ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুনামগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ


সুনামগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন, যারা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শোভাযাত্রায় যোগ দেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এ শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন বখত চত্বর (বক পয়েন্ট) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গণতন্ত্রের নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না; ছিল হত্যা ও গুমের রাজনীতি। সেই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আজ দেশ মুক্ত। ইনশাআল্লাহ, এই গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমেই দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধিত হবে।শোভাযাত্রা ও সমাবেশে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দামায়ান্তিকে সংসদের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দামায়ান্তিকে সংসদের অনুমোদন

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইন্দোনেশিয়ার সংসদ মঙ্গলবার ডেস্ট্রি দামায়ান্তিকে দেশের নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে অনুমোদন প্রদান করেছে। পেরি ওয়ারজিও হঠাৎ করে পদত্যাগ করার পর গত জুলাইয়ে তাকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে খবর প্রদান করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো ডেস্ট্রিকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনিই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন। পেরি পদত্যাগের পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রবোওর মনোনয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তার ভাতিজা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থমাস জিওয়ান্দোনোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা করা হয়েছিল।

পেরি হঠাৎ পদত্যাগের আগে ৬২ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ডেস্ট্রি ২০১৯ সাল থেকে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার (বিআই) ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংস জানিয়েছে, ডেস্ট্রির মনোনয়ন থেকে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।

গত সপ্তাহে সংসদে অনুষ্ঠিত নিয়োগসংক্রান্ত শুনানিতে ডেস্ট্রি বলেছেন, তিনি এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবেন, যা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাসঙ্গিক থাকবে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রেসিডেন্ট প্রবোও ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেরির পদত্যাগ ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকের দ্বিতীয় পদত্যাগের ঘটনা। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসসহ কয়েকটি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান মনে করছে, সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী নীতিকে আরও বেশি সমর্থন করার জন্য পেরির ওপর চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে এ পদত্যাগের পর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনে একটি আইন পাস হয়, যা সংসদকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দায়িত্বও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর দেওয়া হয়—যা প্রেসিডেন্ট প্রবোওর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পেরির পদত্যাগ এমন একটি কঠিন সময়ে ঘটে, যখন ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহর বড় ধরনের দরপতন এবং শেয়ারবাজারে মন্দাভাব দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও কয়েকজন ডেপুটি গভর্নর নিয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দেশটির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে এবং সুদের হার ঠিক করে।

জুলাইয়ে পেরির শেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদহার ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে। চলতি বছরে এর আগে সুদহার মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মতে, সুদহার বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ সরকারকে সম্ভবত হতাশ করেছে।

গত মাসের বৈঠকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


নড়াইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নড়াইল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র নড়াইল জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের চৌরাস্তা থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নড়াইল চৌরাস্তায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ব্যানার, ফেস্টুনসহ এই বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান অলেকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নড়াইল পৌরসভার পুকুরপাড়ে বৃক্ষ রোপণ এবং পৌর পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার ইজাজুল হাসান বাবু, অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, নগর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমান, গোবরা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান মোল্যা, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মশিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সায়াদত কবির রুবেল, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার মাহমুদুল হাসান সনি ও সদস্য সচিব মামুন গাজীসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে কমিউনিটি ইনেশিনিটিভ সোসাইটি ও ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট টিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নেপালে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে কমিউনিটি ইনেশিনিটিভ সোসাইটি ও ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট টিম

নেপালে ভয়াবহ হড়কা বানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমিউনিটি ইনেশিনিটিভ সোসাইটি (সিআইএস) এবং ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট টিম (ডিসিএইচটি)। বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়া এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার জন্য ত্রিশূলি বাজারের ১ নম্বর মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টার ফিল্ড হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে উক্ত সংগঠনগুলোর একটি দল।

নেপাল থেকে সিআইএস ও ডিসিএইচটি দলের সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় শিশু, বয়স্ক, নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। দুর্যোগের কারণে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হলে এসব রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হস্তান্তরিত সামগ্রীর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও হাইপারলিপিডেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, বন্যার পর সাধারণভাবে দেখা দেওয়া সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া, বন্যার পানির কারণে সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে স্যানিটারি প্যাড, মাস্ক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দুর্যোগের সময় দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ফিল্ড হাসপাতালগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মুখসারিতে থেকে বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে চলেছেন।

সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, দুর্যোগের সময়ে মানবিক সহায়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সিআইএস ও ডিসিএইচটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালের বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্ক-রাশিয়া কি সরাসরি সংঘাতে জড়াচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


তুরস্ক-রাশিয়া কি সরাসরি সংঘাতে জড়াচ্ছে?

তুর্কি-রুশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ফারহাদ ইব্রাগিমভ মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য তুরস্কের প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি মস্কোর জন্য চূড়ান্ত ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের রূপ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই এক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে লাভজনক সম্পর্ক একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনে সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার বক্তব্য হলো, এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয় বরং সমগ্র ইউক্রেন সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধানের প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তুরস্ক একদিকে সংঘাতের অবসান ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক দিক থেকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী করছে; এই বৈপরীত্যকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর চোখে দেখা হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তুরস্ক কৃষ্ণসাগরে হামলা না করার জন্য ইউক্রেনকে বার্তা দেওয়ার দাবি করলেও কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম বা রুশ বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রকাশ্যে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখা যায়নি। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আজভ ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমা অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত নৌযান এবং অবকাঠামোতে রুশ হামলা অব্যাহত থাকবে।

চলতি বছরের ৬ আগস্ট মার্কিন কংগ্রেসের নথিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সামরিক মজুদ থেকে ইউক্রেনে মার্কিন তৈরি অস্ত্র পুনর্নির্যাতের দুই ধাপের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সামরিক প্যাকেজে রয়েছে ২৫৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস), ২ হাজার ৫২৪টি ক্লাস্টার বহনে সক্ষম এম২৬ রকেট এবং ৪৭ হাজারটি ২০৩ মিলিমিটারের এম৫০৯এ১ ক্লাস্টার আর্টিলারি শেল। দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০টি এম৩৯ এটিএসিএমএস ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সার্বিকভাবে এর প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২৮৩.৯ মিলিয়ন ডলার বলা হলেও আঙ্কারা ও কিয়েভের মধ্যকার চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত এখনও গোপন রয়েছে।

এই নথিগুলো এখনো সরাসরি অস্ত্র স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও এটি নিশ্চিত করে যে তুর্কি সরকার ইউক্রেনকে এই অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও তাতে সায় দিয়েছে। তুরস্ক পুরনো অস্ত্র সরিয়ে নিজেদের সামরিক আধুনিকায়নের যুক্তি দিলেও কিয়েভ এগুলো ব্যবহার করতে চায় তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে। এটি সাধারণ কোনো সাঁজোয়া যান বা ড্রোন সরবরাহ নয়; ১৬৫ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে ক্লাস্টার বোমার আঘাত হানতে সক্ষম এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং এম২৭০ সিস্টেম রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাস্তবতা হলো, রাশিয়া ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক জোট ছিল না। সিরিয়া বা লিবিয়ায় দুই দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করেছে, কিংবা ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষেত্রে উভয় দেশ একটি অলিখিত নিয়মে ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। তবে দূরপাল্লার ও বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহ সেই ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার সীমানাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একই সাথে ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইস্তাম্বুলকে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম বানানোর চেষ্টা আঙ্কারার কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে চূড়ান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তুর্কি বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক গভীরতার কারণে এই একটি চুক্তি সম্পর্ক ধ্বংস করবে না। কিন্তু এই ধারণাকে একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইব্রাগিমভ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। আঙ্কারা তার মোট চাহিদার প্রায় ৩৭ শতাংশ (২২ বিলিয়ন ঘনমিটার) প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়ার কাছ থেকে নেয়। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ লাখ রুশ পর্যটক তুরস্কে ভ্রমণ করেন, যা তুর্কি পর্যটন খাতের মূল চালিকাশক্তি। তদুপরি, ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে রাশিয়ার অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা কার্যকর হলে তুরস্কের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের জোগান দেবে।

তুরস্কের বিদ্যমান ৩০ শতাংশেরও বেশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রাশিয়া যদি জ্বালানি সরবরাহ, পর্যটন কিংবা আক্কুয়ু প্রকল্পে অর্থায়ন সংকুচিত করে, তবে তুর্কি অর্থনীতি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী এক কাঠামোগত সংকটে পড়বে। ২০১৫ সালে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর যেভাবে তুরস্কের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল, বর্তমান সুদৃঢ় অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতার যুগে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া তুরস্কের জন্য আরও অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

মস্কো আবেগের বশে কাজ না করলেও এটি নিশ্চিত যে ইউক্রেন যদি এই মার্কিন অস্ত্র তুর্কি চ্যানেলের মাধ্যমে হাতে পায়, তবে রাশিয়া আর তুরস্ককে বিশেষ অংশীদার বা গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করবে না। অস্ত্র সরবরাহে তুর্কি পরিবহন খাত বা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবহৃত হলে রাশিয়া তাকে আর নিছক 'বাণিজ্যিক অপারেশন' হিসেবে দেখবে না, বরং নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে গণ্য করবে। সবমিলিয়ে, এই প্রস্তাবিত এটিএসিএমএস চুক্তিটি কেবল একটি সাধারণ কূটনৈতিক বৈঠক দিয়ে সমাধানের বিষয় নয়; এটি সামগ্রিক তুর্কি-রুশ সম্পর্কের এক কঠিন পরীক্ষা, যেখানে রেড লাইন অতিক্রম করলে আঙ্কারাকে এক অত্যন্ত চড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%