প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধির এবং বহুমুখীকরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তখন মোদির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠক হিসেবে সোমবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর দুই নেতার মধ্যে ফোনে যোগাযোগ হলেও এটি ছিল তাঁদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, তিনি আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বৃদ্ধির এবং তা বহুমুখী করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
মোদি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেকোনো প্রচেষ্টায় ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চাবাহার বন্দরের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। ভারত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দরটিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোদি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে পেজেশকিয়ানকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আবারও ভারতের সেই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যে, সব সমস্যা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অব্যাহত প্রচেষ্টার পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন মোদি।
যদিও ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।
মোদি এদিন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধ, খনিজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন