ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজবাড়ী ডাকঘরের ৭ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারে


রাজবাড়ী ডাকঘরের ৭ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ, কারাগারে

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ১০৪ জন গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আদালত সাতজনকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ প্রদান করেন।

কারাগারে যাওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন- রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস এবং পোস্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ।

আরও পড়ুন: তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য হাজী সেলিম মিয়ার ফের নির্বাচনী প্রস্তুতি

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা গ্রাহকদের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ১০৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। আজ আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক সাতজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদীপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল হোতা লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পেলেও তাকে পুলিশে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে মূল আশ্রয়দাতা পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে যুবককে তুলে নিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি শাহজাহান গ্রেফতার

এদিকে গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রের বই না পাওয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আমি গত ৬ জুলাই যোগদানের পর বিষয়টির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিয়া মির্জার ভিডিও সরানোর ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


দিয়া মির্জার ভিডিও সরানোর ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট

শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে দীপাবলির প্রচারে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপি নেতাদের আপত্তির কারণে বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা (বিএমসি) তার অভিনীত একটি সচেতনতামূলক ভিডিও সরিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর বম্বে হাই কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত ঘটনাটিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দিয়ে জানায়, পুরো বিষয়টি তাদের 'বিচলিত' করেছে। পাশাপাশি, প্রচারের ভিডিওটি পুনরায় প্রকাশের পরামর্শও দিয়েছে আদালত।

মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে এবং বিজেপির সভাপতি অমিত সাটমের আপত্তির পর ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ হল, পরিবেশদূষণ রোধে একটি মহৎ উদ্যোগকে অন্যভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের সংবিধানের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভিডিও ও প্রচারের বিষয়বস্তু পুনরায় প্রকাশ করা আদর্শ পদক্ষেপ হবে। আদালতের মতে, মুম্বাইয়ের সামাজিক সম্প্রীতি ও একসঙ্গে থাকার মানসিকতা কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, “বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার উদ্যোগে বাজি পোড়ানোর ফলে শব্দ ও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজে যে সব তারকা যোগ দিয়েছেন এবং সাহায্য করেছেন, তাদের নিয়ে কয়েক জনের মন্তব্যে আমরা বিচলিত। আমাদের মতে, বিএমসি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ করেছে। প্রত্যেক তারকাই একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে যখন সকলে উদ্যোগী, তখন সেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও জায়গা ছিল না।”

বিচারপতি গিরিশ এস কুলকর্নী ও নীলা কে গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ আরো বলেন, “গতকাল (সোমবার) যে ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের মতে দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের নির্দেশের গুরুত্ব এবং এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য— কোনটাই বিবেচনায় রাখা হয়নি। বৃহত্তর সমাজের স্বার্থের বিনিময়ে কয়েক জনের হঠকারী প্রতিক্রিয়ার কোনও জায়গা নেই।”

উৎসবের সময়ে বাজি পোড়ানোর কারণে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে একটি স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল আদালতে। এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আবেদনও বিচারপতিরা শুনছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর আদালত বিএমসিকে নির্দেশ দিয়েছিল, দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য বিনা পারিশ্রমিকে প্রচারে অংশ নিতে আগ্রহী তারকাদের যুক্ত করতে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পৌরসভা অজিঙ্ক রাহানে, মাধুরী দীক্ষিত ও দিয়া মির্জাকে নিয়ে প্রচার শুরু করে। কিন্তু মুম্বাইয়ের বিজেপি সভাপতির আপত্তির পর দিয়া অভিনীত ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মৌখিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানায়, “যা ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। বিশেষত, যখন বিষয়টি এই আদালতের দেওয়া নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্য কোনও বিষয় টেনে আনার প্রয়োজন ছিল না। যে কোনও জাতি বা সম্প্রদায়ের মানুষ এই প্রচারের বার্তা দিতে পারেন।”

আদালতের আরো পর্যবেক্ষণ হল, “সম্প্রদায়গত সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ ও শব্দদূষণের মতো বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে থাকার মানসিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

বিচারপতিরা আরো বলেন, “আদালতের নির্দেশ থেকে কোনও উদ্যোগের সূত্রপাত হলে প্রত্যেকেরই তা সম্মান করা উচিত। বিষয়টিকে অন্য কোনও দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তারকারা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এগিয়ে আসছেন, তাতে সমস্যা কোথায়? পরিবেশের বিষয়টিকে অন্য কোনও বিতর্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া উচিত নয়। দেশের প্রত্যেক মানুষ একই বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নেন। এটি তো সুপ্রিম কোর্টের সেই পর্যবেক্ষণেরও পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছিল, সব সম্প্রদায়ের মানুষই উৎসব উদ্‌যাপন করেন। আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ নই? এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

দিয়া মির্জাকে ঘিরে আপত্তির প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। তাদের ভাষায়, “এক ধর্মের মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যে অভিনেত্রীকে নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, তিনি পরিবেশ ও শব্দদূষণ নিয়ে অত্যন্ত ভাল বার্তা দিয়েছেন। বিষয়টিকে অন্য রং দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ছিল না। এক জন এই উদ্যোগের ভাবনা দিয়েছিলেন, অন্য জন তা বাস্তবায়িত করেছেন। উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। আমরা কোন দিকে এগোচ্ছি? দয়া করে ভিডিওটি আবার প্রকাশ করুন। সমাজ ও সংবিধানের উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। এক-দু’জনের বিচ্ছিন্ন মন্তব্যকে আমরা সমর্থন করতে পারি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর ছেলে প্রথমবার ডাক পেলেন পর্তুগাল অ-১৭ দলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


রোনালদোর ছেলে প্রথমবার ডাক পেলেন পর্তুগাল অ-১৭ দলে

ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও একটি পদক্ষেপ নিলেন তার বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। ১৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড প্রথমবারের মতো পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। কোচ ফিলিপে রামোস ঘোষিত ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে তিনি জায়গা পেয়েছেন, যা আগামী নভেম্বরে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসেছে।

পর্তুগালে ‘ক্রিস্তিয়ানিনহো’ নামে পরিচিত রোনালদো জুনিয়র বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের যুব দলে খেলছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে সাত ম্যাচে তিনি তিনটি গোল করেছেন।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পেয়েছেন রোনালদো-পুত্র। ২০২৫ সালের মে মাসে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে ১৩ ম্যাচ খেলে পাঁচ গোল করেছেন।

অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে চার ম্যাচে দুটি গোল করার পর অনূর্ধ্ব-১৬ দলে সুযোগ পান ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। সেখানে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এই বয়সভিত্তিক দলের হয়ে নয় ম্যাচে তিনি তিন গোল করেছেন। এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তরুণ এই ফুটবলার।

পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার তুলনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে বাবার পরিচয়ের বাইরে নিজের যোগ্যতায় আলাদা অবস্থান তৈরি করার চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

আল-নাসরের যুব দল থেকে পর্তুগালের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে রোনালদো জুনিয়রের এই অগ্রযাত্রায় ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে বাবা-ছেলেকে একই মাঠে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ রয়েছে।

এদিকে আগামী শুক্রবার পর্তুগালের জাতীয় দলের নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। সেখানে আল-নাসরের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জায়গা পান কি না, সেটিও জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২১ বার পেছাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২১ বার পেছাল

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২০তম বারের মতো পিছিয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর ধার্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এর তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে ইনকিলাব মঞ্চ সন্তুষ্ট নয়।

গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চেয়েছিলেন। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করে। ওই দিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানার পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার  মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে মাদকের মামলায় ট্রাকচালক ও হেলপারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


সিরাজগঞ্জে মাদকের মামলায় ট্রাকচালক ও হেলপারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ৫৩০ বোতল ফেনসিডিল পাচারের অভিযোগে ট্রাকচালক ও হেলপারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না দিলে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-২-এর বিচারক আবু খান শাহীন কনক এই রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আনিছুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।"

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একজন হলেন নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার কাঁকাকা নতুনপাড়ার আতোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রাসেল মিয়া (৩২) এবং অপরজন একই এলাকার মো. সিরাজ সরকারের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩০)।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার এএসআই মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোল চত্বর এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে একটি ট্রাক আটক করা হয় এবং ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ৫৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ ট্রাকচালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় এ এসআই মো. জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%