ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বকশীগঞ্জ সীমান্তে প-রি-ত্য-ক্ত অবস্থায় ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস উদ্ধার


বকশীগঞ্জ সীমান্তে প-রি-ত্য-ক্ত অবস্থায় ৫৬৭ পিস ভারতীয় কসমেটিকস উদ্ধার

জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ সময় চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সাতানীপাড়া ইউনিয়নের দিগলকোনা এলাকায় এ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন সাতানীপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযানটি পরিচালনা করে।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিগলকোনা এলাকায় অভিযান চালায় সাতানীপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল।অভিযানকালে সীমান্ত পিলার ১০৮৯/এমপি থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিগলকোনা গ্রামের একটি স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫৬৭ পিস ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কসমেটিকস পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসনুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।তিনি আরও জানান, জব্দকৃত কসমেটিকস পণ্যের বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় আলোচিত রবিউল হত্যা মা-ম-লা-র আ-সা-মি মারুফ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় আলোচিত রবিউল হত্যা মা-ম-লা-র আ-সা-মি মারুফ গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের বহুল আলোচিত রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচো (৫৫) হত্যা মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত রবিউল ইসলাম শেখ টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন রবিউল ইসলামের ভাতিজা। তিনি আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।
সুমন হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাঁদের কেউ রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

উল্লেখ্য, আড়াই মাসের ব্যবধানে একই বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নৌ-র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


মোংলায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নৌ-র‍্যালি ও আলোচনা সভা

বাগেরহাটের মোংলায় বিশ্ব পর্যটন দিবস নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্‌যাপিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের 'হোটেল পশুর'-এর আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, নৌ-র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

"ভ্রমণ করুন, দেশকে জানুন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অংশ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করুন"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ৯টায় হোটেল পশুর চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি পিকনিক কর্নার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এরপর মোংলা ও পশুর নদীতে একটি দৃষ্টিনন্দন নৌ-র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে হোটেল পশুর মিলনায়তনে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন হোটেল পশুরের ম্যানেজার মোঃ শাজাহান খান, নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান কবির, পর্যটন ব্যবসায়ী আ. কাদের তালুকদার, খান রুপম এবং কবি আফরোজা হিরা প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে। সঠিক ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে এ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে এবং এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বক্তারা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ৫টি তালা ভেঙে চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


শরীয়তপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ৫টি তালা ভেঙে চুরি

শরীয়তপুরের ধানুকা এলাকায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পাঁচটি তালা ভেঙে মালামাল চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে যেকোনো সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে অফিসের কার্যক্রম শেষ করে কর্মকর্তারা কার্যালয় তালাবদ্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যায় অফিস সহকারী বোরহান হাওলাদার জরুরি কাজে কার্যালয়ে এসে দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও মালামাল যাচাই করে দেখা যায়, পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র তছনছ বা চুরি হয়নি।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস বন্ধ হওয়ার পর থেকে শনিবার সন্ধ্যায় অফিস খোলার আগের যেকোনো সময় চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। দুইদিন অফিস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদ মামুন বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় আমাদের অফিস সহকারী বোরহান আমাকে ফোন করে জানান অফিসের তালা ভাঙা। পরে এসে দেখি পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। তবে কোনো নথিপত্র তছনছ করা হয়নি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ দিতে বলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসস্তূপে সুদানের রাজধানী খার্তুমে ঘরে ফিরেও বসবাসের অনুপযোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসস্তূপে সুদানের রাজধানী খার্তুমে ঘরে ফিরেও বসবাসের অনুপযোগী

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী শহরে নতুন করে জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন বসিন্দারা। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, কর্মসংস্থান ও ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে সুদানের রাজধানীর অনেক বাসিন্দাই এখন মনে করছেন, ফিরে না এলেই ভালো হতো।

২০২৩ সালে সেনাবাহিনী ও একটি আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে খার্তুম থেকে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পালিয়ে যায়। ওই সংঘাতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে, গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর আনুমানিক ২৭ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। ঘরে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাদের এখন সেখানে বসবাসের কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ইমাদ খালেদ তার পরিবারকে আবার মিসরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে কাজের জন্য তিনি খার্তুমেই থাকছেন।

৪৩ বছর বয়সী ইমাদ শহরের কেন্দ্রের কাছে এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারকে ফিরিয়ে আনা ভুল হয়েছিল।’ শহরের কেন্দ্রজুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত ভবন দেখা যায়।

খার্তুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া একাধিক সরকারি কর্মকর্তাও এএফপিকে জানিয়েছেন, তারাও তাদের পরিবারকে দেশের বাইরে রেখে যাচ্ছেন।

সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সুদানের অন্য এলাকাতেও এখনো লড়াই চলছে। এর মধ্যে রয়েছে দারফুর, কোর্দোফান ও ব্লু নাইল অঞ্চল।

খার্তুমের বাসিন্দাদের ফিরে আসতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে সেনাবাহিনী। তারা বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য খুলে দিয়েছে। অবকাঠামোরও কিছু সংস্কার করা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ ও পানি এখনো একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকে। রাজধানীজুড়ে বাজারগুলো আবার খুললেও অনেক মানুষ বেকার। তাদের কেনাকাটার সামর্থ্যও কম।

‘প্রতিদিনই দাম বাড়ছে’-

জুন নাগাদ খার্তুমের মাত্র এক শতাংশ এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। শহরের দেয়ালের ভেতর ও রাস্তার মোড়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক ফাঁদ ও অবিস্ফোরিত গোলার কারণে বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।

প্রতিবেশী মিসর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। মিসরে ১৫ লাখ সুদানি আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সেখানে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বর্ণবাদী নিপীড়ন, গ্রেফতার ও বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে।

খার্তুমের শ্রমজীবী এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরেছে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এখনো বাইরে থাকছেন।

ফলে খার্তুম ২-এর মতো অভিজাত এলাকাগুলো প্রায় পরিত্যক্ত। গাছঘেরা সড়কে হাঁটলে পায়ের নিচে কাচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়। খালি বাড়িগুলোর মাঝখানে শুধু পাখির ডাক। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অনেক বাড়ির পুরো অংশই উড়ে গেছে।

৮৬ বছর বয়সী থুরায়া বাবিকার ভেবেছিলেন, এবার তিনি স্থায়ীভাবেই ফিরেছেন। কিন্তু তিন মাস পর তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার স্বামী, ছোট মেয়ে এবং আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেতে চাই না।’ তবে চিকিৎসাসেবার অভাবে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

গত বছর মানুষ ফিরতে শুরু করলে সুদানের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে দ্রুত কাজ শুরু করে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এর কয়েকটি এখন ‘আগের চেয়েও ভালো হয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসক হাইফা ওমর বলেন, কিছু জিনিস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে বলতে হচ্ছে। কথাটা বলতে গেলেই আমার গলা ধরে আসে। আমরা জানি, মানুষের পরিস্থিতি কতটা কঠিন।’

কলেজের অধ্যাপক ইমাম বাবিকার বাবার রক্তচাপের ওষুধ খুঁজতে তাকে ১০টি ফার্মেসিতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এর দাম আলাদা।’

৩৪ বছর বয়সী ইমাম তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের ইনসুলিন রাখার জন্য একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কিন্তু প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়।’

সুয়াদ মোহামেদের মতো অন্যদের ফ্রিজও লুট হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী সুয়াদ নতুন ফ্রিজ কেনার সামর্থ্য রাখেন না।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে প্রতিদিন সবজি ও মাংস কিনতে হয়। আর প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’

‘বাস্তবতা মোটে ও ভালো নয়’-

একসময় ৮ লাখেরও বেশি মানুষের বাসস্থান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান রাজধানী খার্তুম এখন তার আগের রূপের ছায়ামাত্র।

শহরের কেন্দ্রে জাতিসংঘের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ইউক্রেনসহ তারা যে অন্য সব সংকট দেখেছেন, তার তুলনায় খার্তুমে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অনেক বেশি।

মাঝেমধ্যে আরএসএফের ড্রোন হামলা চললেও জুলাইয়ে কর্তৃপক্ষ দূরশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়ার পর খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরতে বলা হয়েছে।

খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপকেরা প্রতিবাদ হিসেবে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করছেন, তাদের জোর করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনলাইনে গবেষণাপত্রের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ আমার তত্ত্বাবধায়কও অন্য একটি দেশে আছেন এবং তিনিও ফিরতে চান না।’ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন স্নাতক শিক্ষার্থী এ বছর তার শেষ বর্ষে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এখন নতুন করে কলেজ শুরু করতে মিসরে বৃত্তির জন্য চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথা শুনতে চায়নি। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল মানুষ যেন ফিরে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি রাজনৈতিক। তারা চায় মানুষ ফিরে আসুক, যাতে দেখানো যায় সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অথচ বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%