ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তুরস্ক-রাশিয়া কি সরাসরি সংঘাতে জড়াচ্ছে?


তুরস্ক-রাশিয়া কি সরাসরি সংঘাতে জড়াচ্ছে?

তুর্কি-রুশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ফারহাদ ইব্রাগিমভ মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য তুরস্কের প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি মস্কোর জন্য চূড়ান্ত ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের রূপ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই এক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে লাভজনক সম্পর্ক একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনে সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার বক্তব্য হলো, এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয় বরং সমগ্র ইউক্রেন সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধানের প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তুরস্ক একদিকে সংঘাতের অবসান ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক দিক থেকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী করছে; এই বৈপরীত্যকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর চোখে দেখা হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তুরস্ক কৃষ্ণসাগরে হামলা না করার জন্য ইউক্রেনকে বার্তা দেওয়ার দাবি করলেও কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম বা রুশ বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রকাশ্যে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখা যায়নি। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আজভ ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমা অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত নৌযান এবং অবকাঠামোতে রুশ হামলা অব্যাহত থাকবে।

চলতি বছরের ৬ আগস্ট মার্কিন কংগ্রেসের নথিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সামরিক মজুদ থেকে ইউক্রেনে মার্কিন তৈরি অস্ত্র পুনর্নির্যাতের দুই ধাপের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সামরিক প্যাকেজে রয়েছে ২৫৫.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস), ২ হাজার ৫২৪টি ক্লাস্টার বহনে সক্ষম এম২৬ রকেট এবং ৪৭ হাজারটি ২০৩ মিলিমিটারের এম৫০৯এ১ ক্লাস্টার আর্টিলারি শেল। দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০টি এম৩৯ এটিএসিএমএস ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সার্বিকভাবে এর প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২৮৩.৯ মিলিয়ন ডলার বলা হলেও আঙ্কারা ও কিয়েভের মধ্যকার চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত এখনও গোপন রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

এই নথিগুলো এখনো সরাসরি অস্ত্র স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও এটি নিশ্চিত করে যে তুর্কি সরকার ইউক্রেনকে এই অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও তাতে সায় দিয়েছে। তুরস্ক পুরনো অস্ত্র সরিয়ে নিজেদের সামরিক আধুনিকায়নের যুক্তি দিলেও কিয়েভ এগুলো ব্যবহার করতে চায় তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে। এটি সাধারণ কোনো সাঁজোয়া যান বা ড্রোন সরবরাহ নয়; ১৬৫ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে ক্লাস্টার বোমার আঘাত হানতে সক্ষম এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং এম২৭০ সিস্টেম রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাস্তবতা হলো, রাশিয়া ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক জোট ছিল না। সিরিয়া বা লিবিয়ায় দুই দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করেছে, কিংবা ক্রিমিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষেত্রে উভয় দেশ একটি অলিখিত নিয়মে ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। তবে দূরপাল্লার ও বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহ সেই ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার সীমানাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একই সাথে ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইস্তাম্বুলকে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম বানানোর চেষ্টা আঙ্কারার কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে চূড়ান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তুর্কি বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক গভীরতার কারণে এই একটি চুক্তি সম্পর্ক ধ্বংস করবে না। কিন্তু এই ধারণাকে একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইব্রাগিমভ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। আঙ্কারা তার মোট চাহিদার প্রায় ৩৭ শতাংশ (২২ বিলিয়ন ঘনমিটার) প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়ার কাছ থেকে নেয়। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রায় ৭০ লাখ রুশ পর্যটক তুরস্কে ভ্রমণ করেন, যা তুর্কি পর্যটন খাতের মূল চালিকাশক্তি। তদুপরি, ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে রাশিয়ার অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা কার্যকর হলে তুরস্কের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের জোগান দেবে।

তুরস্কের বিদ্যমান ৩০ শতাংশেরও বেশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রাশিয়া যদি জ্বালানি সরবরাহ, পর্যটন কিংবা আক্কুয়ু প্রকল্পে অর্থায়ন সংকুচিত করে, তবে তুর্কি অর্থনীতি ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী এক কাঠামোগত সংকটে পড়বে। ২০১৫ সালে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর যেভাবে তুরস্কের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল, বর্তমান সুদৃঢ় অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতার যুগে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া তুরস্কের জন্য আরও অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

মস্কো আবেগের বশে কাজ না করলেও এটি নিশ্চিত যে ইউক্রেন যদি এই মার্কিন অস্ত্র তুর্কি চ্যানেলের মাধ্যমে হাতে পায়, তবে রাশিয়া আর তুরস্ককে বিশেষ অংশীদার বা গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করবে না। অস্ত্র সরবরাহে তুর্কি পরিবহন খাত বা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবহৃত হলে রাশিয়া তাকে আর নিছক 'বাণিজ্যিক অপারেশন' হিসেবে দেখবে না, বরং নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে গণ্য করবে। সবমিলিয়ে, এই প্রস্তাবিত এটিএসিএমএস চুক্তিটি কেবল একটি সাধারণ কূটনৈতিক বৈঠক দিয়ে সমাধানের বিষয় নয়; এটি সামগ্রিক তুর্কি-রুশ সম্পর্কের এক কঠিন পরীক্ষা, যেখানে রেড লাইন অতিক্রম করলে আঙ্কারাকে এক অত্যন্ত চড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ডিসি ফরিদার কঠোর নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ডিসি ফরিদার কঠোর নির্দেশনা

ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম ভূমি সেবা গ্রহণের সময় নাগরিকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

তিনি বলেন, "একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।"

অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন।

জেলা প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা উচিত।

মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তার জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা।

এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।

এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।"

সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৭

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলীনের পথে বেড়িবাঁধ, বিচ্ছিন্ন হতে পারে যোগাযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


বিলীনের পথে বেড়িবাঁধ, বিচ্ছিন্ন হতে পারে যোগাযোগ

বরিশালের বাবুগঞ্জে নদীভাঙনের কারণে উপজেলার দুই ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত বেড়িবাঁধ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে ইউনিয়নগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

 

ভাঙন রোধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক এবং মীরগঞ্জ বাজারের পাশে অবস্থিত বেড়িবাঁধ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীনের পথে রয়েছে। এই অবস্থায় ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বেড়িবাঁধ ও সড়কের একটি অংশ নদীর দিকে ধসে পড়েছে। যদি ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দুই ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, এলাকার কৃষকরা এই পথ ব্যবহার করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করেন।

 

সড়কটি ধসে পড়লে কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেবে।

তাদের দাবি, অব্যাহত নদীভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি এবং বসতভিটাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি সময়মতো বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে শুধু সড়ক ও বেড়িবাঁধ নয়, আশপাশের কৃষিজমি ও জনবসতিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

 

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকার জনপদ রক্ষা করা হবে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পাশের সড়ক ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাবুগঞ্জে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

মাউশি কর্তৃক সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশনা জারি করেছে। আজ মঙ্গলবার, মাউশির পক্ষ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

এই চিঠিটি মাউশির সব অঞ্চলের পরিচালক, মাধ্যমিক শাখার উপপরিচালক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা আবশ্যক। এ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রদান করা হলো। নির্দেশিকার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধির এবং বহুমুখীকরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তখন মোদির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠক হিসেবে সোমবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর দুই নেতার মধ্যে ফোনে যোগাযোগ হলেও এটি ছিল তাঁদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, তিনি আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বৃদ্ধির এবং তা বহুমুখী করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

মোদি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো প্রচেষ্টায় ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চাবাহার বন্দরের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। ভারত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দরটিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।

বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোদি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে পেজেশকিয়ানকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আবারও ভারতের সেই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যে, সব সমস্যা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অব্যাহত প্রচেষ্টার পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন মোদি।

যদিও ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।

মোদি এদিন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধ, খনিজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র:

দ্য প্রিন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%