শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৩ পি.এম
চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় প্রতিমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকাল মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।" তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এ ধরনের অশুভ ও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কোনোভাবেই ঘটতে দিতে পারি না।" তাই জরুরিভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আমরা এ দেশে আর হতে দেব না।" তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণ যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।
উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য প্রাপ্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'চট্টগ্রাম শহরের পানিবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগাধীন চাতরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন ১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানাধীন জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) এবং আনোয়ারা থানাধীন বাদলপুরা মৌজায় (২.৫৮৯০ একর) জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে এক্রিডেশন লাভ করেছে। এই স্বীকৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন এক্রিডেশন কাউন্সিল। এর ফলে, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করল।
বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১২৪টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠান এই গৌরবময় স্বীকৃতি পেয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের এই কলেজটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে, প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ।
এক প্রতিক্রিয়ায়, কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ জানিয়েছেন, "এই সাফল্য আমাদের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং শুভানুধ্যায়ীদের অব্যাহত সমর্থনেরই উজ্জ্বল ফসল।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষে কৃষকরা সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন। মাচা পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলন পাওয়ায়, এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুণ্ডি গ্রামে ‘তরমুজ উৎপাদন প্রদর্শনী’ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনের ২০ শতক জমিতে ‘বাংলা লিংক (হাইব্রিড)’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও কারিগরি সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা এ তরমুজের ক্ষেত থেকে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষক মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা পেয়েই অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। বর্তমানে ক্ষেতের তরমুজের ফলন বেশ ভালো। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাব।’
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. সোহেল রানা জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফসলের মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রচলিত চাষপদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অসময়ে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ অন্যতম লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, কৃষক মো. ফিরোজ হোসেনকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনীটি সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।
কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকদের পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে অসময়ে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের কৃষি উদ্যোগ সাটুরিয়াসহ মানিকগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিয়ান ক্লাব কোমো নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে একটি অসাধারণ জয় অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়ায় তারা আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে, যেখানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেস্ক ফ্যাব্রেগাস।
কোমোর হয়ে গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিনা, তাসোস দুভিকাস, আসানে দিয়াও এবং ম্যাসিমো পেরোনে। পুরো ম্যাচে কোমো আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে এবং ছয়টি বড় গোলের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে, লাইপজিগ মাত্র দুটি বড় সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এই জয়টি কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণকারী ১২তম ইতালিয়ান ক্লাব হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে। তারা একইসাথে প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া চতুর্থ ইতালিয়ান দল হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। এর আগে জুভেন্তাস, এসি মিলান এবং উদিনেজে অভিষেক ম্যাচে জয় পেয়েছিল।
কোমো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছে। তারা ইতালির দ্বিতীয় দল, যারা এমন একটি নজির স্থাপন করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে রোজেনবার্গকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছিল সাম্পদোরিয়া।
ম্যাচ শেষে ফ্যাব্রেগাস মন্তব্য করেন, "এই জয় উদ্যাপনের জন্য আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।" কারণ, সোমবার সিরি আ-তে পারমার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে কোমোকে।
তবে, এমন দাপুটে জয় সত্ত্বেও কোমোর কোচ আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। ফ্যাব্রেগাস বলেন, "আমি খুশি, তবে এই আনন্দ পাঁচ মিনিটের বেশি থাকবে না। এরপর থেকেই সোমবারের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আজকের ম্যাচের মতো একই তীব্রতা ও শক্তি নিয়ে আমাদের খেলতে হবে।"
কোচ আরও বলেন, "এটি শহর ও ক্লাবের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাত। গত মৌসুমে আমরা যে অসাধারণ কাজ করেছি, এই জয় তারই প্রাপ্য স্বীকৃতি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য সিরি আ। সেখানে ভালো করতে পারলেই ভবিষ্যতে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হবে।"
ফ্যাব্রেগাস তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট। তার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চ দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারলে তিনি হতাশ হবেন।
তার ভাষায়, "আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে এবং প্রতি তিন দিন পরপর একই মানের পারফরম্যান্স দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সামনে খুব কঠিন একটি মৌসুম। তাই সঠিক মানসিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এদিকে, একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাব লেন্সও। তারা ১০ জনের স্লাভিয়া প্রাগকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে ৬০ হাজার বনজ গাছের পর ৬০০ তালবীজ বপন করেছেন শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তার লক্ষ্য হলো ২ লাখ তালের বীজ বপন করা।
শহর, বন্দর, গ্রাম ও গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আকাশের বাজ বা বর্জপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর জন্য শিক্ষক নুরুল ইসলামের এই মহৎ উদ্যোগটি গৃহীত হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান,
শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও একজন শিক্ষক সবুজের স্বপ্ন দেখেন। হাতে চক-ডাস্টার থাকলেও অবসরে তার সঙ্গী হয়ে ওঠে গাছের চারা, বীজ এবং কোদাল। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, আবার কখনো পুকুরপাড়ে—নিরবে গাছ লাগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগের উৎপত্তি।
তিনি ফরিদপুরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুর শহরের জিলা স্কুলের সামনের পুকুর, চৌরঙ্গী পুকুরের পাড়সহ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৬০০টি তালবীজ বপন করেছেন। তার উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা।
শিক্ষকতা নুরুল ইসলামের পেশা হলেও বৃক্ষরোপণ যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও বীজ বপন করে ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
নুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সরকারি সড়কের ধারে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার বনজ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিমুল, খেজুর, তাল, নারিকেল, শিউলি ও পলাশসহ নানা প্রজাতির গাছ তার হাতে রোপিত হয়েছে। এসব গাছ বড় হয়ে এখন অনেক জায়গায় ছায়া, সৌন্দর্য ও পরিবেশের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করছে।
বিশেষ করে, তালগাছ নিয়ে তার আগ্রহের পেছনে রয়েছে পরিবেশ ও বজ্রপাতের বিষয়টি। বাংলাদেশে বর্ষাকালে বজ্রপাত একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তাল, নারিকেলসহ উঁচু গাছের ভূমিকা নিয়ে গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট গাছ একাই বজ্রপাত ঠেকাতে পারে—এমন নিশ্চয়তা বৈজ্ঞানিকভাবে দেওয়া যায় না। বরং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও নুরুল ইসলামের কাছে তালবীজ বপন শুধুমাত্র বজ্রপাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। তার বিশ্বাস, আজ একটি বীজ মাটিতে পুঁতে দিলে কয়েক বছর পর সেটিই হয়ে উঠতে পারে একটি বড় গাছ, যার ছায়া ও পরিবেশগত উপকার ভোগ করবে মানুষ।
ফরিদপুর শহরের কমলাপুরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ফকির স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা নুর বেগম ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী শামীমা নাসরিন গৃহিণী। তাদের দুই সন্তান—গোধূলী ইসলাম ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং নুরুল আহসান সকাল ফরিদপুর জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “বজ্রপাত ঠেকাতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তালবীজ বপন করেছি। আজ যে বীজগুলো বপন করছি, হয়তো একদিন এগুলো বড় গাছ হবে। তখন মানুষ এর সুফল পাবে।”
তার এই উদ্যোগ হয়তো একদিনে শহরের চেহারা বদলে দেবে না। কিন্তু ৬০০টি বীজের প্রতিটি থেকে যদি একটি করে গাছও বেড়ে ওঠে, তাহলে সেই সবুজের গল্পটি ছড়িয়ে পড়বে বহু দূর। একজন শিক্ষক হিসেবে নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় পাঠ হয়তো এটাই—প্রকৃতিকে ভালোবাসার কথা শুধু বইয়ে পড়ানো নয়, নিজের হাতে মাটিতে বীজ পুঁতে তার উদাহরণ তৈরি করাও সম্ভব।
এই বিষয়ে কথা হয়, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পাশ করা একজন শিক্ষার্থীর সাথে। তিনি বলেন, নুর ইসলাম স্যার আমার স্কুলজীবনের শিক্ষক। ওনার নেশা গাছ লাগানো। বছরের ছাত্র পড়ায়ে যা পান সব খরচ করেন সড়কে গাছ লাগানোর কাজে।
সর্বশেষ ফরিদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরব্বি প্রফেসর এমএ সামাদের মন্তব্য হলো, নুর ইসলামকে যদি সরকার বৃক্ষ রোপণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাহলে সে দেশের মধ্যে বনজ ফলজ ও তালগাছ লাগানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করবেন। এটা আমি বিশ্বাস করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ