প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেরিম, একটি ছোট দ্বীপ, ইয়েমেনের উপকূলের নিকটে অবস্থিত। দ্বীপটির শুষ্ক বালু, পাথুরে ভূখণ্ড এবং ধ্বংসপ্রায় স্থাপনা একে একটি প্রাচীন সময়ের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান বর্তমানে এটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপটি এখন ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা পেরিম দখলের চেষ্টা করলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
আঞ্চলিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হুতিরা পেরিমের উত্তরে প্রায় ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত মোকা দখলের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। মোকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে বাব আল-মান্দাবের ওপর হুতিদের চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হরমুজের বিকল্প নৌপথ বাব আল-মান্দাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব তার তেল রফতানির কিছু অংশ হরমুজ থেকে সরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব এখন বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাব আল-মান্দাব হলো লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার। এর এক পাশে আরব উপদ্বীপ এবং অন্য পাশে আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল অবস্থিত। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে ইয়েমেন ও আফ্রিকার উপকূলের দূরত্ব প্রায় ১২ মাইল। এই সংকীর্ণ জলপথের কারণে শতাব্দী ধরে দ্বীপটি সাম্রাজ্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় পেরিম দ্বীপ ভারতগামী জাহাজের কয়লা সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এখনও দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে সেই ঔপনিবেশিক অতীতের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
তবে ইতিহাসের সেই কৌশলগত গুরুত্ব এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত সেনারা দ্বীপটি পাহারা দিচ্ছে। তাদের কাছে পেরিম রক্ষা করা শুধুমাত্র একটি দ্বীপ রক্ষার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ নিরাপদ রাখার প্রশ্ন।
ইয়েমেনের সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, "পরিস্থিতি এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন ভূরাজনৈতিক বিষয়"।
পেরিম দখল করলে কী হবে?
ইয়েমেনের রাজধানী সানা, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ এবং পেরিমের উত্তরে লোহিত সাগরের বিস্তৃত উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেরিম দ্বীপ যদি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে বাব আল-মান্দাব দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা অর্জন করবে তারা।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, পেরিম দখলের পর হুতিরা প্রণালিতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে। এতে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে।
ইয়েমেন সরকারের একজন সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, "হুতিরা যদি পেরিমে ঘাঁটি গেড়ে বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়, তাহলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করাও তাদের জন্য সব সময় প্রয়োজন হবে না। তারা চাইলে হরমুজ প্রণালির মতো এই জলপথেও মাইন পেতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে।"
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন একটি সামরিক ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান-হুতি সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে সময় হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির ওপর তেহরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের সব কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ইরানের নির্দেশে পরিচালিত বলে দেখাও ঠিক হবে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ও ইয়েমেন সরকারের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, "তেহরান ও হুতিদের সম্পর্ক অধীনস্থ প্রভু-অনুচরের মতো নয়; বরং উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে।"
বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছে, অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানো এবং সৌদি আরবকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনার জন্যও হুতিরা নতুন যুদ্ধকে ব্যবহার করতে চাইছে।
চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, "হুতিদের জন্য যুদ্ধের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রয়োজনও রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তা করার সুযোগ এলে তারা সেটিও কাজে লাগাতে পারে।"
ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর বদলে যায় হুতিদের ভূমিকা।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের হুতিরা সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হুতিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় ইয়েমেনও সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব ও পেরিমের মতো কৌশলগত অবস্থান এই সংঘাতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদি-হুতি সমঝোতাও ভেঙে পড়ছে
হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযান গত চার বছর ধরে চলা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। জুলাইয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।
এর মধ্যে দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল। বিমানটি তেহরান থেকে সানায় যাওয়ার পর হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে নিয়ে যায়। খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরুর দিকের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ১০ দিন পর বিমানটি সানায় ফেরার সময় সৌদি আরব সেটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। আশঙ্কা করা হয়েছিল, বিমানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম থাকতে পারে। পরে সৌদি বিমান হামলায় সানার বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করে।
এই ঘটনার পর সৌদি-হুতি সম্পর্কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি পণ্য বহনকারী জাহাজকে হুমকি দিতে শুরু করে। পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
জাহাজ চলাচল কমেছে অর্ধেকে
হুতিদের হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে বাব আল-মান্দাব দিয়ে তেল পরিবহনে পড়েছে। তিন বছর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও কমে যেতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়েমেনের সাধারণ মানুষও এর সরাসরি শিকার হচ্ছে। হুতিদের ড্রোন হামলায় পেরিমের উত্তরের একটি দ্বীপ থেকে কয়েক ডজন জেলেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে মাছ ধরার ব্যবসা প্রায় ধ্বংসের মুখে।
একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, "স্বাভাবিক সময়ে সমুদ্রপথে অসংখ্য জাহাজ দেখা যেত। কিন্তু হুতিদের হামলার কারণে এখন সেখানে প্রায় কোনও জাহাজই নেই।"
মোকা বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পেরিমের কয়েক মাইল উত্তরে অবস্থিত মোকা বন্দরও হুতিদের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি।
বন্দরটির পরিচালক আবদেল মালেক আল-শারাবির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠানামার সময় বন্দরে ২৫টিরও বেশি হুতি রকেট আঘাত হানে।
হামলায় ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যায় এবং প্রায় ১৪ হাজার মোটরসাইকেল ধ্বংস হয় বলে তিনি জানান।
বন্দরের বিভিন্ন স্থানে এখনো হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। পানিতে অর্ধডোবা জাহাজ পড়ে আছে। বন্দরের কংক্রিটের দেয়ালে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পোড়া মোটরসাইকেলের কাঠামো এবং গলে যাওয়া ইঞ্জিনের স্তূপ পড়ে আছে।
আল-শারাবি বলেন, "বন্দরটি ইয়েমেনের উন্নয়ন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধ্বংস করা এবং বন্দরটির সেবা বন্ধ করে দেওয়া।"
হুতিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও উদ্বেগ
গত এক বছরে হুতিরা ইসরায়েল পর্যন্ত দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তাদের হাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ড্রোনও রয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী একটি গোপন অস্ত্রের চালান আটক করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সেখানে প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা, ড্রোনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ধরনের অপটিক্যাল সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ত্রগুলো বাণিজ্যিক সরঞ্জাম হিসেবে লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল বলেও তাদের দাবি।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আটক করা চালানটি ইরান থেকে হুতিদের কাছে পাঠানো মোট অস্ত্রের খুবই সামান্য অংশ। পাচারকারীরা এর আগে একই ধরনের আরও ১১টি চালান পাঠানোর কথা স্বীকার করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের গোপন বাঙ্কারে হামলা চালাতে নতুন ধরনের ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ বা এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করছে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তি পাওয়ার কারণে সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে। তবে একই সময়ে ইরানের সহায়তায় হুতিরাও তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মান্দাবকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই যথেষ্ট সহায়তা না দেয় এবং হুতিরা পেরিম ও বাব আল-মান্দাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে পরে তাদের উৎখাত করতে আরও বড় আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী ও নৌবহরের প্রয়োজন হবে।
ইয়েমেনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলেও হুতিদের মোকাবিলা করতে হবে। তবে তখন এর মূল্য দিতে হবে আরও বেশি—শুধু ইয়েমেনকে নয়, শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও।" সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন