প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেই পরিচয় যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে। এক সময় নদীগুলোর ওপর মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতা ছিল ব্যাপক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে চিত্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে। পানির অভাবে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, এবং কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ বালুচর জেগে উঠছে। খরস্রোতা নদীগুলো এখন মৃত খালে পরিণত হয়েছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীলরা জানাচ্ছেন, নতুন পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া ও কুলিক নদীর মতো সব নদীর অবস্থা এখন শুকনো। খরা কিংবা বর্ষা মৌসুমে নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও উত্তরের জেলাগুলোর অধিকাংশ নদী চিহ্ন হারাতে বসেছে। যদিও দু-একটি নদীর বুক চিরে পানি দেখা যায়, সেগুলোও মৃত খালে পরিণত হয়েছে।
নদীতে পানির অভাব কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র কমছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্তমানে শুকনো কিংবা বর্ষা, কোন মৌসুমেই নদীতে পানি নেই। বর্ষাকালে কয়েকদিন পানি থাকলেও তা মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকার যদি পরিকল্পনা করে কাজ করে তবে তারা উপকৃত হতে পারেন। অন্যথায়, পরিস্থিতি আগের মতোই থাকবে।
এমন পরিস্থিতিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গত ৩১ অক্টোবর শনিবার রুহিয়া উপজেলার টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনার আওতায় খননকাজ বাস্তবায়ন হলে তা ফলপ্রসূ হবে।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, এবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয়রা উপকার ভোগ করবেন। এই কাজের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
২৬ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা ও জলাশয় খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে নদীমাতৃক দেশের প্রাণ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কিভাবে স্থায়ী খনন করা যায়, যাতে করে সকলেই সুবিধা পেতে পারে। সেই উদ্যোগ এবারে নেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় ৩৬টি নদী রয়েছে। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩৭ কিলোমিটার খননকাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন