মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০১:৪৫ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর বাজারে অবৈধভাবে ডিএপি সার মজুদ ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত এক প্রশাসনিক অভিযান নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করায় স্থানীয়রা এ অভিযানকে ‘দায়সারা ও লোকদেখানো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১:৫০ থেকে ১২:০৫ ঘটিকা পর্যন্ত নেজামপুর বাজারস্থ ‘মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স’-এ এ অভিযান পরিচালনা করেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাস।
তথ্য গোপন ও সার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইউসুফ আলী দীর্ঘ দিন ধরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সকালে উপজেলা প্রশাসনকে প্রায় ১৫০ বস্তা ডিএপি সার অবৈধ মজুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ পাওয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বাজারে পৌঁছায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগ উঠেছে, এই ৩ ঘণ্টার বিলম্বের সুযোগে ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী অন্তত ৬টি ভ্যানে করে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ বস্তা সার দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে উক্ত দোকানের গোডাউন থেকে ৬৫ বস্তা (অন্য সুত্রে ৬৪ বস্তা) অবৈধ ডিএপি সার জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে মাত্র ৫,০০০ টাকা জরিমানা করে অভিযান শেষ করা হয়।
কৃষক ও সুশীল সমাজের অসন্তোষ:
অভিযানের ধরণ ও জরিমানার পরিমাণ দেখে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের পকেট কাটার পর এত বড় অপরাধে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কোনোভাবেই দৃষ্টান্তমূলক হতে পারে না।
কৃষকদের মতে:সিন্ডিকেটের প্রাধান্য: এ ধরনের হালকা শাস্তির কারণে অবৈধ সার মজুদকারী ও সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন: সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও ৩ ঘণ্টা দেরিতে অভিযানে আসা এবং বিশাল ক্ষমতার অপব্যবহারের বিপরীতে সামান্য জরিমানা প্রদান করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
যোগসাজশের গুঞ্জন: দেরিতে পৌঁছানো এবং সার সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের নিম্ন বা মধ্যম পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কোনো আঁতাত আছে কি না, তা নিয়েও বাজারে নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে।
কৃষকদের দাবি, অনতিবিলম্বে এ ধরনের নামমাত্র অভিযান বন্ধ করে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সারের বাজার অস্থিতিশীল করার সাহস না পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যু দণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার সময় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাজা প্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
এ দিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আজাদের সঙ্গে স্ত্রী তানিয়া বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উঠে আসে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেছেন, "দীর্ঘদিন পর তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। যারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিনসিনাটি ওপেনের প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিয়েছেন ভেনাস উইলিয়ামস এবং সেরেনা উইলিয়ামস। এই প্রত্যাবর্তনটিও তাদের জন্য সুখের হলো। দীর্ঘ ৪ বছর পর জুটি বেঁধে তারা এবার খেলতে নেমেছিলেন।
ভেনাস এবং সেরেনা ইউক্রেনের মার্তা কস্তিউক ও যুক্তরাষ্ট্রের পেটন স্টার্নস জুটির কাছে হেরেছেন ৬-২, ১-৬, ১০-৮ গেমে। প্রথম২ সেটে উভয়ই একটি করে জিতলেও তৃতীয় সেটটি টাইব্রেকারে পৌঁছে যায়। সেই লড়াইয়ে তারা ৮-১০ ব্যবধানে হেরে যায়।
সর্বশেষ তারা ২০২২ ইউএস ওপেনে ডাবলসে খেলেছিলেন। মাঝে দুবোনই অবসর ভেঙে আবার কোর্টে ফিরেছেন। ৪৪ বছর বয়সী সেরেনার সঙ্গে তার ৪৬ বছর বয়সী বোন ভেনাস আবার নতুন করে জুটি বাঁধেন।
ডাবলসে তাদের রেকর্ড সত্যিই অবিস্মরণীয়। ভেনাস-সেরেনার নামের পাশে দ্বৈতে মোট ২২টি শিরোপা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা, এবং অলিম্পিকের মাঝে ৩টি স্বর্ণপদকও রয়েছে। তাদের রেকর্ড এতটা দুর্দান্ত যে তারা কখনোই ফাইনালে হারেনি।
ফেরাটা জয়ে না হলেও, দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে পেরে ভেনাস খুশি। ৭ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী একক খেলোয়াড় সেরেনা বলেছেন, 'ডাবলসে ফেরার জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করেছিলাম।
অবশেষে আমরা একে অপরের সঙ্গী হতে পেরেছি। আমরা বিপরীতে অনেক বেশি ছাড় দিই এবং একে অপরকে উৎসাহিত করি।' ভেনাস অনুভব করেন, 'এটাই আমাদের একসঙ্গে প্রথম খেলা, আমি মনে করি ধীরে ধীরে আমরা নিজেদের পুরোনো ছন্দে ফিরে আসছি।'
অপরদিকে, উন্মুক্ত ওপেনে এককে সর্বোচ্চ ২৩ গ্র্যান্ড স্লামের রানী সেরেনা বলেন, 'এটি আমার কাছে আনন্দদায়ক, বিশেষ এবং দারুণ লেগেছে। ধীরে ধীরে আমরা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছি। আবারও জুটি করতে পারাটা আমাদের জন্য সত্যিই দারুণ ব্যপার।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করেছে। বিজিবি জানিয়ে দিয়েছে যে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি টাকা।
এই অভিযানের সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে মাটিরাঙ্গার গৌরাঙ্গপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যামিনীপাড়া জোনের একটি দল গৌরাঙ্গপাড়া এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুই আরোহী একটি মোটরসাইকেলে করে চেকপোস্টের দিকে আসলে বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেন।
কিন্তু বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের মোটরসাইকেলটির পিছু নিলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি কালভার্টের নিচে সেটি ফেলে তারা দুই আরোহী পালিয়ে যান। এরপর মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করলে সিটের নিচ থেকে একটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ-আইস উদ্ধার করা হয়।
যামিনীপাড়া জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেন জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ক্রিস্টাল মেথ-আইসের আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ কোটি টাকা।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। আটক বা পলাতক দুই ব্যক্তির পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদক ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির পাশে জমা পানিতে মো. নাইম (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে জানা যায়, খুঁটি থেকে মাটিতে টানা আর্থিংয়ের তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে নাইমের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মার্টিন গ্রামের কালু মাঝির বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়রা নাইমের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাটি বেশ হৃদয়বিদারক। এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে কর্মস্থল থেকে নাইম বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।
নিহত নাইম চরমার্টিন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মার্টিন গ্রামের কালু মাঝির বাড়ির মো. ইলিয়াসের ছেলে। সে স্থানীয় একটি খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কর্মস্থল থেকে খাবার হোটেল থেকে রাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে নাইম। কিন্তু সে বাড়িতে আর ফেরেনি। সকালে বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মাটিতে টানা আর্থিংয়ের তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে নাইমের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ওই তারের নিচে পানিতে থাকা ব্যাঙও মারা গেছে বলে জানান তারা।
কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে আমাদের প্রকৌশলীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে সমস্যা হয় এবং বিদ্যুৎ চলে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোথাও গাছের ডাল তারের ওপর পড়ে সমস্যাটি হয়েছে। বিষয়টি জানার জন্য প্রকৌশলীদের পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ