প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর বাজারে অবৈধভাবে ডিএপি সার মজুদ ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত এক প্রশাসনিক অভিযান নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করায় স্থানীয়রা এ অভিযানকে ‘দায়সারা ও লোকদেখানো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১:৫০ থেকে ১২:০৫ ঘটিকা পর্যন্ত নেজামপুর বাজারস্থ ‘মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স’-এ এ অভিযান পরিচালনা করেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাস।
তথ্য গোপন ও সার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইউসুফ আলী দীর্ঘ দিন ধরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সকালে উপজেলা প্রশাসনকে প্রায় ১৫০ বস্তা ডিএপি সার অবৈধ মজুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ পাওয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বাজারে পৌঁছায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগ উঠেছে, এই ৩ ঘণ্টার বিলম্বের সুযোগে ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী অন্তত ৬টি ভ্যানে করে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ বস্তা সার দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে উক্ত দোকানের গোডাউন থেকে ৬৫ বস্তা (অন্য সুত্রে ৬৪ বস্তা) অবৈধ ডিএপি সার জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে মাত্র ৫,০০০ টাকা জরিমানা করে অভিযান শেষ করা হয়।
কৃষক ও সুশীল সমাজের অসন্তোষ:
অভিযানের ধরণ ও জরিমানার পরিমাণ দেখে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের পকেট কাটার পর এত বড় অপরাধে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কোনোভাবেই দৃষ্টান্তমূলক হতে পারে না।
কৃষকদের মতে:সিন্ডিকেটের প্রাধান্য: এ ধরনের হালকা শাস্তির কারণে অবৈধ সার মজুদকারী ও সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন: সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও ৩ ঘণ্টা দেরিতে অভিযানে আসা এবং বিশাল ক্ষমতার অপব্যবহারের বিপরীতে সামান্য জরিমানা প্রদান করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
যোগসাজশের গুঞ্জন: দেরিতে পৌঁছানো এবং সার সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের নিম্ন বা মধ্যম পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কোনো আঁতাত আছে কি না, তা নিয়েও বাজারে নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে।
কৃষকদের দাবি, অনতিবিলম্বে এ ধরনের নামমাত্র অভিযান বন্ধ করে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সারের বাজার অস্থিতিশীল করার সাহস না পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন