মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১০:৫৬ এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছরের ব্যবহৃত চলাচলের একটি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাটিতে গাছের খুঁটি গেড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারসহ প্রায় ৪-৫টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ ও অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী ইজাজুল হক বাদী হয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে ব্র্যাক অফিস থেকে দক্ষিণ দিকে যাতায়াতের একটি পুরোনো কাঁচা রাস্তার ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৪-৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে আসছে। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে একই এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আসিফ মিয়া (৫৫) ওই রাস্তা মাঝে গাছের ৫টি খুঁটি পুঁতে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরাসহ এলাকাবাসী। বিশেষ করে বাদী ইজাজুল হকের ৩টি লেয়ার মুরগির ফার্মে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়াসহ মারাত্মক যাতায়াত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি পরিবার বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী ইজাজুল হকের পরিবার। দ্রুত এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এব্যাপারে ইজাজুল হকের প্রবাস ফেরত পিতা মো. জালাল উদ্দিন (৬৩) জানান, রাস্তাটি দেখেই তিনি তাঁর শ্বশুর বাড়ি এলাকা আগরপুর পূর্বপাড়ায় জায়গা ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। ৬ বছর মালোশিয়া ও দীর্ঘ ২০ বছর সৌদি আরব প্রবাসজীবন শেষ করে প্রায় ২ বছর আগে ওই জায়গায় তিনটি লেয়র মুরগীর খামার করে পরিচর্যা করে আসছেন তাঁরা। তাঁর দাবী তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও বিবাদী আসিফ মিয়ার সম্পত্তির উপর দিয়ে প্রায় ৫০ বছর আগে একটি গ্রামীণ রাস্তা তৈরী করে এলাকার মানুষ যাতায়াত করে আসছে। এত দিন এ রাস্তা নিয়ে কারো কোন অভিযোগ কিংবা সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে কোন প্রকার ঝগড়া ছাড়াই কেন বা কি কারণে দীর্ঘদিনের নির্মাণকৃত রাস্তাটির উপর প্রতিপক্ষ ৫টি গাছের খুটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে তা বুঝতে পারছিনা। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। অভিলম্বে এই রাস্তা থেকে খুটিগুলো অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মো. আসিফ মিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের জায়গায় আমি খুঁটি পুঁতেছি। এ নিয়ে সালিশ দরবারের কি আছে?
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় থেকে ভূক্তভোগী ইজাজুল হকের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর শৌচাগারে একটি হত্যামামলার হাজতি রাজুর মৃতদেহ গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঘটে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা আক্তার শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রাজু পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ গ্রামের আয়নাল হকের পুত্র।
হালিমা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজু কারাগারের শৌচাগারের দরজার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারার সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আর্থিক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে মো. আবুল কাসেম নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছেন।
অভিযুক্ত আবুল কাসেম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার ‘আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতি এবং ছয়সূতি জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর বাজারের বাসিন্দা মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন (সিআর মামলা নম্বর- ৮৮(৪)/২০২৬)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে আবুল কাসেম বাদীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। সে সময় লিখিত স্ট্যাম্পে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরবর্তীতে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বাদী মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি সমর্পণ করানোর প্ররোচনা) মামলাটি করা হলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে আর্থিক প্রতারণার মামলার পাশাপাশি আবুল কাসেমের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শোচনীয় একাডেমিক ফলাফল নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০২৪ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে শূন্য। ২০২৫ সালে ৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। এছাড়া ২০২৬ সালে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
অর্থাৎ, গত তিন বছরে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী এই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
মামলা ও কলেজের ফলাফলের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কাসেমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক বিপর্যয়কর ফলাফল এবং এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামে চুরি, ডাকাতি ও মাদক কারবারের অভিযোগে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রাস্তায় এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিয়াইম গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৮), মৃত উসমান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০), মৃত সক্কদর মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (২৬) এবং মৃত লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে পিয়াইমসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীর দাবি, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হতেন। এমনকি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে নারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে সামাজিক লোকলজ্জা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বের করে রাস্তায় স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেন।
মাধবপুর থানার ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ কুমার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী বাড়ির বিভিন্ন মালামাল পুড়িয়ে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ