ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের জোটে যাওয়ার ঝুঁকি প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জবাব


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের জোটে যাওয়ার ঝুঁকি প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জবাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন সামরিক জোট গঠনের পর থেকেই এতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। তবে, বিষয়টি ঘিরে ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে এ বিষয়টিই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন ক‌বিরের কাছে তুলে ধরেন সাংবা‌দিক‌রা।  

জবাবে তিনি ব‌লে‌ন, বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন তাহলে লাভ আছে? মানে বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করি তাহলে তো সমস্যা। এটা একটা একক প‌্যাক্ট, নতুন উদ্যোগ। এটা একটা নতুন সু‌যোগ। 

আরও পড়ুন: ত্রাণমন্ত্রী: এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না

হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, বর্তমানের অস্থিতিশীল বা সংকট-বিক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনি অন্য কোনো জোট বা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন না। এটি আপনার কাজের পরিধিকে কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় উপায়ে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো পরিচালনা করতে হবে। সেই বিবেচনায়, এতে কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখব।

তি‌নি ব‌লেন, বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবিচল; আর যেখানেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকবে। বাংলাদেশ সর্বদা সেখানেই তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

সম্প্রতি জেদ্দায় সৌদি ও তুর‌স্কের মন্ত্রীর স‌ঙ্গে সাক্ষাৎ হ‌য়ে‌ছে হুমায়ুন ক‌বি‌রের। সেখানে মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে বাংলা‌দে‌শের যোগদা‌নের বিষ‌য়ে আলোচনা ও ম‌নোভাব জান‌তে চাওয়া হলে তি‌নি জানান, বাংলাদেশ নতুন এই জোটের বিষয়ে ইতিবাচক।  

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলকে দেওয়া সাহসী সংবর্ধনার ঐতিহাসিক মানপত্রের সন্ধান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা এবং সহায়তা করা মোটেও খারাপ কিছু নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়েছে; দেখা যাক পরবর্তী ধাপে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি।

হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, আন্তর্জাতিকভা‌বে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তায় আমরা সামনের সারিতে রয়েছি। আমাদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলেই আমরা অবদান রাখি। অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্বীকার করে যে, সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই বাড়তি মূল্য বা গুরুত্ব যোগ করে। 

মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে বাংলা‌দে‌শের যোগদা‌নের বিষ‌য়ে আনুষ্ঠানি আমন্ত্রণ জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে কিনা— এমন প্রশ্নে হুমায়ুন ক‌বির জবাব দেন, যখন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে আমরা অবশ্যই আপনাদের তা জানাব। বর্তমানে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সকল দ্বিপাক্ষিক অংশীদারের সঙ্গে নি‌য়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছর পর সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো ঢেমুশিয়া জলমহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


১৭ বছর পর সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো ঢেমুশিয়া জলমহাল

ঢেমুশিয়া জলমহাল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো ১৭ বছর পর।

 

ঢেমুশিয়া জলমহাল প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নিয়ে ১২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি উপকূলীয় ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত।

 

লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া ১৭ বছর ধরে চলছিল। অবশেষে জলমহালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলমহালটি আর লিজ না দেওয়ার ফলে ‘জাল যার জলা তার’ নীতির বাস্তবায়ন ঘটেছে। মৎস্যজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিন বছর অন্তর সামান্য টাকায় লিজ দেওয়া হতো ঢেমুশিয়া জলমহাল। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মৎস্যজীবী এবং দুই পাশের হাজারো পরিবারের সদস্যরা এর পানি ব্যবহার করতে পারতেন না।

এছাড়া, সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্লুইস গেটের জলকপাট খুলে দিয়ে লবণ পানি জলমহালের ভেতরে প্রবাহিত করা হতো।

 

এতে হাজারো কৃষক জলমহাল থেকে সেচের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ফলে উপজেলার সাত ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দিত।

মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর ও বদরখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল ঢেমুশিয়া জলমহাল লিজ না দেওয়ার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে এবার নতুন করে জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এখন থেকে ঢেমুশিয়া জলমহাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং জনগণ তাদের দৈনন্দিন কাজে জলমহালের পানি ব্যবহার করবে।

 

এছাড়া, স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মাছ শিকারের মাধ্যমে এর সুফল ভোগ করবেন।

ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা ছিদ্দিক আহমদ (৮৫), মৎস্যজীবী মোহাম্মদ সুমনসহ জলমহালের দুই পাশের কয়েকজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, তারা শত শত বছর ধরে ঢেমুশিয়া জলমহালের পানি ব্যবহার করে আসছেন।

তাদের মতে, জলমহালটিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো শত শত জেলে পরিবার। এর মিঠা পানি দিয়েই উপকূলীয় এলাকার ফসলি জমিতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হতো। ফলে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেন। কিন্তু গত ১৭ বছর তাদের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সামান্য টাকায় লিজ দেওয়ার মাধ্যমে।

ভুক্তভোগী লোকজনের মুখে হাসি ফুটেছে এবং তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এই জলমহাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লিজ না দেওয়ার। লিজ দিলে আমাদের বহুমুখী সমস্যা হবে, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি (সালাউদ্দিন আহমদ) নির্বাচনী প্রচারণার সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন জলমহালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো।’

কক্সবাজার জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মৎস্যজীবী প্রতিনিধি জাফর আলম বলেন, ‘ঢেমুশিয়া জলমহাল এখানকার কৃষক, স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং খেটে খাওয়াসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘এখানকার জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে নতুন করে ঢেমুশিয়া জলমহালটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।’

ইউএনও সতর্ক করে জানান, ‘শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ এই জলমহালের অংশ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি : আমির খসরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি : আমির খসরু

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রথাগতভাবে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো নিজেদের মতো করে কাজ করে আসছে। তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। বর্তমান সরকারের মূল নীতি হচ্ছে- সরকার পরিচালনা ও অর্থনীতি পরিচালনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা।

তিনি বলেন, সরকার বন্যার তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করে। তবে সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের একার পক্ষে কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও স্যানিটেশনসহ বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজগুলো সম্পন্ন করতে- সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করলে দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।

আজ রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস অডিটোরিয়ামে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সেবা প্রদানের কার্যক্রমগুলোকে সরকার একটি অংশীদারিত্বের জায়গায় নিয়ে গেছে। এটি শুধু কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার বিষয় নয়; কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে ‘ত্রাণ ও সহায়তা’ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।  সরকারি উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনেক ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর পেছনে দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব দায়ী। এ কারণে সরকারের প্রতিটি কাজে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ চালু করেছি। সেখানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন এবং আমরা যৌথভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এটিকে আমি এই অংশীদারিত্বের সাফল্য হিসেবে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পেও মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই কম। এ কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বিভিন্ন মাধ্যমে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থাটি একদিকে দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে নজরদারির ভূমিকা পালন করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরুপ কুমার চৌধুরী, এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।

১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এইচএসবিসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, বিদ্যালয় মেরামত এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮নং ওয়ার্ড. চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ফরিদপুর, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : ফরিদপুরের  চরভদ্রাসন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ রোববার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে না জানিয়ে আকস্মিকভাবে চরভদ্রাসন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিনানুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে রিনা আক্তার নামে এক পরিবার পরিকল্পনা সহকারীকে তাৎক্ষণিক সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির নির্দেশ প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের খোঁজ খবর নেন। একইসঙ্গে তিনি টিকাদান কেন্দ্রে সাপের কামড় ও জলাতঙ্কের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী চরভদ্রাসন হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্যাথলজি, নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যা সুবিধাসহ ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। শিগগিরই একজন গাইনী চিকিৎসক হাসপাতালটিতে পদায়ন করার কথাও জানান তিনি।

পরে মন্ত্রী একই জেলার সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা সেবা ও সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজ খবর নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৪ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


সন্দ্বীপে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৪ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

সন্দ্বীপে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৮৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সের কবি আবদুল হাকিম পাবলিক অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কাজী আফাজ উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী ও কোরআনে হাফেজ গাজী মো. রাগীব ফাতিন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের, সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ সুজন হাওলাদার, সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ উল্যাহ মিজান, কালাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী এবং মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক পরিষদ, সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি আবদুল হান্নান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক প্রিয় ইলিয়াছ সুমন। মগধরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কাজী দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সন্দ্বীপ শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম শিল্পী, সন্দ্বীপ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুল মাওলা, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ.কে. ফজলুল করিম বাবুল, বাউরিয়া গোলাম খালেক একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র দাস, জেবেননূর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, ন্যাশনাল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার আবিদুর রহমান মান্না এবং সন্দ্বীপ কারামতিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা আমিন রসুল মিয়াদসহ অনেকে।

কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন কাটগড় ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত জান্নাতুল বাকিয়া এবং সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আনিকা তাবাসসুম নুতা ও সাদিকা রহমান।

বক্তারা উল্লেখ করেন, "শুধু ভালো ফলাফল নয়, নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।" তারা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান যে, আগামীতেও ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৮৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন স্মারক, অভিনন্দনপত্র, বই এবং সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকা প্রদান করা হয়।

সহযোগিতায় যাঁরা

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন এসকম গ্রুপ, ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জলিল; মগধরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ফেরদাউসুল আলম; গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এ.বি.এম. ওয়াহিদুর রহমান; সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন সোহেল; সন্তোষপুরের কামরুল হাসান শিশির এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান।

শিক্ষার মানোন্নয়নে ৭ কর্মসূচি

প্রসঙ্গত, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সাল থেকে মাঠপর্যায়ে সাতটি কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা (২০১৪), চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা (২০১৫), হাতের লেখা প্রতিযোগিতা (২০১৬), মাধ্যমিক স্তরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন কর্মশালা ও সংবর্ধনা (২০১৮), কবি আবদুল হাকিম ফাউন্ডেশন স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতা (২০১৮), উচ্চমাধ্যমিক স্তরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন কর্মশালা ও সংবর্ধনা (২০২২) এবং অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান (২০২২)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%