ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামালগঞ্জ খনিতে ৫৫০ কোটি টন কয়লার মজুদ, গ্যাসে রূপান্তরের প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা


জামালগঞ্জ খনিতে ৫৫০ কোটি টন কয়লার মজুদ, গ্যাসে রূপান্তরের প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের বিপুল সম্পদ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে নতুন করে আশার আলো দেখা গেছে। নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, জামালগঞ্জে কয়লার মজুত প্রায় ৫৫০ কোটি টনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের হিসাবের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

১৯৬২ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। পূর্বে এখানে প্রায় ১০০ কোটি টন কয়লা থাকার হিসাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই কয়লাক্ষেত্রের বিস্তৃতি প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ১৪টি কূপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই নতুন মজুদের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, খনির বিভিন্ন স্থানে কয়লাস্তরের পুরুত্ব প্রায় ৪৪ মিটার পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

যদিও জামালগঞ্জে কয়লার বিশাল মজুদ রয়েছে, তবে এর উত্তোলনের প্রধান বাধা হচ্ছে এর ভূগর্ভস্থ অবস্থান। অন্যান্য কয়লাক্ষেত্রের কয়লা স্তর সাধারণত ১৫০ থেকে ৫০০ মিটার গভীরতার মধ্যে অবস্থিত, কিন্তু জামালগঞ্জের কয়লা ৬৪০ থেকে ১,১৫৮ মিটার গভীরে রয়েছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে খনি নির্মাণ করে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে উৎপাদন ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে খনিটিকে অকেজো রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ দূষণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, হঠাৎ হাজির ‘বর্জ্যদানব’

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত খনি খননের চিন্তায় আটকে না থেকে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়া উচিত। এখানে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে 'আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন' বা ইউসিজি (Underground Coal Gasification)।

ইউসিজি প্রযুক্তিতে ভূগর্ভের কয়লা সরাসরি ওপরে না তুলে খনির ভেতরেই নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। পরে উৎপাদিত গ্যাসকে পরিশোধন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার জ্বালানি বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশের পাঁচটি কয়লাক্ষেত্রের ওপর পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জামালগঞ্জকে ইউসিজি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্যতা সূচক ৯৩.৬ শতাংশ।

জামালগঞ্জে সম্প্রতি 'কোল বেড মিথেন' বা সিবিএম (Coal Bed Methane) আহরণের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনটি কূপ খনন করে কয়লাস্তরের গ্যাসের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যাবলি পরীক্ষা করা হয়। দুটি কূপের প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য মিথেন গ্যাসের সম্ভাবনা কিছুটা কম। তবে তৃতীয় কূপটির মূল্যায়ন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পরবর্তী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, সিবিএমের সম্ভাবনা কম হলেও জামালগঞ্জের কয়লা অর্থনৈতিকভাবে মূল্যহীন হয়ে যায় না। ইউসিজি প্রযুক্তির গুরুত্ব এখানেই বৃদ্ধি পায়। কারণ ইউসিজিতে কয়লা স্তর থেকে পৃথকভাবে মিথেন তুলে আনার বদলে পুরো ভূগর্ভস্থ কয়লাকেই জ্বালানি গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চিলমারী–রৌমারী নৌপথে ফেরি ও কর্মী উধাও, কোটি টাকার উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে প্রচণ্ড জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভরতার চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা ট্র্যাকার 'Kpler'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে কয়লা আমদানি প্রায় ১৭.৩৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে কয়লা আমদানির পরিমাণ বেড়ে ২০.৭ মিলিয়ন টন হয়েছে। ফলে কয়লা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জামালগঞ্জের বিশাল কয়লা সম্পদকে প্রযুক্তিগতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তবে একটি টেকনিক্যাল সতর্কতা জরুরি- ৫৫০ কোটি টনকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য বা তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারযোগ্য মজুদ বলা যাবে না। এটি বর্তমানে 'Resource' বা ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদের মোট হিসাব। কতটুকু বাস্তবে ইউসিজি বা অন্য কোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহারযোগ্য, কত খরচে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব এবং উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত পড়বে- তা নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) চালানো প্রয়োজন।

২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ যে ২০.৭ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করেছে, তার বড় অংশই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে। দেশের বড় ৬টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মোট কয়লা আমদানির প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: মতলবে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী র‌্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পালিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কয়লা আমদানির জন্য খোলা লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি-র (LC) মূল্য ছিল প্রায় ১.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন (১৪,৫০০ কোটি) টাকা।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিমাণের কয়লা বা বিকল্প গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তবে প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

জামালগঞ্জের সবচেয়ে বড় আর্থিক মূল্য শুধু কয়লা বিক্রি বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সামগ্রিক 'জ্বালানি নিরাপত্তা' নিশ্চিত করতে এর ভূমিকা অপরিসীম। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বাড়লে দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়া সমুদ্রপথে জাহাজ ভাড়া, বন্দর পরিচালনা খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আমদানি ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভয়াবহ অস্থিরতা সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

দেশের ভূগর্ভস্থ সম্পদ প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে উঠলে তা স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যাপক কর্মসংস্থান, পরিবহন ও শিল্পায়নে বড় প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ

জামালগঞ্জ নিয়ে এখন প্রধান প্রয়োজন রাজনৈতিক ঘোষণার চেয়ে বাস্তবমুখী বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষা চালানো।

প্রথমত, আধুনিক ৩ডি (3D) ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে মজুদের পরিমাণ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর একটি পাইলট ইউসিজি (UCG Pilot Project) প্রকল্প পরিচালনা করে দেখতে হবে-কত টন কয়লা থেকে কত ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, সেই গ্যাসের মান কেমন, পরিবেশগত প্রভাব কতটুকু এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত খরচ কত।

একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানি, জমি, বাতাস ও কার্বন নিঃসরণের ওপর প্রভাব নিয়ে কঠোর পরিবেশগত মূল্যায়ন (EIA) প্রয়োজন। কারণ কোনো জ্বালানি প্রকল্পের সফলতা শুধু কয়লার পরিমাণ বা মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং উৎপাদিত জ্বালানির প্রকৃত মূল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জামালগঞ্জের সামনে এখন মূল প্রশ্ন-বাংলাদেশ কি ৫৫০ কোটি টনের সম্ভাব্য এই বিশাল সম্পদকে অপ্রচলিত বা অনুপযোগী খনি হিসেবে ফেলে রাখবে, নাকি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভেই গ্যাসে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে?

আরও পড়ুন: সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

সিবিএমের সাম্প্রতিক ফলাফলে কিছুটা সীমাবদ্ধতা এলেও ইউসিজি গবেষণার ফলাফল জামালগঞ্জকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ২০২৬ অর্থবছরে আমদানিকৃত কয়লার পরিমাণ যখন ২০.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, তখন নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক যুক্তি আরও জোরালো হয়েছে।

জামালগঞ্জের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত রূপরেখা হবে-প্রথমে পরীক্ষামূলক ইউসিজি (UCG) প্রকল্প, তারপর সঠিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, এবং সবশেষে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সিদ্ধান্ত। এটি সফল হলে কয়লা আমদানির বহুমাত্রিক চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় জ্বালানির অংশ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

জামালগঞ্জ শুধু জয়পুরহাটের একটি কয়লাক্ষেত্র নয়, সঠিক প্রযুক্তি ও সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার এক মজবুত চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পূর্বনির্ধারিত স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে ডিভাইডার ও সম্প্রসারণের তাগিদ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে ডিভাইডার ও সম্প্রসারণের তাগিদ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় প্রতিমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকাল মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।" তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এ ধরনের অশুভ ও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কোনোভাবেই ঘটতে দিতে পারি না।" তাই জরুরিভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আমরা এ দেশে আর হতে দেব না।" তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণ যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য প্রাপ্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'চট্টগ্রাম শহরের পানিবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগাধীন চাতরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন ১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানাধীন জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) এবং আনোয়ারা থানাধীন বাদলপুরা মৌজায় (২.৫৮৯০ একর) জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে এক্রিডেশন লাভ করেছে। এই স্বীকৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন এক্রিডেশন কাউন্সিল। এর ফলে, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করল।

বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১২৪টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠান এই গৌরবময় স্বীকৃতি পেয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের এই কলেজটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে, প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ।

এক প্রতিক্রিয়ায়, কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ জানিয়েছেন, "এই সাফল্য আমাদের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং শুভানুধ্যায়ীদের অব্যাহত সমর্থনেরই উজ্জ্বল ফসল।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে আধুনিক প্রযুক্তিতে তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


মানিকগঞ্জে আধুনিক প্রযুক্তিতে তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষে কৃষকরা সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন। মাচা পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলন পাওয়ায়, এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুণ্ডি গ্রামে ‘তরমুজ উৎপাদন প্রদর্শনী’ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনের ২০ শতক জমিতে ‘বাংলা লিংক (হাইব্রিড)’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কারিগরি সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা এ তরমুজের ক্ষেত থেকে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কৃষক মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা পেয়েই অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। বর্তমানে ক্ষেতের তরমুজের ফলন বেশ ভালো। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাব।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. সোহেল রানা জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফসলের মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রচলিত চাষপদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অসময়ে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ অন্যতম লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনীটি সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।

কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকদের পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে অসময়ে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের কৃষি উদ্যোগ সাটুরিয়াসহ মানিকগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক স্মরণীয় করল কোমো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক স্মরণীয় করল কোমো

ইতালিয়ান ক্লাব কোমো নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে একটি অসাধারণ জয় অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়ায় তারা আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে, যেখানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেস্ক ফ্যাব্রেগাস।

কোমোর হয়ে গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিনা, তাসোস দুভিকাস, আসানে দিয়াও এবং ম্যাসিমো পেরোনে। পুরো ম্যাচে কোমো আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে এবং ছয়টি বড় গোলের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে, লাইপজিগ মাত্র দুটি বড় সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

এই জয়টি কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণকারী ১২তম ইতালিয়ান ক্লাব হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে। তারা একইসাথে প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া চতুর্থ ইতালিয়ান দল হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। এর আগে জুভেন্তাস, এসি মিলান এবং উদিনেজে অভিষেক ম্যাচে জয় পেয়েছিল।

কোমো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছে। তারা ইতালির দ্বিতীয় দল, যারা এমন একটি নজির স্থাপন করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে রোজেনবার্গকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছিল সাম্পদোরিয়া।

ম্যাচ শেষে ফ্যাব্রেগাস মন্তব্য করেন, "এই জয় উদ্‌যাপনের জন্য আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।" কারণ, সোমবার সিরি আ-তে পারমার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে কোমোকে।

তবে, এমন দাপুটে জয় সত্ত্বেও কোমোর কোচ আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। ফ্যাব্রেগাস বলেন, "আমি খুশি, তবে এই আনন্দ পাঁচ মিনিটের বেশি থাকবে না। এরপর থেকেই সোমবারের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আজকের ম্যাচের মতো একই তীব্রতা ও শক্তি নিয়ে আমাদের খেলতে হবে।"

কোচ আরও বলেন, "এটি শহর ও ক্লাবের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাত। গত মৌসুমে আমরা যে অসাধারণ কাজ করেছি, এই জয় তারই প্রাপ্য স্বীকৃতি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য সিরি আ। সেখানে ভালো করতে পারলেই ভবিষ্যতে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হবে।"

ফ্যাব্রেগাস তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট। তার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চ দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারলে তিনি হতাশ হবেন।

তার ভাষায়, "আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে এবং প্রতি তিন দিন পরপর একই মানের পারফরম্যান্স দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সামনে খুব কঠিন একটি মৌসুম। তাই সঠিক মানসিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

এদিকে, একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাব লেন্সও। তারা ১০ জনের স্লাভিয়া প্রাগকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%