মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১০:৫৭ এম
টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারার সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আর্থিক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে মো. আবুল কাসেম নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছেন।
অভিযুক্ত আবুল কাসেম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার ‘আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতি এবং ছয়সূতি জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর বাজারের বাসিন্দা মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন (সিআর মামলা নম্বর- ৮৮(৪)/২০২৬)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে আবুল কাসেম বাদীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। সে সময় লিখিত স্ট্যাম্পে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরবর্তীতে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বাদী মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি সমর্পণ করানোর প্ররোচনা) মামলাটি করা হলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে আর্থিক প্রতারণার মামলার পাশাপাশি আবুল কাসেমের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শোচনীয় একাডেমিক ফলাফল নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০২৪ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে শূন্য। ২০২৫ সালে ৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। এছাড়া ২০২৬ সালে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
অর্থাৎ, গত তিন বছরে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী এই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
মামলা ও কলেজের ফলাফলের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কাসেমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক বিপর্যয়কর ফলাফল এবং এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম গ্রামে চুরি, ডাকাতি ও মাদক কারবারের অভিযোগে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রাস্তায় এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিয়াইম গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৮), মৃত উসমান মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০), মৃত সক্কদর মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (২৬) এবং মৃত লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে পিয়াইমসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীর দাবি, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হতেন। এমনকি চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে নারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে সামাজিক লোকলজ্জা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বের করে রাস্তায় স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেন।
মাধবপুর থানার ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ কুমার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী বাড়ির বিভিন্ন মালামাল পুড়িয়ে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের মধ্যে একটি মতামত তৈরি হয়েছে যে, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদ দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আলোচনা শেষে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে।
জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে, এই পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদে আমলা, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে তাদের শপথধারী (রুকন) সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
জামায়াতের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাব এবং বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর দলটির নীতিনির্ধারকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দলের দেশে-বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর ২১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি।" তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দেশ পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এ কারণে দলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, দল পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া রুকনদের (সদস্য) মধ্যে নারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪৩ শতাংশ।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় মহিলা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সংযুক্ত হলে, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরো বহু মতের প্রতিফলন ঘটবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলার চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, "দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থানের বাইরে এসে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের যদি মতামত নেওয়া হয়, তাহলে দলটি রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।" তিনি আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই উপদেষ্টা পরিষদ আসলেই কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা অবশ্য দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন ইহুদি ভোটারদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তুলনায় অধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এমনকি, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সামগ্রিক অবস্থানের তুলনায় মামদানির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এই তথ্যটি জনমত জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিবিএওর একটি নতুন জরিপে প্রকাশিত হয়েছে।
জিবিএও জানায়, ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ৮০০ জন মার্কিন ইহুদি ভোটারের মধ্যে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপে দেখা যায়, মামদানির প্রতি ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও ইতিবাচক মনোভাবের হার ছিল ২১ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের হার জরিপে ৪৫ শতাংশ হিসেবে উঠে এসেছে। অপরদিকে, রিপাবলিকান পার্টির নেট ফেভারেবিলিটি বা সামগ্রিক ইতিবাচক-নেতিবাচক মূল্যায়নের ব্যবধান ছিল ১৯ শতাংশ।
জিবিএওর জরিপে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যার প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের হার ছিল ৬১ শতাংশ।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ