ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনগণের অধিকার পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: গোলাম পরওয়ার


জনগণের অধিকার পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: গোলাম পরওয়ার

জনঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের অধিকার, সমস্যা এবং প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে তাদের কথা শুনতে হবে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ত্যাগ, ধৈর্য ও অবিচলতার কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা দ্বীনের পথে অবিচল থেকে হাসিমুখে শাহাদাত বরণ করে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীলদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ঈমানি দৃঢ়তা, নৈতিক শুদ্ধতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

তিনি শনিবার সিলেট নগরীর মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে সিলেট মহানগর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নায়েবে আমির, সেক্রেটারি ও কর্মপরিষদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বুঝে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন ও জনসমর্থন বৃদ্ধিতে দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীলদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জবাবদিহিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে হবে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সবাইকে আরও আন্তরিক ও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সোসাইটির আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


ভোলায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সোসাইটির আলোচনা সভা

ভোলা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সোসাইটি (অসকস) জেলা শাখার আলোচনা সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় ভোলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভাটি সংগঠনের জেলা সভাপতি শেখ ফরিদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর। প্রধান বক্তব্য প্রদান করেন অসকস বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আহসান হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাছিন বিল্লাহ, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হেলাল উদ্দিন এবং অসকস বাংলাদেশ এর বিশেষ উপদেষ্টা মো. সেলিম আহামেদসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, "আমরা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি, কিন্তু দেশ প্রেম থেকে অব্যাহতি নেইনি। আমাদের যে প্রধান দাবিটি ছিল ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন অর্থাৎ বর্তমানে যিনি অবসর গ্রহণ করেন, তিনি পাচ্ছেন ২৫ হাজার টাকা। আর আমরা যারা ২০১৫ সালের আগে অবসর নিয়েছি, তারা পাচ্ছি ৬ হাজার টাকা।" বক্তারা নিজেদের স্ত্রীদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানান।

সংগঠনের ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন জানান, অসকস- বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠনটি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের টানে জামালপুরে ফিনল্যান্ডের যুবক, বসলেন বিয়ের পিড়িতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


প্রেমের টানে জামালপুরে ফিনল্যান্ডের যুবক, বসলেন বিয়ের পিড়িতে

ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ৩৮ বছর বয়সী মিকা পেত্তেরি সিমোলা। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর স্থানীয় চা বিক্রেতার মেয়ে শান্তিনা জাহান সিমিকে (২৮) বিয়ে করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে মিকাইল। তাদের বিয়ে গত ২ অক্টোবর উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে সম্পন্ন হয়।

জামালপুরের আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এ বিয়ের বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে মিকার সঙ্গে সিমির পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সিমির প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তিনি পাঁচ বছর বয়সী ছেলে রায়ান বাবুকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। অন্যদিকে, মিকার পূর্বে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। সিমিকে বিয়ে করার ইচ্ছা থেকে তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের জন্য মিকা ফিনল্যান্ডের ডিজিটাল অ্যান্ড পপুলেশন ডাটা সার্ভিসেস এজেন্সি থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর আইনি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি গত ২ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সিমি তাকে জামালপুরে নিয়ে যান।

জামালপুরে পৌঁছানোর পর মিকা খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তার নাম মিকাইল রাখা হয়। একই দিন ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মিকাইল সিমির পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকেও নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

সিমি জানান, তার স্বামী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। তিনি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশে এসে তাকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তারা একসঙ্গে সংসার করছেন।

নবদম্পতি জানান, আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইলের ফিনল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ভিসা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্ত্রী সিমি ও তার ছেলেকে ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিমির বাবা রফিকুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা এ বিয়েতে আনন্দিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিনদেশি বরকে ঘিরে দৌলতপুর গ্রামে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি সরকারকে স্বৈরাচার বললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, দিল্লিতে ধরপাকড়ের সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


মোদি সরকারকে স্বৈরাচার বললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, দিল্লিতে ধরপাকড়ের সমালোচনা

ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার এবং বিক্ষোভকারীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শনিবার দিল্লিতে ভোট চুরির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় ধরপাকড়ের ঘটনায় তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।

প্রিয়াঙ্কা মন্তব্য করেন, ‘ভারত এখন আর গণতন্ত্র নেই। এটি একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এবং বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন যে, ২৫৪ জন সংসদ সদস্যকে হেনস্তা করে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, দিল্লির বিভিন্ন স্থানে চলাচলে বাধা, পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের আটক করার অভিযোগও করেন তিনি।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষমতাসীনরা ভীত।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করতে যারা সহায়তা করছে, তাদেরও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। কংগ্রেস নেত্রী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোকচিত্র ইতিহাসের সাক্ষী ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার: কাদের গনি চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


আলোকচিত্র ইতিহাসের সাক্ষী ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার: কাদের গনি চৌধুরী

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, আলোকচিত্র কেবল সময়ের প্রতিফলন নয়, এটি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী এবং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি ছবি কথা না বললেও মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও মানবিকতার গভীর বার্তা প্রকাশ করতে সক্ষম। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, শোষণ এবং মানুষের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত সারাদেশের ফটোসাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফটোগ্রাফি একটি বিশাল উদ্ভাবন, যা বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে। একটি আলোকচিত্র ঘটনার পেছনের গল্প প্রকাশের পাশাপাশি মানুষের মনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। কখনও কখনও একটি ছবি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, আবার কখনও তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা প্রদান করে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। ওই ছবি শরণার্থী সংকট ও যুদ্ধের নির্মমতা তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একইভাবে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি শিশুর পেছনে শকুনের অপেক্ষারত থাকার ছবি ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরেছিল। ছবিটি তুলে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন কানাডীয় আলোকচিত্রী কেভিন কার্টার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোকচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাসন্তী ও দুর্গা নামের দুই নারীর শরীরে মাছ ধরার জাল জড়ানো ছবি, ক্ষুধার্ত মানুষের দুর্দশা এবং খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকার দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহের ছবিও সীমান্তে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ফটোসাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে ধারণ করে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল তৈরি করেছেন।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্রের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আলোকচিত্রী আমানুল হকের ধারণ করা ছবি সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের আন্তর্জাতিক অর্জনের প্রশংসা করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারে বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকরা সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁদের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউজিন স্মিথ ফান্ড, মাদার জোনস, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অল রোডস, পাইওনিয়ার ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড, এইচআইপিএ এবং টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার-সংক্রান্ত স্বীকৃতি।

দেশের আলোকচিত্রীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আলোকচিত্রী স্বাধীনতা পদক পাননি। তবে একুশে পদক পেয়েছেন মো. কামরুজ্জামান, আফতাব আহমেদ, মনজুর আলম বেগ, মোহাম্মদ আলম, আমানুল হক, গোলাম মুস্তাফা, সাইদা খানম ও পাভেল রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা পদক পেয়েছেন গোলাম মুস্তাফা, নাসির আলী মামুন, এমএ তাহের ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে ও বাবুল তালুকদারের সঞ্চালনায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুর রহমান ও বুলবুল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%