বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৩ পি.এম
ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
লুইস বেননের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস।
বৈঠকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন ও কার্যকারিতা বাড়ানো এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান সতর্ক করেছে যে, যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল নতুন করে ইয়েমেন বা ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর ছাড়িয়ে আরও দূরের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি প্রদান করেছেন। তিনি ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা 'ফারস নিউজ'-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এই বক্তব্য দেন।
সাফাভি বলেন, "যেহেতু সংঘাত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু হয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, তাই নতুন কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে রণক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে পারে। এবার যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট ভারত মহাসাগর কিংবা তার থেকেও দূরের অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।"
তিনি আরও জানান, আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী যদি পুনরায় হামলা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতির (Worst-case scenario) জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, "ইয়েমেনি জনগণ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যেকোনো হামলাকারী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করে আসছে।" সাফাভি আরও যোগ করেন, আমেরিকানরা যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করে, তবে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের চোখ ফুটেই নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট উন্মোচিত হবে।
ফারস উপসাগর থেকে শুরু হওয়া উত্তাপ এখন ভারত মহাসাগরের দিকে মোড় নেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সাংবিধানিক পদটি প্রায় আট মাস ধরে খালি রয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল থেকে মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ২৭টি ভোট পেয়ে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খান বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে। তিনি সুধানোতি জেলার একজন সাবেক মন্ত্রী এবং একাধিকবার নির্বাচিত আইনপ্রণেতা।
অন্যদিকে, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।
আইন অনুযায়ী, বিধানসভার কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে না পারলেও, ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই বিধানসভায় পিএমএল-এন এবং তাদের মিত্রদের হাতে পর্যাপ্ত আসন থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই পদটি ফাঁকা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে তা এতদিন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে দীর্ঘ বিলম্ব করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে ভোটগ্রহণ এখনো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই আসনগুলোতে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি।
সমালোচকদের মতে, ওই এলাকার মানুষদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা একধরনের অন্যায় হলেও, আইনি জটিলতা না থাকায় আজকের নির্বাচন আংশিক বিধানসভার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মশাবাহিত রোগের কারণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ২০৮ জন। পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে ডেঙ্গুতে ৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
অর্থাৎ, মৃত্যুর সংখ্যা ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুস্তাক হুসাইন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, এডিস মশা বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে, যোগ করেন তিনি।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা কীভাবে পরিমাপ করা হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুস্তাক।
স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালানোর আহ্বান জানান তিনি। যেখানে আবর্জনা, পানি জমে থাকে এবং মশার প্রজনন বেশি হয়, সেসব এলাকাকে সেই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মুস্তাক বলেন, ‘ডেঙ্গুকে আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা উচিত না।’
ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় তিন স্তরের ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে বা কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। আর গুরুতর বা জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে।
ঢাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ব্যাংক ও অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। মুস্তাক আরও মনে করেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অতিরিক্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এতে তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীরা বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা কম রিপোর্ট হওয়া এবং বারবার সংক্রমণের ঘটনা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালের পরে অধিকাংশ বছরেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল। আগের মতো নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া বা কমার প্রবণতা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
এর একটি সম্ভাব্য কারণ, ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্যই সরকারি হিসাবে আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও এর অল্প একটি অংশ নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য জানায়। বাশার বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বা কেস ফ্যাটালিটি রেট হিসাবের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা কম রিপোর্ট করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় থাকেন। আবার মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে।
বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াও আরেকটি কারণ। পরবর্তী সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় ক্রমেই বেশি মানুষ একবার বা একাধিকবার এতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্তের বাইরে থেকে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেছেন, দেশের নৌ ও শিপিং খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের নৌ খাতে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কোনো অভাব নেই। এখন প্রয়োজন এসব প্রতিষ্ঠানকে একত্রিতভাবে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরও উন্নত করা।
আজ সকালে চট্টগ্রামের জলদিয়াস্থ বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে-২০২৬ ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএএ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অনেক দেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনীতি ও বাণিজ্য সমুদ্রপথ নির্ভর। অথচ এই বিশাল কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দক্ষ জনশক্তি তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং এই খাতে আরও বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মনোযোগ থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পিসিটি, এনসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলেও বিনিয়োগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে সেবা ও দক্ষতার মানও সমানভাবে বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারি এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবি এম শামীম।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গার্ড অব অনার, প্যারেড পরিদর্শন, বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলুন উড়ানো ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ