০৯:২৬ পি.এম
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট।
গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
এ জন্যে চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তবে, সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব
রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনও পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে।
তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার জীবাশ্ন জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করেছে।
দেশে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে
জামায়াতের এমপি গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা অত্যাধিক বাড়ার ফলে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতিজনিত কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হয় না।
আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালো সরকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন