ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ডা. শফিকুর রহমানের


জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ডা. শফিকুর রহমানের

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমাদের সহযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান দেশবাসী ও প্রবাসীদের অধিকারের জন্য যেভাবে লড়াই করে কারাবরণ করেছিলেন, আমরা কথা দিচ্ছি—জনগণের প্রতিটি অধিকার আদায়ের জন্য সমান লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি এবং চালিয়ে যাব। যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই তত দিন চলবে, ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সদ্য কারামুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপির সাবেক এই এমপি জামায়াতে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানালেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের প্রিয় সহকর্মী প্রমাণ করেছেন যে, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না; এটাই হবে আমাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভয় পাই শুধু আল্লাহ তায়ালাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, ওই সাপই একদিন ছোবল দেবে। সাপ কিন্তু পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরা লাশ পড়ে থাকবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরেও বলেছি—এই বসন্তের কোকিল যারা এসেছে ‘কুহু কুহু’ করতে, বসন্তকালের পর ওদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে ওরা পালিয়ে যাবে। আমরা সাবধান করে দিচ্ছি—বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে। আর যদি মনে করেন যে, অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি—এটি বাংলাদেশে আর হবে না, ইনশাআল্লাহ। এই জনগণ আর ফ্যাসিবাদকে কখনো কবুল করে নেবে না, ফ্যাসিবাদের কাছে আর মাথা নত করবে না। সংবদ্ধ জনবল রুখে দাঁড়িয়েছে, রুখে দাঁড়াবে এবং দিন দিন এর গতি বৃদ্ধি পাবে, একটা জায়গায় গিয়ে তার পূর্ণ সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।’

মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তিতে শুকরিয়া আদায় করে জামায়াত আমির বলেন, তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ভোগান্তির কথা বলার কারণে জেলে গিয়েছিলেন। তিনি কারো গায়ে হাত দেননি, কিন্তু তার ওপর মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে, তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন—যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আরও পড়ুন: বিশ্বজয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা শুনে তখনই প্রতিবাদ করেছি। আমি তাকে আগাম জামিনের কথা বললে তিনি বলেছিলেন—‘আমি কোনো অন্যায় করিনি যে আত্মসমর্পণ করব। যদি কোনো মামলা দেয়, আমাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাবে, কিন্তু আমি আত্মসমর্পণ করব না।’ আমি তার মনোবল দেখে সত্যিই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বললাম যে, আপনি শক্ত আছেন, শক্ত থাকেন; আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘সেদিনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যদি তাদের কোনো অপরাধই না থাকত, তাহলে দুজনকে বরখাস্ত করল কেন? ঠিক তিনি ট্রলি নিয়ে কথা বলেছিলেন যে, এখানে এসে ট্রলিকে লটারির মতো টানতে হয়। কেউ পায়, কেউ পায় না; টানাটানি করে এক ট্রলি তিন প্যাসেঞ্জার—এটা হবে কেন? ইতিমধ্যে দেখেছেন দুই দফায় ৩০০ ট্রলি নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে। তাহলে এটাও মেনে নিয়েছে যে দুর্বলতা ছিল।’

‘এরপরে ব্যাগ কাটা ও লাগেজ চুরি করা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। এখন দেখা গেল যে বডি ক্যামেরা ফিট করা হয়েছে; যারা যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করবেন, তাদের সবার শরীরে এখন বডি ক্যামেরা আছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এখন ১৫-২০ মিনিটে লাগেজ পাওয়া যায়।’

তিনি মেজর আখতারুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। এর ফল এখন যুগ যুগ ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে যারা ভোগান্তির শিকার ছিলেন, সেই সমস্ত যাত্রী ভোগ করছেন। এখন যেটুকু স্বস্তি ফিরে এসেছে, তা আল্লাহর মেহেরবানী এবং তার প্রতিবাদের ফসল।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর

তিনি বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে নেওয়া হয়েছে—এটা লজ্জার; রিমান্ডে নেওয়া আরেকটা লজ্জা। তারপরে ভিত্তিহীন এই মামলায় নিম্ন আদালতে তার চোখ বেঁধে উঠানো হলো, মাথায় হেলমেট পরানো হলো, বুকে সেফটি জ্যাকেট পরানো হলো—সবগুলোই লজ্জা। এরপরে সেখানে জামিন দেওয়ার সাহস পায়নি, হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হলো। আবার কাপুরুষের মতো চেম্বার জজে টেনে নেওয়া হলো—এ সবগুলোই লজ্জা। ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা! কিন্তু যাদের লজ্জা থাকার কথা, তাদের তো লজ্জা লাগে না। যার গায়ে কাপড় নেই, তাকে দেখে সম্ভ্রমশীল মানুষ লজ্জা পায়; কিন্তু যার গায়ে কাপড় নেই, তার কোনো লজ্জা নেই। সেই লজ্জা কবে আসবে? লজ্জা কি নির্বাসনে থাকবে? লজ্জা আসা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সারা দেশবাসী যেভাবে সহানুভূতি, সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, আমি তার এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমরা এবং দেশবাসী প্রবাসীদের সঙ্গে আছি। আমরা লড়ে যাব, সত্যের জয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি কেন জেলে গিয়েছি সেটি বড় কথা নয়। যদি আমরা অন্যায় প্রতিহত করি, জেলে আমরা যাব—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার এই জেলের মাধ্যমে এই বর্তমান সরকারের ভেতরের ছবি বেরিয়ে এসেছে, তাদের নগ্ন আক্রোশ ও প্রতিশোধের কথা বেরিয়ে এসেছে। এই সরকার বলেছিল আক্রোশের রাজনীতি করবে না; কিন্তু আমি বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করেছি প্রবাসী ভাইদের জন্য। তাদের প্রতি যে দুর্ব্যবহার করা হয়, যে অব্যবস্থা করা হয়, তারা যে ভোগান্তি-যন্ত্রণা ভোগ করেন—তার বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি। সরকার সেজন্য আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এতে আপত্তি করার কিছু নেই। আমি জনগণের কথা বলেছি, প্রতিবাদ করেছি; তার জন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আমার প্রশ্ন হলো—ঘটনা ঘটল আগের দিন সকালে, আমার মালপত্র বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসল, তারপরে একটি মিথ্যা মামলা করা হলো ১ তারিখ দিবাগত রাতে। সেই মামলার নথি ২ তারিখে আদালতে পেশ করা হয়েছে, সেখান থেকে আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমার প্রশ্ন—কী কারণে ২ তারিখে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার সময় ডিবি আমার বাড়িতে গেল? ডিবির এখানে কী এখতিয়ার?’

তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, ডিবি যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে জামায়াত আমির আমাকে ফোন করে খবর নিয়েছিলেন। তিনি মামলার ব্যাপারে খবর নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন হাজির হয়ে যেতে। আমি বললাম—রোববার দেখা যাবে, হাজির হওয়ার কিছু নেই; ধরে নিয়ে গেলে নিয়ে যাবে। তিনি আমাকে ধন্যবাদ দিলেন ও সাধুবাদ জানালেন। এক ঘণ্টার মধ্যে ডিবি আমার বাড়িতে উপস্থিত হলে আমি ডিবিকে চ্যালেঞ্জ করলাম—‘আমরা তো ভাই পানিতে ভেসে আসিনি, ডিবি-পুলিশ-মিলিটারি আমাদের ঠেকানোর বয়স চলে গেছে। একাত্তরে পাকিস্তানের মিলিটারি আমাদের ঠেকাতে পারেনি, আর তোমরা কী ঠেকাবে? এই বয়সে মৃত্যু ছাড়া আর তো কিছু কাম্য নয়’।’

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের জন্য আন্দোলন করছে সরকার: এমপি দিপু

মেজর আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি যখন ডিবিকে চ্যালেঞ্জ করলাম, তারা যদি বৈধভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারত, তবে দুই ঘণ্টা সময় নিত না। তারা আমার বাসায় বসে থাকল এবং আমার ঘরে ঢুকে দেখে অফিসে খালেদা জিয়ার ছবি টাঙানো আছে। সেটি দেখে তারা থতমতো খেয়ে প্রশ্ন করল—‘আপনি দল ছাড়লেন কেন?’ আমি বললাম—‘এটা কি গ্রেপ্তারের কোনো কারণ?’ এরপর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি এসে বলল—‘ডিবি অফিসে যেতে হবে।’ আমি বললাম—‘গ্রেপ্তার করতে হলে ওয়ারেন্ট দেখান।’ তারা বেশ গরম দেখানোর চেষ্টা করলে আমি তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম—আমার সামনে গরম দেখানোর মতো বাংলাদেশে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেনি।

আমি অনেক বড় বড় প্রধানমন্ত্রীর সামনে গরম দেখিয়েছি, রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে গরম দেখিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমার সামনে বড় গলায় কথা বলার ক্ষমতা একমাত্র আমার জামায়াত আমির ছাড়া আর কারও নেই। এরপর তারা মাগরিবের আজানের পর আমাকে গাড়িতে তুলে ডিবি অফিসে এবং সেখান থেকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমার প্রশ্ন—আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো কেন? রিমান্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে জামায়াত সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন করার ন্যাক্কারজনক সাহস ডিবির হলো কীভাবে? একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? আমি বিনীতভাবে আমার আমিরের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম। আমরা প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের যাত্রা শুরু করেছি। জামায়াত আমির আমাকে এ ব্যাপারে কথা বলার অনুমতি দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তরে আমরা প্রবাসী ভাইদের জন্য রিসেপশন সেন্টার করার চিন্তা করছি। আমি জামায়াতে ইসলামীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দেশবাসী যারা আমার পাশে ছিলেন, উৎসাহিত করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জয় হবে, আল্লাহর শাসন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদআজসেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, জয়নাল আবেদীন এমপি, উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, আইনজীবী রুকন রেজা প্রমুখ।

আরও পড়ুন: বিএনপি একাই মোকাবেলা করছে আওয়ামী অপশক্তিকে, রাজপথে নেই জামায়াত-এনসিপি

নেতারা এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে সমবেত জনতার উদ্দেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মোবারক হোসেন ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরের অধিকাংশ নদী চিহ্ন হারাতে বসেছে, কৃষি ও মৎস্যে নেতিবাচক প্রভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


উত্তরের অধিকাংশ নদী চিহ্ন হারাতে বসেছে, কৃষি ও মৎস্যে নেতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেই পরিচয় যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে। এক সময় নদীগুলোর ওপর মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা ছিল ব্যাপক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে চিত্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে। পানির অভাবে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, এবং কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ বালুচর জেগে উঠছে। খরস্রোতা নদীগুলো এখন মৃত খালে পরিণত হয়েছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীলরা জানাচ্ছেন, নতুন পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া ও কুলিক নদীর মতো সব নদীর অবস্থা এখন শুকনো। খরা কিংবা বর্ষা মৌসুমে নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও উত্তরের জেলাগুলোর অধিকাংশ নদী চিহ্ন হারাতে বসেছে। যদিও দু-একটি নদীর বুক চিরে পানি দেখা যায়, সেগুলোও মৃত খালে পরিণত হয়েছে।

নদীতে পানির অভাব কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র কমছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্তমানে শুকনো কিংবা বর্ষা, কোন মৌসুমেই নদীতে পানি নেই। বর্ষাকালে কয়েকদিন পানি থাকলেও তা মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকার যদি পরিকল্পনা করে কাজ করে তবে তারা উপকৃত হতে পারেন। অন্যথায়, পরিস্থিতি আগের মতোই থাকবে।

এমন পরিস্থিতিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গত ৩১ অক্টোবর শনিবার রুহিয়া উপজেলার টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনার আওতায় খননকাজ বাস্তবায়ন হলে তা ফলপ্রসূ হবে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, এবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয়রা উপকার ভোগ করবেন। এই কাজের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

২৬ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা ও জলাশয় খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে নদীমাতৃক দেশের প্রাণ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কিভাবে স্থায়ী খনন করা যায়, যাতে করে সকলেই সুবিধা পেতে পারে। সেই উদ্যোগ এবারে নেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় ৩৬টি নদী রয়েছে। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩৭ কিলোমিটার খননকাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেলান্দহে কাঁঠালপাতা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন গোলাম রাব্বানী শেখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


মেলান্দহে কাঁঠালপাতা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন গোলাম রাব্বানী শেখ

জামালপুরের মেলান্দহে একটি দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গোলাম রাব্বানী শেখ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

ছাগলের খাবারের জন্য কাঁঠালপাতা পাড়তে গিয়ে গাছে উঠার সময় এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত গোলাম রাব্বানী শেখ ওই গ্রামের আশরাফ আলী শেখের পুত্র ছিলেন।

নিহতের ভাই আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, সকালে বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি কাঁঠালগাছে ছাগলের খাবারের জন্য পাতা পাড়তে ওঠেন তাঁর ভাই। এই সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। স্বজনেরা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

মাহমুদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নলছিয়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গোলাম রাব্বানী শেখ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরের বিদ্যুৎ ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যাবে: বিজ্ঞানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


রূপপুরের বিদ্যুৎ ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যাবে: বিজ্ঞানমন্ত্রী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ জাতীয় গ্রিডে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।

তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার আগে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সামিট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’ আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সামিটের উদ্বোধন করবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করছে।

মন্ত্রী জানান, সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামীর অর্থনীতির জন্য এআই-ফিকশন’।

সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, ব্যবসায়িক রূপান্তর, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং দায়িত্বশীল এআই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ী ডাকঘরের ৭ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


রাজবাড়ী ডাকঘরের ৭ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারে

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ১০৪ জন গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আদালত সাতজনকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ প্রদান করেন।

কারাগারে যাওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন- রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস এবং পোস্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা গ্রাহকদের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ১০৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। আজ আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক সাতজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদীপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল হোতা লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পেলেও তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে মূল আশ্রয়দাতা পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে।

এদিকে গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রের বই না পাওয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আমি গত ৬ জুলাই যোগদানের পর বিষয়টির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%