প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষে কৃষকরা সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন। মাচা পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলন পাওয়ায়, এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুণ্ডি গ্রামে ‘তরমুজ উৎপাদন প্রদর্শনী’ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনের ২০ শতক জমিতে ‘বাংলা লিংক (হাইব্রিড)’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কারিগরি সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা এ তরমুজের ক্ষেত থেকে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষক মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা পেয়েই অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। বর্তমানে ক্ষেতের তরমুজের ফলন বেশ ভালো। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাব।’
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. সোহেল রানা জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফসলের মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রচলিত চাষপদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অসময়ে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ অন্যতম লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনীটি সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।
কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকদের পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে অসময়ে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের কৃষি উদ্যোগ সাটুরিয়াসহ মানিকগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন