০৬:৩৬ পি.এম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে নতুন করে উত্তেজনার আবহের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে সমরাস্ত্রের যে সক্ষমতা বাড়াতে উত্তর কোরিয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পরেই দক্ষিণ কোরিয়াও আধুনিক ড্রোন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে চির বৈরী দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার বন্দর নগরী নামফোতে ৫ হাজার টন শ্রেণীর একাধিক বহুমুখী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধজাহাজ ‘চো হাইওন’ এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে প্রস্তুত করার সংকল্প ঘোষণা করেন। ৫ হাজার টনের দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পর উত্তর কোরিয়া এখনও ১০ হাজার টনের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
এরপর একদিন পর, গত বৃহস্পতিবার, কিম জং উনের উপস্থিতিতে, উত্তর কোরিয়া উন্নত সংস্করণের রকেট আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা পুনরায় করেছে। এটি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
কিম বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কেবল শক্তি দিয়ে আধিপত্য বজায় রাখলেই সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা আমাদের জাতীয় কৌশলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ এর আগে এ মাসের শুরুতে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম তৈরির নতুন একটি কারখানা জনসমক্ষে এনেছে।
উত্তর কোরিয়ার এই আগ্রাসী সামরিক তৎপরতা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তবে দক্ষিণ কোরিয়া নীরব থাকেনি। শুক্রবার (২৬ জুন) তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়াকে মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে দ্রুত ড্রোন ও পাল্টা-ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। একই সঙ্গে সম্মুখসারির ইউনিটগুলোতে বিপুলসংখ্যক চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং মেরিন কোরের ব্যবহারের জন্য ২০২৯ সালের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরে এই সংখ্যা সংশোধন করে প্রায় ৬০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ড্রোন ২০২৬ সালেই যুক্ত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ড্রোন সীমিত সংখ্যক বিশেষ ইউনিটে থাকবে না। প্রতিটি সৈনিকের জন্য এটি রাইফেলের মতো দ্বিতীয় সরঞ্জাম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সামরিক শাখায় এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সিউল চীনা যন্ত্রাংশের পরিবর্তে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবং জাপানি উপনিবেশ থেকে কোরিয়া উপদ্বীপ মুক্ত হওয়ার পর থেকেই একটি নতুন জটিলতা শুরু হয়। বিশ্বের দুই পরাশক্তি, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়ার দুই অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জারি করে। উত্তর অংশের নিয়ন্ত্রণে আসে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় চলে যায়। ১৯৪৮ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত হয় রিপাবলিক অব কোরিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়া, এরপর পরবর্তী মাসে প্রতিষ্ঠা হয় ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বৈরী হয়ে রয়েছে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ থেমেছিল, কিন্তু কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। তাই দুই কোরিয়া এখনো কাগজে কলমে যুদ্ধে লিপ্ত। মাঝে মাঝে শান্তি আলোচনা বা দুই কোরিয়াকে একত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো সফল হয়নি। বরং অনেক সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। ফলে দেশটির সেনাবাহিনীকে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং চালকবিহীন প্রযুক্তিতে আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন