজরাক ঘাঁটিতে তাদের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, অন্তত ২০১৬ সাল থেকেই ঘাঁটিটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ড্রোন ও দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।
২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) অভিযানে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে জর্ডান।
সংঘাত শুরুর পর আল-আজরাকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের আগে থেকেই আল-আজরাক ঘাঁটির গুরুত্ব বাড়ছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ ও সামরিক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ডেভিড শেনকার।
তার মতে, ঘাঁটিটিতে প্রায় ৬০টি যুদ্ধবিমান এবং সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
জর্ডানের ভৌগোলিক অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর তুলনায় জর্ডান ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে কিছুটা বেশি কৌশলগত গভীরতা বা নিরাপদ দূরত্বে রাখার সুযোগ দেয় জর্ডান।
শেনকারের ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে জর্ডানের অবস্থান ‘অপরিহার্য’ হয়ে উঠেছে।
এর আগেও বহুবার হামলার দাবি ইরানের
চলমান যুদ্ধে ইরান মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০ বারের বেশি আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। মার্চের শুরুতেই প্রথমবার ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।
এরপর ১০ জুন ইরান দাবি করে, আল-আজরাকসহ কুয়েত ও বাহরাইনের আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
সে সময় আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আল-আজরাক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও ইরান একাধিকবার আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায়।
জুলাইয়ের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত
১৭ জুলাই ইরান দাবি করে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি ছিল, এতে কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।
এর ফলে আল-আজরাক শুধু ইরানের ঘোষিত হামলার লক্ষ্য নয়, বাস্তব সামরিক সংঘাতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আসে।
২০১৭ সালেই ঘাঁটির সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
আল-আজরাক ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব বোঝাতে এর অবকাঠামোগত সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে মার্কিন কংগ্রেস বিমানবাহিনীর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঘাঁটিটির সম্প্রসারণে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করে।
তৎকালীন সময়ে এটি ছিল ঘাঁটির জন্য সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। মূলত বিমান ওঠানামা ও অবস্থানের জন্য রানওয়ের পাশের জায়গা বা র্যাম্প সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।
এছাড়া চলমান যুদ্ধের শুরুতে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকেও জর্ডানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইরানের হামলায় জর্ডান কতটা ঝুঁকিতে?
ইরান সরাসরি জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তেহরানের দাবি, তাদের লক্ষ্য জর্ডান নয়; বরং দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সম্পদ।
তবে জর্ডানের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশটিকে ক্রমেই সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে জর্ডানের নিজস্ব নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত না হলেও আল-আজরাককে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই জর্ডানের মতো তুলনামূলকভাবে সরাসরি যুদ্ধে না থাকা দেশগুলোর ভূখণ্ডও বড় শক্তিগুলোর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেরিম, একটি ছোট দ্বীপ, ইয়েমেনের উপকূলের নিকটে অবস্থিত। দ্বীপটির শুষ্ক বালু, পাথুরে ভূখণ্ড এবং ধ্বংসপ্রায় স্থাপনা একে একটি প্রাচীন সময়ের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান বর্তমানে এটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপটি এখন ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা পেরিম দখলের চেষ্টা করলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
আঞ্চলিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হুতিরা পেরিমের উত্তরে প্রায় ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত মোকা দখলের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। মোকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে বাব আল-মান্দাবের ওপর হুতিদের চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হরমুজের বিকল্প নৌপথ বাব আল-মান্দাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব তার তেল রফতানির কিছু অংশ হরমুজ থেকে সরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব এখন বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাব আল-মান্দাব হলো লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার। এর এক পাশে আরব উপদ্বীপ এবং অন্য পাশে আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল অবস্থিত। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে ইয়েমেন ও আফ্রিকার উপকূলের দূরত্ব প্রায় ১২ মাইল। এই সংকীর্ণ জলপথের কারণে শতাব্দী ধরে দ্বীপটি সাম্রাজ্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় পেরিম দ্বীপ ভারতগামী জাহাজের কয়লা সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এখনও দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে সেই ঔপনিবেশিক অতীতের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
তবে ইতিহাসের সেই কৌশলগত গুরুত্ব এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত সেনারা দ্বীপটি পাহারা দিচ্ছে। তাদের কাছে পেরিম রক্ষা করা শুধুমাত্র একটি দ্বীপ রক্ষার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ নিরাপদ রাখার প্রশ্ন।
ইয়েমেনের সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, "পরিস্থিতি এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন ভূরাজনৈতিক বিষয়"।
পেরিম দখল করলে কী হবে?
ইয়েমেনের রাজধানী সানা, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ এবং পেরিমের উত্তরে লোহিত সাগরের বিস্তৃত উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেরিম দ্বীপ যদি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে বাব আল-মান্দাব দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা অর্জন করবে তারা।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, পেরিম দখলের পর হুতিরা প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে। এতে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।
ইয়েমেন সরকারের একজন সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, "হুতিরা যদি পেরিমে ঘাঁটি গেড়ে বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়, তাহলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করাও তাদের জন্য সব সময় প্রয়োজন হবে না। তারা চাইলে হরমুজ প্রণালির মতো এই জলপথেও মাইন পেতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে।"
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন একটি সামরিক ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান-হুতি সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে সময় হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ওপর তেহরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের সব কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ইরানের নির্দেশে পরিচালিত বলে দেখাও ঠিক হবে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ও ইয়েমেন সরকারের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, "তেহরান ও হুতিদের সম্পর্ক অধীনস্থ প্রভু-অনুচরের মতো নয়; বরং উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে।"
বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছে, অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানো এবং সৌদি আরবকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনার জন্যও হুতিরা নতুন যুদ্ধকে ব্যবহার করতে চাইছে।
চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, "হুতিদের জন্য যুদ্ধের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রয়োজনও রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তা করার সুযোগ এলে তারা সেটিও কাজে লাগাতে পারে।"
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর বদলে যায় হুতিদের ভূমিকা।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের হুতিরা সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হুতিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় ইয়েমেনও সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব ও পেরিমের মতো কৌশলগত অবস্থান এই সংঘাতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদি-হুতি সমঝোতাও ভেঙে পড়ছে
হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযান গত চার বছর ধরে চলা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। জুলাইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।
এর মধ্যে দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল। বিমানটি তেহরান থেকে সানায় যাওয়ার পর হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে নিয়ে যায়। খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরুর দিকের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ১০ দিন পর বিমানটি সানায় ফেরার সময় সৌদি আরব সেটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। আশঙ্কা করা হয়েছিল, বিমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম থাকতে পারে। পরে সৌদি বিমান হামলায় সানার বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করে।
এই ঘটনার পর সৌদি-হুতি সম্পর্কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি পণ্য বহনকারী জাহাজকে হুমকি দিতে শুরু করে। পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
জাহাজ চলাচল কমেছে অর্ধেকে
হুতিদের হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে বাব আল-মান্দাব দিয়ে তেল পরিবহনে পড়েছে। তিন বছর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও কমে যেতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনের সাধারণ মানুষও এর সরাসরি শিকার হচ্ছে। হুতিদের ড্রোন হামলায় পেরিমের উত্তরের একটি দ্বীপ থেকে কয়েক ডজন জেলেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে মাছ ধরার ব্যবসা প্রায় ধ্বংসের মুখে।
একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, "স্বাভাবিক সময়ে সমুদ্রপথে অসংখ্য জাহাজ দেখা যেত। কিন্তু হুতিদের হামলার কারণে এখন সেখানে প্রায় কোনও জাহাজই নেই।"
মোকা বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পেরিমের কয়েক মাইল উত্তরে অবস্থিত মোকা বন্দরও হুতিদের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি।
বন্দরটির পরিচালক আবদেল মালেক আল-শারাবির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠানামার সময় বন্দরে ২৫টিরও বেশি হুতি রকেট আঘাত হানে।
হামলায় ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যায় এবং প্রায় ১৪ হাজার মোটরসাইকেল ধ্বংস হয় বলে তিনি জানান।
বন্দরের বিভিন্ন স্থানে এখনো হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। পানিতে অর্ধডোবা জাহাজ পড়ে আছে। বন্দরের কংক্রিটের দেয়ালে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পোড়া মোটরসাইকেলের কাঠামো এবং গলে যাওয়া ইঞ্জিনের স্তূপ পড়ে আছে।
আল-শারাবি বলেন, "বন্দরটি ইয়েমেনের উন্নয়ন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধ্বংস করা এবং বন্দরটির সেবা বন্ধ করে দেওয়া।"
হুতিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও উদ্বেগ
গত এক বছরে হুতিরা ইসরায়েল পর্যন্ত দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তাদের হাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ড্রোনও রয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী একটি গোপন অস্ত্রের চালান আটক করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সেখানে প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা, ড্রোনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ধরনের অপটিক্যাল সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ত্রগুলো বাণিজ্যিক সরঞ্জাম হিসেবে লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল বলেও তাদের দাবি।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আটক করা চালানটি ইরান থেকে হুতিদের কাছে পাঠানো মোট অস্ত্রের খুবই সামান্য অংশ। পাচারকারীরা এর আগে একই ধরনের আরও ১১টি চালান পাঠানোর কথা স্বীকার করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের গোপন বাঙ্কারে হামলা চালাতে নতুন ধরনের ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ বা এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করছে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তি পাওয়ার কারণে সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে। তবে একই সময়ে ইরানের সহায়তায় হুতিরাও তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মান্দাবকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই যথেষ্ট সহায়তা না দেয় এবং হুতিরা পেরিম ও বাব আল-মান্দাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে পরে তাদের উৎখাত করতে আরও বড় আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী ও নৌবহরের প্রয়োজন হবে।
ইয়েমেনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলেও হুতিদের মোকাবিলা করতে হবে। তবে তখন এর মূল্য দিতে হবে আরও বেশি—শুধু ইয়েমেনকে নয়, শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও।" সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে তার এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বরফগলা পদক্ষেপ সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক স্তরে কিছু অগ্রগতি হলেও, দুই প্রতিবেশী দেশের ব্যবসায়িক স্তরে যে গভীর অবিশ্বাস ও বৈরী মনোভাব বিদ্যমান, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর থেকেই বজায় রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই দূরত্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই ঘটনায় দুই দেশের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের অবক্ষয় ঘটে এবং ভারত সরকার চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসার ওপর বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর নীতির প্রেক্ষিতে দুই দেশই নিজেদের বরফ গলাতে আগ্রহী হয়েছে, তবে পুরোনো সংশয় এখনও কাটেনি।
বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করার কিছু উদ্যোগ সম্প্রতি দৃশ্যমান হলেও, তা যথেষ্ট নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত ইলেকট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগের নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে। এমনকি ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিসের সঙ্গে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভোর যৌথ উদ্যোগের মতো কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদনও করা হয়েছে।
একই সময়ে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার অজুহাতে ভারতীয় প্রশাসন চীনা সংস্থাগুলোর ওপর তাদের কড়াকড়ি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আলিপে-কে ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। তাছাড়া, চীনা মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালানোর প্রস্তাবও খতিয়ে দেখছে ভারতের একটি তদন্তকারী সংস্থা।
অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের কঠোরতা এবং পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুর মিলিয়ে চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে একে অপরের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও, পর্দার আড়ালে কঠোর বার্তা প্রদান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চীনের বেইজিং সরকারও ভারতের কাছে উচ্চপ্রযুক্তি, সৌর প্যানেল, বন্দর তৈরির সরঞ্জাম এবং বিশেষ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল যন্ত্রপাতি বিক্রির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীন সফরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ভারতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা বিশাল বোরিং মেশিন মাসের পর মাস চীনা কাস্টমসে আটকে রাখার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রশাসনিক জটিলতা কেবল আকস্মিক নয় বরং ভারতের বাণিজ্য নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ