মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাসের দীর্ঘ সামরিক অভিযান ও ২০০ দিনের বেশি সমুদ্রযাত্রা শেষে বিশ্রামের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন নগরী পাতায়ায় নোঙর ফেলছে। প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ও মেরিন সদস্যের আগমন পর্যটন শহরটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আশার সঞ্চার করেছে, তবে দেহব্যবসা ও যৌন শোষণ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন আগেই কঠোর অভিযান শুরু করেছে।
অনুযায়ী, বুধবার নিকটবর্তী লায়েম চাবাং বন্দরে দুটি সহযোগী যুদ্ধজাহাজসহ আব্রাহাম লিংকনের ভিড়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সেনাদের আগমনের প্রেক্ষিতে পাতায়ার সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে।
পাতায়া পুলিশ প্রধান আনেক শ্রাথোংইউ সোমবার বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, তবে খোলা জায়গায় প্রকাশ্যে চলা এই ব্যবসা শতভাগ ঠেকানো বেশ কঠিন।
’ থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনত অবৈধ হলেও ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এটি বেশ খোলামেলাভাবেই চলে আসছে।
গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। আধুনিক নৌ-ইতিহাসে এটি টানা সমুদ্রে অবস্থান করার অন্যতম দীর্ঘ রেকর্ড। তবে দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে জাহাজের সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
চলতি মাসে মার্কিন দুটি সামরিক বিষয়ক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটিতে সেনাসদস্যদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনামী যুদ্ধকালে মার্কিন সেনাদের অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পাতায়ায় বর্তমানে ফের মার্কিন সেনাদের আগমন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানান, ‘প্রতিজন মার্কিন সেনা দৈনিক ১ হাজার থেকে ৩ হাজার বাথ (প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার) পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে পাতায়ার স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আসবে।’
তবে অর্থনৈতিক ইতিবাচক দিক থাকলেও স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যাংকক ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পিপাতপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেন, ‘একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের আগমনে যৌন শোষণ এবং যৌনবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তদুপরি মার্কিন সেনাদের বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের খবর নতুন দুশ্চিন্তার কারণ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সময়মতো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে না পারার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার কিংবা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের দাবিতে ধর্মঘট
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য পরিচালনায় তারা বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই কারণে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন এবং লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, অন্যান্য স্থলবন্দরে তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য কার্যক্রম চললেও হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রেখেছেন তারা।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে পণ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ব্যবসায়ীরা
এদিকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যসংক্রান্ত সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সমস্যাগুলো সমাধানে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত এলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হতে পারে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল মঙ্গলবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখানে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার বালুরঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। সেখানে প্রশাসনিক বাধা দূর করা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হতে পারে। অন্যথায় আন্দোলন চলবে।’
শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা
তিন দিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতের অভ্যন্তরে এবং সীমান্ত এলাকায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এসব ট্রাকে থাকা পণ্য সময়মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারায় পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে এলসি খোলা ব্যবসায়ীরাও সময়মতো পণ্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বন্দর চালুর বিষয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। টানা তিন দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মো. ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে এলসি খুলেছেন। ভারতীয় অংশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য দেশে না পৌঁছালে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে’। তাই দ্রুত ভারতীয় অংশের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান করে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু করার দাবি জানান তিনি।
কর্মহীন হাজারো শ্রমিক
বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ না করায় পণ্য খালাসের কাজও বন্ধ রয়েছে।
হিলি বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন বলেন, প্রতিদিন কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। কিন্তু তিন দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে বাণিজ্য বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক
তবে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ। তিনি বলেন, পূর্বে আমদানি করা পণ্যের প্রয়োজনীয় কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিয়ম অনুযায়ী খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বাণিজ্য বন্ধ থাকলে শুধু আমদানিকারক-রপ্তানিকারকরাই নন, পরিবহন মালিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বন্দরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজারো মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই দ্রুত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চলমান জটিলতার সমাধান করে হিলি স্থলবন্দরে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবপাচারের জটিলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের এশিয়ান নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এবং এই সম্মাননা তাঁর গবেষণার জন্য প্রদান করা হয়।
২০২৫ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জন ডেলি হলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ২৫৪ শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন, যার মধ্যে ১৮৮ জন স্নাতক এবং ৬৬ জন স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থী প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে একমাত্র ইয়াসমিনই এই সম্মাননা অর্জন করেন। একই অনুষ্ঠানে একজন চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী আউটস্ট্যান্ডিং থিসিস অ্যাওয়ার্ডও পান।
ইয়াসমিনের থিসিসের শিরোনাম হলো ‘ইন্টারনাল কলোনিজ অব এইড অ্যান্ড মোবিলিটি: হিউম্যান ট্রাফিকিং উইদিন দ্য রোহিঙ্গা রিফিউজি-হোস্ট কমিউনিটি ল্যান্ডস্কেপ অব কক্সবাজার’। এই গবেষণায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা, বাস্তুচ্যুতি, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মানবপাচারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় বিশেষভাবে শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের চলাচলের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কিভাবে মানবপাচারের ঝুঁকি তৈরি করে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইয়াসমিন আক্তার অধরা বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। একই সঙ্গে এটি আমার জন্য বড় দায়িত্বেরও বিষয়। মানবপাচার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের একটি কঠিন বাস্তবতা।
সেই বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নিয়ে গবেষণার সুযোগ আমার জন্য অনেক অর্থবহ ছিল।’ গবেষণার বিষয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতার জটিলতাগুলো বোঝাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি সমস্যাকে বুঝতে হলে শুধু পরিসংখ্যান বা নীতিমালার দিকে তাকালেই হয় না; এর সঙ্গে জড়িত মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হয়।’
আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য, এই অর্জন মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক সংকট নিয়ে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা।
ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কিম কিয়ং-মুন শিক্ষার্থীদের দয়ালু কিন্তু সচেতন এবং যোগ্য কিন্তু অহংকারী না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি পরিচিত ও স্বস্তিকর গণ্ডির বাইরে গিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্তাবলী মেনে চললে ইরানও তা অনুসরণ করবে। তিনি এ কথা বলেন মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবার সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটার পর পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে হামলা চালায়, পরে ইরান জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পেজেশকিয়ানের বক্তব্য তুলে ধরে জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলে ইরানও সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলে, তাহলে ইরানও সঙ্গে সঙ্গে একইভাবে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।’ জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত থামানোর চেষ্টা হিসেবে চুক্তিটি গৃহীত হয়।
তবে চুক্তিটি দীর্ঘকাল কার্যকর থাকেনি। চুক্তির শর্তাবলী কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে চুক্তিটি কার্যত ভেস্তে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে সাময়িকভাবে সংঘাত কমলেও নতুন হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের হামলার পর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এর জবাব দেওয়া হবে।’ তবে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নতুন হামলার অর্থ এই নয় যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে।
ইরান পূর্বে বেশ কয়েকবার জানিয়েছে, বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরান একটি শর্ত দিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে জুনের চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবার কিরগিজস্তানে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত বন্ধ করার জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগও রাখতে চায় তেহরান। তবে একই সঙ্গে ইরান পরিষ্কার করেছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে যেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও আগের চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইট ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে ওমানের রাজধানী মাস্কটের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে প্রায় আট বছরের বিরতির পর সিলেট থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো।
ওসমানী বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওমানভিত্তিক সালাম এয়ারের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকালে (১ সেপ্টেম্বর) ৭টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে সেটিকে স্বাগত জানান। এরপর সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ওমানের রাজধানী মাস্কটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সালাম এয়ারের উড়োজাহাজ ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছালে আমরা ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে সেটিকে স্বাগত জানাই।
পরে সকাল ৯টা ২৩ মিনিটের দিকে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি মাস্কটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।’ উল্লেখ্য, কম বাজেটে মানসম্পন্ন যাত্রী সেবার জন্য ওমানের সালাম এয়ারের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বাংলাদেশি প্রবাসীরা এ রুটে যাতায়াত করতে পারবেন। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় ওমান থেকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সিলেটের যাত্রীদের আর ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না।
এছাড়া ছুটির মৌসুম, ঈদ ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ফেরার জন্য তাদের জন্য এটি সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ