মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
নড়াইল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র নড়াইল জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের চৌরাস্তা থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নড়াইল চৌরাস্তায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ব্যানার, ফেস্টুনসহ এই বর্ণাঢ্য র্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান অলেকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নড়াইল পৌরসভার পুকুরপাড়ে বৃক্ষ রোপণ এবং পৌর পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার ইজাজুল হাসান বাবু, অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, নগর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমান, গোবরা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান মোল্যা, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মশিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সায়াদত কবির রুবেল, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার মাহমুদুল হাসান সনি ও সদস্য সচিব মামুন গাজীসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ভয়াবহ হড়কা বানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমিউনিটি ইনেশিনিটিভ সোসাইটি (সিআইএস) এবং ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট টিম (ডিসিএইচটি)। বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়া এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার জন্য ত্রিশূলি বাজারের ১ নম্বর মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টার ফিল্ড হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে উক্ত সংগঠনগুলোর একটি দল।
নেপাল থেকে সিআইএস ও ডিসিএইচটি দলের সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় শিশু, বয়স্ক, নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। দুর্যোগের কারণে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হলে এসব রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হস্তান্তরিত সামগ্রীর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও হাইপারলিপিডেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, বন্যার পর সাধারণভাবে দেখা দেওয়া সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, বন্যার পানির কারণে সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে স্যানিটারি প্যাড, মাস্ক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্যোগের সময় দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ফিল্ড হাসপাতালগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মুখসারিতে থেকে বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে চলেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, দুর্যোগের সময়ে মানবিক সহায়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সিআইএস ও ডিসিএইচটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালের বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুর্কি-রুশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ফারহাদ ইব্রাগিমভ মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য তুরস্কের প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি মস্কোর জন্য চূড়ান্ত ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের রূপ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই এক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে লাভজনক সম্পর্ক একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত হতে পারে।
সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনে সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার বক্তব্য হলো, এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয় বরং সমগ্র ইউক্রেন সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধানের প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তুরস্ক একদিকে সংঘাতের অবসান ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক দিক থেকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী করছে; এই বৈপরীত্যকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর চোখে দেখা হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তুরস্ক কৃষ্ণসাগরে হামলা না করার জন্য ইউক্রেনকে বার্তা দেওয়ার দাবি করলেও কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম বা রুশ বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রকাশ্যে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখা যায়নি। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আজভ ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমা অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত নৌযান এবং অবকাঠামোতে রুশ হামলা অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছরের ৬ আগস্ট মার্কিন কংগ্রেসের নথিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সামরিক মজুদ থেকে ইউক্রেনে মার্কিন তৈরি অস্ত্র পুনর্নির্যাতের দুই ধাপের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সামরিক প্যাকেজে রয়েছে ২৫৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস), ২ হাজার ৫২৪টি ক্লাস্টার বহনে সক্ষম এম২৬ রকেট এবং ৪৭ হাজারটি ২০৩ মিলিমিটারের এম৫০৯এ১ ক্লাস্টার আর্টিলারি শেল। দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০টি এম৩৯ এটিএসিএমএস ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সার্বিকভাবে এর প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২৮৩.৯ মিলিয়ন ডলার বলা হলেও আঙ্কারা ও কিয়েভের মধ্যকার চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত এখনও গোপন রয়েছে।
এই নথিগুলো এখনো সরাসরি অস্ত্র স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও এটি নিশ্চিত করে যে তুর্কি সরকার ইউক্রেনকে এই অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও তাতে সায় দিয়েছে। তুরস্ক পুরনো অস্ত্র সরিয়ে নিজেদের সামরিক আধুনিকায়নের যুক্তি দিলেও কিয়েভ এগুলো ব্যবহার করতে চায় তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে। এটি সাধারণ কোনো সাঁজোয়া যান বা ড্রোন সরবরাহ নয়; ১৬৫ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে ক্লাস্টার বোমার আঘাত হানতে সক্ষম এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং এম২৭০ সিস্টেম রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বাস্তবতা হলো, রাশিয়া ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক জোট ছিল না। সিরিয়া বা লিবিয়ায় দুই দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করেছে, কিংবা ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষেত্রে উভয় দেশ একটি অলিখিত নিয়মে ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। তবে দূরপাল্লার ও বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহ সেই ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার সীমানাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একই সাথে ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইস্তাম্বুলকে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম বানানোর চেষ্টা আঙ্কারার কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে চূড়ান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তুর্কি বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক গভীরতার কারণে এই একটি চুক্তি সম্পর্ক ধ্বংস করবে না। কিন্তু এই ধারণাকে একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইব্রাগিমভ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। আঙ্কারা তার মোট চাহিদার প্রায় ৩৭ শতাংশ (২২ বিলিয়ন ঘনমিটার) প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়ার কাছ থেকে নেয়। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ লাখ রুশ পর্যটক তুরস্কে ভ্রমণ করেন, যা তুর্কি পর্যটন খাতের মূল চালিকাশক্তি। তদুপরি, ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে রাশিয়ার অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা কার্যকর হলে তুরস্কের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের জোগান দেবে।
তুরস্কের বিদ্যমান ৩০ শতাংশেরও বেশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রাশিয়া যদি জ্বালানি সরবরাহ, পর্যটন কিংবা আক্কুয়ু প্রকল্পে অর্থায়ন সংকুচিত করে, তবে তুর্কি অর্থনীতি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী এক কাঠামোগত সংকটে পড়বে। ২০১৫ সালে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর যেভাবে তুরস্কের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল, বর্তমান সুদৃঢ় অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতার যুগে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া তুরস্কের জন্য আরও অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
মস্কো আবেগের বশে কাজ না করলেও এটি নিশ্চিত যে ইউক্রেন যদি এই মার্কিন অস্ত্র তুর্কি চ্যানেলের মাধ্যমে হাতে পায়, তবে রাশিয়া আর তুরস্ককে বিশেষ অংশীদার বা গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করবে না। অস্ত্র সরবরাহে তুর্কি পরিবহন খাত বা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবহৃত হলে রাশিয়া তাকে আর নিছক 'বাণিজ্যিক অপারেশন' হিসেবে দেখবে না, বরং নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে গণ্য করবে। সবমিলিয়ে, এই প্রস্তাবিত এটিএসিএমএস চুক্তিটি কেবল একটি সাধারণ কূটনৈতিক বৈঠক দিয়ে সমাধানের বিষয় নয়; এটি সামগ্রিক তুর্কি-রুশ সম্পর্কের এক কঠিন পরীক্ষা, যেখানে রেড লাইন অতিক্রম করলে আঙ্কারাকে এক অত্যন্ত চড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম ভূমি সেবা গ্রহণের সময় নাগরিকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
তিনি বলেন, "একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।"
অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন।
জেলা প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা উচিত।
মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তার জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা।
এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।
এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।"
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৭
ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জে নদীভাঙনের কারণে উপজেলার দুই ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত বেড়িবাঁধ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে ইউনিয়নগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
ভাঙন রোধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক এবং মীরগঞ্জ বাজারের পাশে অবস্থিত বেড়িবাঁধ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীনের পথে রয়েছে। এই অবস্থায় ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বেড়িবাঁধ ও সড়কের একটি অংশ নদীর দিকে ধসে পড়েছে। যদি ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দুই ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, এলাকার কৃষকরা এই পথ ব্যবহার করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করেন।
সড়কটি ধসে পড়লে কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেবে।
তাদের দাবি, অব্যাহত নদীভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি এবং বসতভিটাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি সময়মতো বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে শুধু সড়ক ও বেড়িবাঁধ নয়, আশপাশের কৃষিজমি ও জনবসতিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকার জনপদ রক্ষা করা হবে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পাশের সড়ক ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাবুগঞ্জে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ