প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাসের দীর্ঘ সামরিক অভিযান ও ২০০ দিনের বেশি সমুদ্রযাত্রা শেষে বিশ্রামের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন নগরী পাতায়ায় নোঙর ফেলছে। প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ও মেরিন সদস্যের আগমন পর্যটন শহরটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আশার সঞ্চার করেছে, তবে দেহব্যবসা ও যৌন শোষণ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন আগেই কঠোর অভিযান শুরু করেছে।
অনুযায়ী, বুধবার নিকটবর্তী লায়েম চাবাং বন্দরে দুটি সহযোগী যুদ্ধজাহাজসহ আব্রাহাম লিংকনের ভিড়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সেনাদের আগমনের প্রেক্ষিতে পাতায়ার সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে।
পাতায়া পুলিশ প্রধান আনেক শ্রাথোংইউ সোমবার বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, তবে খোলা জায়গায় প্রকাশ্যে চলা এই ব্যবসা শতভাগ ঠেকানো বেশ কঠিন।
’ থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনত অবৈধ হলেও ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এটি বেশ খোলামেলাভাবেই চলে আসছে।
গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। আধুনিক নৌ-ইতিহাসে এটি টানা সমুদ্রে অবস্থান করার অন্যতম দীর্ঘ রেকর্ড। তবে দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে জাহাজের সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
চলতি মাসে মার্কিন দুটি সামরিক বিষয়ক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটিতে সেনাসদস্যদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনামী যুদ্ধকালে মার্কিন সেনাদের অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পাতায়ায় বর্তমানে ফের মার্কিন সেনাদের আগমন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানান, ‘প্রতিজন মার্কিন সেনা দৈনিক ১ হাজার থেকে ৩ হাজার বাথ (প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার) পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে পাতায়ার স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আসবে।’
তবে অর্থনৈতিক ইতিবাচক দিক থাকলেও স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যাংকক ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পিপাতপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেন, ‘একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের আগমনে যৌন শোষণ এবং যৌনবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তদুপরি মার্কিন সেনাদের বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের খবর নতুন দুশ্চিন্তার কারণ।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন