প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের মধ্যে একটি মতামত তৈরি হয়েছে যে, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদ দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আলোচনা শেষে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে।
জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে, এই পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদে আমলা, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে তাদের শপথধারী (রুকন) সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
জামায়াতের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাব এবং বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর দলটির নীতিনির্ধারকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দলের দেশে-বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর ২১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি।" তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দেশ পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এ কারণে দলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, দল পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া রুকনদের (সদস্য) মধ্যে নারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪৩ শতাংশ।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় মহিলা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সংযুক্ত হলে, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরো বহু মতের প্রতিফলন ঘটবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলার চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, "দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থানের বাইরে এসে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের যদি মতামত নেওয়া হয়, তাহলে দলটি রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।" তিনি আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই উপদেষ্টা পরিষদ আসলেই কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা অবশ্য দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন